শ্যামনগরে কাবিখা’র ৫০ টন গম পাচারকালে ইউপি সদস্যসহ ৩ জন আটক


153 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে কাবিখা’র ৫০ টন গম পাচারকালে ইউপি সদস্যসহ ৩ জন আটক
মে ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥
কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সরকারি বরাদ্দের ৫০ মেট্রিক টন গম পাচারের সময় দুই সহযোগীসহ এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার রাতে কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা এলাকার মনি-মুক্তা রাইস মিল নামীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ঘর থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধ এসব গম উদ্ধার করা হয়। এসময় ঐ গমের মালিক শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ইইপ সদস্য পবিত্র মন্ডলসহ মনি-মুক্তা রাইস মিলের ম্যানেজার মুকুল হোসেন ও মালিকের ছেলে মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।

জানা যায় শ্যামনগর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে এসব গম বিভিন্ন প্রকল্প সভাপতিদের অনুকুলে বরাদ্দ দোয হয়েছিল। কিন্তু নামকাওয়াস্তে কোন রকমে দায়সারা গোছের কাজ করে সিংহভাগ গম প্রকল্প সভাপতিরা স্থানীয় সিন্ডিকেট প্রধান মোহাম্মদ আলীর নিকট বিক্রয় করে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী প্রকল্প সভাপতিদের নিকট থেকে ক্রয়কৃত যাবতীয় গম পবিত্র মন্ডলের কাছে বিক্রয় করে। এক পর্যায়ে বুধবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সুযোগে পবিত্র তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৫০ মেট্রিক টন গম ভাড়াশিমলা এলাকার মনি-মুক্তা রাইস মিলের মালিক আব্দুল গফ্ফারের কাছে বিক্রয় করে। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকষ দল ঘটনাস্থলে পৌছে সমুদয় গম উদ্ধারসহ পাশের গোদা পব্রিত মন্ডলসহ ঐ মিলেরর ম্যানেজার ও মালিকের ছেলেকে আটক করে।

অভিযোগ রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা খাদ্য অফিসের সাথে সম্পৃক্ত একটি সিন্ডিকেট পারস্পারিক যোগসাযশে উপজেলা প্রকল্প বসাস্তবায়ন অফিসের ডিও বেঁচা কেনা করে। পরবর্তীতে ঐ গ্রুপটি নিজেদের দায়িত্বে যাবতীয় মালামাল সংগ্রহ করে বাইরের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে। প্রশাসনের শীর্ষ কিছু ব্যক্তিবর্গ এসব বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কখনও ‘টু’শব্দ পর্যন্ত করেন।

এদিকে পবিত্র মন্ডল ৫০ টর গমসহ আটক হওয়ার পর অনেকে জানিয়েছে পবিত্র এবং মোহাম্মদ আলী সামনের সারির নেতা হলেও তাদের পিছনে অনেক বড় বড় রথি মহারথি রয়েছে যারা সরকারি সাধারন বরাদ্দের এসব গম ও চাল বিভিন্ন কৌশলে বাইরে বিক্রি করে। উপজেলা ফুড অফিস প্রায় দুই দশক ধরে এসব সিন্ডিকেটের দখলে বলেও অনেকের অভিযোগ।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের সভাপতিরা অনেক সময় শ্রমিকদের টাকা দিয়ে গম নিজেরা কিনে নেয়। এছাড়া শ্রমিকরা অনেক সময় গম নিতে অনাগ্রহ দেখানোর কারনে ফড়িয়ারা সেসব গম কিনে নিয়ে আড়ৎদারদের নিকট বিক্রয় করে। তবে প্রকৃত ঘটনা কি ঘটেছে তা তদন্ত না করে মন্তব্র করা ঠিক হবে না।