শ্যামনগরে কুমির আতঙ্ক : চুনকুড়ি নদীর চর থেকে ১৫ ছাগল শিকার, দু’ জেলে আহত


1200 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে কুমির আতঙ্ক : চুনকুড়ি নদীর চর থেকে ১৫ ছাগল শিকার, দু’ জেলে আহত
আগস্ট ৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সুন্দরবন সংলগ্ন চুনকুড়ি নদীতে গত কয়েকদিন ধরে ২ টি বৃহদাকারের কুমির দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চুনকুড়ি নদীর চরে শ্যামনগর লোকালয়ের গ্রামবাসীদের পোষা ছাগল ও গরু গাস খেতে আসলে তা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কয়েকশ” গৃহপালিত পশু প্রতিদিন এ চরে অবস্থান নিয়ে তাদের খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে।

এদিকে, উপকুলীয় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগন্জ ইউনিয়নের ইউপি মেম্বর ফজলুল হক জানান,গত কয়েকদিন ধরে দুটি কুমির চুনকুড়ি নদীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শনিবার বিকালে কার্তিক মন্ডলের বাড়ীর সামনের চুনকুড়ি নদীর চর থেকে হঠাৎ উত্তর কদমতলা গ্রামের শ্যামাপদ মন্ডলের ২টি, পরিমল মন্ডলের ১টি, সবুর পাড়ের ২টি ছাগল ধরে নিয়ে যায়।  এসময় চরে থাকা অন্যান্য ছাগল, গরু দিকবেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।

এর আগে দক্ষিন কমতলা সাহেলার ১টি, দেবাশিষের ২টি, কোবাতের ১টি সহ ওই এলাকা থেকে ১৫টির উর্দ্ধে ছাগল শিকার করে কুমির দুটি। তিনি আরো বলেন, নদীতে মাছ ধরার সময় কুমিরের তাড়া খেয়ে দু” জেলে ওই গ্রামের মৃত বিশে গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম( ৩৬)  ও ফিরোজ হোসেন( ৪১) গুরতর আহত হয়। তাদের কে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মুন্সিগন্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, কুমির দেখার জন্য প্রতিদিন  বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত মানুষ চুনকুড়ি নদীর পাড়ে ভীড় জমাচ্ছে। তবে কুমিরের তৎপরতায়  ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা, দক্ষিন কদমতলা, ও চুনকুড়ি গ্রামের ‘জেলে, বাওয়ালী ও সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় কদমতলা বন স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপদ মন্ডল জানান, কয়েক দিন ধরে দুটি কুমির চুনকুড়ি  নদীতে ভাসতে দেখা যায়।এছাড়া গ্রাম বাসীরদের কয়েকটি ছাগল ও কুমিরে নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, কুমির দুটির কোন ক্ষতি যাতে না হয় সে লক্ষে ওই নদীতে টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা রেন্জের পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ শোয়েব খান বলেছেন, আমার স্টেশনের বন কর্মচারীদের মাধ্যমে কুমিরের কথা শুনেছি। কুমির সংরক্ষনের লক্ষে ওই নদীতে টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।