শ্যামনগরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান ও গম ক্রয়ের টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ


1076 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে  খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান ও গম ক্রয়ের টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ
জুলাই ২৮, ২০১৬ কৃষি ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান গম ক্রয়ের টাকা রাতারাতি হজম করেছেন উপজেলার নকিপুর গোডাউন কর্মকর্তা সমির কুমার রায়। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তাদের নার্য্য অধিকার আদায়ের লক্ষে আন্দোলনে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকার কৃষকদের ব্যাপক ভাবে কৃষিতে  উৎসাহিত করার লক্ষে ধান ও গম ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে লক্ষে ২০১৫- ১৬ অর্থ বছরে সুন্দরবন উপকুলীয় শ্যামনগরের জন্য ৪০৩ টন ধান ও ১০ টন গম কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ার পাশাপাশি  সরকারী ভাবে বরাদ্ধ পাঠানো হয়। সরকারী নিতীমালা অনুযায়ী তৃনমুল মাঠ পর্য্যায়ের ক্ষুদ্র কৃষকদের নিকট থেকে ধান কেজি প্রতি ২৩ টাকা ও গম কেজি প্রতি ২৮ টাকা দরে ক্রয় করতে হবে মর্মে চিঠি আসে মন্ত্রনালায় থেকে। এ দিকে এসকল সরকারী নিতীমালা উপেক্ষা করে গোডাউন কর্মকর্তা সমির কুমার রায় ১০ টন গম ও  ৪০৩ টন ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় গোডাউন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের নাম খাতা কলমে দেখিয়ে ধান গম ক্রয়ের কার্য্যক্রম শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। এ ধান গম ক্রয়ের শেষ তারিখ  ছিল ৩১ আগষ্ট কিন্ত ১০ টন গম ও ৩২৮ টন ধান ক্রয় দেখানোর  পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলার সোয়ালিয়া গ্রামের গফুর গাজী ও বাদঘাটা গ্রামের সোহরাব হোসেন, এ দু” কৃষক বলেন, আমরা বার বার ধান বিক্রয়ে জন্য গোডাউনে গিয়েছি কিন্ত আমাদের কাছ থেকে ধান ও গম ক্রয় না করে গোডাউন কর্তৃপক্ষ বাহিরে থেকে ধান গম এনেছে। আমাদের মত এ উপজেলার শতশত কৃষক ধান গম বিক্রয় করার জন্য গোডাউনে ধর্না দিলে ও কারোর কাছ থেকে তা ক্রয় করা হয়নি। তারা বলেন এমপি সাহেব ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসলে কৃষকরা তার সাথে দেখা করে আন্দোলে যাবেন। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ- সহকারী মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৮০/৯০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া শতকরা ৭৫/৮০ ভাগ মানুষ কৃষি বা ধান চাষের সাথে সম্পৃক্ত আছে। এ এলাকার হাজার হাজার কৃষক ব্যাপক ভাবে উৎসাহিত হতো যদি তাদের কাছ থেকে সরকার  নার্য্য মুল্যে ধান গম ক্রয় করতো।

এদিকে,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন মিয়া বলেন, সরকার মাঠ পর্য্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে ধান গম ক্রয় করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি  একটি মহতি উদ্যোগ। ধান ও গম ক্রয় করার আগে কৃষি অফিস থেকে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা নিয়ে ধান গম ক্রয় করার কথা থাকলেও আমাদের অফিস থেকে কোন তালিকা গ্রহন করা হয়নি। ধান গম ক্রয়ের জন্য একটি তালিকা করা হলেও সে তালিকা খাদ্য অফিস নেয়নি। গোডাউন কর্মকর্তা সমির কুমার রায় বলেন, আমার অফিসে ধান ও গম ক্রয়ের  সকল কাগজ পত্র আছে, আপনারা দেখে যান।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল আলম বলেন, কাগজপত্র অনুযায়ী ধান গম ক্রয়ের ফাইলে সই স্বাক্ষর করা হয়েছে। ফাইলে যাদের নাম আছে তারা সবাই এই এলাকার কৃষক। আমরা জানা তেমন কোন অনিয়ম হয়নি।

এদিকে,ধান গম ক্রয় কমিটির সভাপতি ও শ্যামনগর উপজেলার সৃজনশীল ইউএনও আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, কৃষি অফিস থেকে তালিকা নিয়েই মাঠ পর্য্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকেই ধান ও গম ক্রয় করতে হবে, সরকারের উদ্দেশ্য হলো ভুর্তকির এ টাকা যেন সরাসরি ক্ষুদ্র কৃষকদের হাতে যেয়ে পৌছায়, তারা যেন কোন মতে ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ঞিত না হয় , এভাবেইতো ধান ওগম ক্রয়ের কথা ছিল, তবে কোন অনিয়ম ঘটেছে কিনা অবশ্যই দেখা হবে। দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন আর একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো সরকারী করায় ইতিমধ্যে সাধারন মানুষের আস্তা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন, সাতক্ষীরা- ৪ আসনের এম পি এস এম জগলুল হায়দার । তিনি বলেন, আমার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কোন কাজ করতে দেয়া হবেনা। তিনি বলেন, সরকারের দেয়া কৃষকের টাকা যদি কেউ আত্বসাৎ করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।