শ্যামনগরে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় মানববন্ধন


179 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় মানববন্ধন
জুন ১৫, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ি কর্তৃক এক গৃহবধূকে মারপিট ও অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনা সুত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের মোঃ রহমত মীরের পুত্র মোঃ কায়ুম হোসেন (২৫) ও যশোর ঝিকরগাছা গ্রামের মোঃ ইব্রাহীম খলিল খোকনের কন্যা মিস খাদিজা পারভীন(২০) এর সাথে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানও জন্ম নেয়।

কিন্তু সন্তানের জন্মের পর থেকে স্বামী কাইয়ুম ও শাশুড়ি নুরুন্নাহার খাদিজাকে যৌতুকের টাকা দাবি করতে থাকে। খাদিজার পিতা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় প্রায় সময় খাদিজার উপর চলতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ ই জুন সকালে খাদিজার স্বামী কায়ুম ও শাশুড়ি নুরন্নাহার খাদিজাকে গার্মেন্টস খাটিয়ে টাকা আয়ের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললে খাদিজা যেতে অস্বীকার করায় তার স্বামী ও শাশুড়ি বাড়ির মেইন গেট আটকিয়ে দিয়ে খাদিজাকে বেধড় মারপিট শুরু করে।

খাদিজার আত্মচিৎকারে গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসলে খাদিজার শাশুড়ি নুরুন্নাহার বিবি গ্রামবাসীদের তার বাড়ি লুট করে নিয়ে যাওয়ার মামলার হুমকি দিতে থাকে এমন হুমকি শুনে গ্রামবাসীরা ভীতু হয়ে চলে যায়। এবং দূর থেকে খাদিজার আত্ম চিৎকার শুনতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অচেতন অবস্থায় খাদিজাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী রফিকুলের মৎস ঘেরে ফেলে দিয়ে স্বামী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

খাদিজাকে অচেতন অবস্থায় মৎস ঘেরে ফেলে দিতে দেখায় স্থানীয় লোকজন সকলে একত্রিত হয়ে চিৎকার দিয়ে আহত গৃহবধূ খাদিজাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী আলহাজ্ব করিম তরফদারের বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কে এম মোহাম্মাদ আলির কাছে হেফাজত রাখেন। ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কে এম মোহাম্মাদ আলি তার পিতা কে সংবাদ পাঠান।

খাদিজার পিতা এসে তার মেয়ের শরীলের অবস্থার অবনতি দেখে গ্রামবাসিদের সহযোগিতায় তাকে শ্যামনগর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের স্বীকার হতে হয় বলে সাংবাদিকদের জানান।

এদিকে খাদিজার নির্যাতনের ঘটনাটি তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকার সাধারন মানুষেরা বিভিন্ন জায়গায় খাদিজার নির্যাতনের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে এবং খাদিজার স্বামী ও শাশুড়ীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে উদ্ধর্তন কতৃৃপক্ষের কাছে জোর আবেদন জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্যামনগর থানায় একটি নারীশিশু নির্যাতন মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভিকটিমের স্বজন সুত্রে জানা গেছে।