শ্যামনগরে জোয়ার ভাটার সাথে বসবাস করছে হাজারো মানুষ


196 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে জোয়ার ভাটার সাথে বসবাস করছে হাজারো মানুষ
মে ২৩, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

মেলা ছবি তুলেছে, ভিডিও করেছে। তবুও পানি ঢোকা বন্ধ হচ্ছে না। এমন কিছু করো যেন সরকার ভেঙে যাওয়া বাঁধ বেঁধে আমাগো বাড়িতে থাকার সুযোগটা করে দেয়। করুন সুরে কথাগুলো শেষ করে দু’হাতে চোখ মুছে নেয় সত্তোরোর্ধ্ব বয়সী মোসলেম সানা। ভাঙনের পরপরই জোয়ারের পানি ঢুকে তার খামার ডুবিয়ে দেয়ায় দুই হাজার মুরগী মরেছে-উল্লেখ করে দাতিনাখালীর এ বৃদ্ধ জানায়, শোবার ঘরের দেয়া ধসে যাওয়ায় দু’দিন ধরে রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে গোটা পরিবারকে।
একই গ্রামের মরিয়ম খাতুনের অভিযোগ ‘আম্ফান’র আঘাতে পার্শবর্তী বাঁধে ভেঙে যাওয়া তিনটি স্থান শুক্রবার পর্যন্ত মেরামত হয়নি। ফলে বুধবার রাত থেকে তারা জোয়ার ভাটার সাথে বসবাস করছে। জেয়ারের সময় রাস্তায় চলে আসার পর ভাটায় আবারও ঘরে ফিরে যাওয়ার তথ্য দিয়ে এ গৃহবধু জানায় বসত ঘর পানিতে ডুবে থাকায় তারা রান্না করারও সুযোগ পাচ্ছে না।
তবে এমন দুঃসহ আর করুন অবস্থা শুধুমাত্র মোসলেম সানা আর মরিয়ম খাতুনের না। বরং আম্ফান এর আঘাতে পাশের উপকূল রক্ষা বাঁধ নদীতে বিলীন হওয়ায় গোটা দাতিনাখালী ও পাশর্^বর্তী বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের হাজারও পরিবারের।
সুন্দরবনে যেয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত জহুরা বেগম বলেন, আম্ফান এর পর বাড়িতে ফিরলেও ঘরের মধ্যে পানি তাই শোবার খাটের উপর বসে জোয়ারের সময় পার করতে হচ্ছে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি সরকারের তরফ থেকে পাওয়া চিড়া গুড় খেয়ে দু’দিন রয়েছে জানিয়ে বলেন টিউবওয়েল ডুবে থাকায় খাবার পানির জন্য সবার মত তারাও মারাত্বক কষ্ট পাচ্ছে।
ষাটোর্ধ্ব বয়সী আব্দুল জলিল, সফিকুল ইসলাম আর মিন্টু হোসেনসহ জানায় বুধবার রাত আটটার দিকে বাঁধ ভেঙে পাশের নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে আরও অনেকের মত তারাও পাশের সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়ে জীবনে বেঁচে যান। তবে বাড়ির সকল গবাদী পশু আর হাঁস মুরগী পানিতে ডুবে মারা যায় বলে জানায় তারা। জোয়ার ভাটার কারনে প্রতি মুহুর্তে স্থানীয়দের ঘরের কাঁচা দেয়া ধসে পড়ছে বলে জানায় এসব পানিবন্দী মানুষ।
জোয়ার ভাটার মধ্যে বসবাসের কষ্টকর অভিজ্ঞতার বর্ননা দিয়ে দাতিনাখালী ও বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থরা জানায় বাঁধ না বাঁধার কারনে প্রতি জোয়ার ও ভাটায় ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবারের জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে বুড়িগোয়ালীনির শরীফা বেগম হযরত আলী ও আবুজারসহ অনেকে বলেন, শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় বাঁধ না বাঁধা পর্যন্ত তারা বসত ঘরে ফিরতে পারবে না। এদিকে নিকটস্থ একমাত্র সাইক্লোন শেল্টারে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকে রাস্তায় শুয়ে বসে কাটাচ্ছে। দাতিনাখালীর ভাঙন কবলিত অংশে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ জানায় বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় চিংড়ি ঘের আর কাঁকড়া প্রজেক্টসহ মিষ্টি পানির উৎস তলিয়ে গেছে। এখন বেঁচে থাকা বাড়িঘর যদি পানিতে ধসে যায় তবে সাহায্য পেয়েও ঘুরে দাড়ানোর অবস্থা থাকবে না। যেকোন মুল্যে অতিসত্ত্বর তারা ভাঙন কবলিত দাতিনাখালীর বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, বুধবার থেকে দাতিনখালী ও বুড়িগোয়ালীনিসহ দুর্গাবাটির হাজারও পরিবার জোয়ার ভাটার মধ্যে বসবাস করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া শুকনা এবং রান্না করা খাবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন ইতিমধ্যে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে একটি ভাঙন আটকে দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাকি দুটি ভাঙন জরুরী ভিত্তিতে আটকাতে বলা হয়েছে।

#