শ্যামনগরে দুই বছরে বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি দরিদ্র ভ্যান চালক


43 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে দুই বছরে বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি দরিদ্র ভ্যান চালক
মার্চ ২০, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

দরিদ্র ভ্যান চালক মিজানুর রহমান নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর এরিয়া পরিচালক মোঃ কুদরত-ই খুদা কচির শরানাপন্ন হন। পরিবারের খাবার পানি পরিবহনের কাজে নিযুক্ত ভ্যান চালকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌছাতে ‘তিনটি বিদ্যুৎ এর খুটি প্রয়োজন হবে’ জানিয়ে বিশ হাজার টাকা দাবি করেন কুদরত-ই খুদা।
তবে মিজানুর রহমান দুই প্রতিবেশী রমেশ ও মোসলেমকে নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এরিয়া পরিচালকের কাছে আবেদন নিবেদন জানিয়ে পনের হাজার টাকার চুক্তিতে আবদ্ধ হন। তিনটি খুটি ও তিনটি মিটারের জন্য চুক্তি মোতাবেক প্রথম কিস্তির নয় হাজার টাকাও তারা পরিশোধ করেন কুদরত-ই খুদার চাহিদা মত।
তবে সেই ঘটনার পর দুই বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন, কোন খুটি লাগেনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী। বরং শুরুতে নানা টালবাহানার পর গত কযেক মাস ধরে দরিদ্র ভ্যান চালকসহ তার দুই প্রতিবেশীর নিকট থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ এর ঐ এরিয়া পরিচালক। আর প্রতারনার এঘটনার প্রতিকারের দাবি জানিয়ে হয়রানীর শিকার ভ্যান চালক মিজানুর রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
ঘটনাটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার। প্রতারনা শিকার ভুক্তোভোগী মিজানুর রহমান গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারী মোড়লের ছেলে। বাদঘাটা গ্রামে বসবাসরত অভিযুক্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এরিয়া পরিচালক কুদরত-ই খুদা মৃত করিম গাজীর ছেলে।
প্রতারনার শিকার মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন কুদরত-ই খুদার বাড়িতে খাবার পানি সরবরাহের সুযোগে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ চাইলে তিনজনের জন্য দাবিকৃত পনের হাজার টাকার মধ্যে নয় হাজার শুরুতেই পরিশোধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি মাননীয় সংসদ সদস্য ও শ্যামনগর থানায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমান ক্রন্দনরত অবস্থায় দাবি করেন গরীব ভ্যান চালক হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে এক মুদি দোকানী থেকে সুদে টাকা নিয়ে দিয়েছিলেন কুদরত-ই খুদাকে। দুই বছরেও সে টাকা পরিশোধ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবছর হালখাতা করার পরও তিনম টাকা বাকি রয়ে গেছে। তার দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে বিনা খরচে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিচ্ছে সেখানে তার নিকট থেকে ঘুষ নিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার ঘটনার তদন্ত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হোক প্রতারককে।
তবে এবিষয়ে নিজ প্রতিক্রিয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এরিয়া ৪ এর পরিচালক কুদরত-ই খুদা বলেন, মাত্র ৪৫০ টাকায় বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। আজকাল মানুষ এত বোকা নেই যে কেউ টাকা চাইলেই দিয়ে দিবে। শুরুতে মিজানুর রহমানকে ‘চেনেন না’ বলে জানালেও পরবর্তীতে তিনি বলেন, আমি বার বার নির্বাচিত হওয়ায় আমার প্রতিপক্ষ এই বদমায়েসকে দিয়ে এসব করাচ্ছে’।

#