শ্যামনগরে দু‘শ কিলোমিটার বাধের ৫০ স্থানে ভয়াবহ ফাটল, ৮০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা


542 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে দু‘শ কিলোমিটার বাধের ৫০ স্থানে ভয়াবহ ফাটল, ৮০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা
জুলাই ২, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

 

 

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর : বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই প্রবল জোয়ায়ের তোড়ে সাতক্ষীরার উপকুলীয় সুন্দরবন সংলগ্ন ও সীমান্তবর্তী শ্যামনগরের আইলা দুর্গত পাউবোর ২০০ কিলোমিটার বেড়ীবাধের কমপক্ষে ৫০ জায়গায় ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে । যে কোনো  সময়ে বেড়ীবাধ ভেঙে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের ৮০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।
শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ও পদ্মাপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদুল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, পাউবোর প্রায় ২”শ কিলোমিটার বেড়ীবাধের  ৫,১২,১৫ও ৭/১ নং পোল্ডারে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সীমান্তবর্তী নদী কালিন্দা , সুন্দরবন সংলগ্ন মাদার,চুনার,মাথাভাঙ্গা,আড়পাঙ্গাসিয়া,খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদেও জোয়ারের তোড়ে ওই সকল নদীর বেড়ীবাধের কমপক্ষে ৫০ স্থানে ভয়াবহ ফাটল ধরেছে ।উপজেলার নৈকাটী,পুরাখালী,নিদয়া,পরানপুর,কৈখালী,জয়াখালী,টেংরাখালী,গোলাখালী,চুনকুড়ি,সিংহড়তলী,কলবাড়ী,দাতিনাখালী,বুড়িগোয়লিনী,চাদনীমুখা, আবাদচন্ডিপুর ,ঝাপা, গড়কুমারপুর ,পাতাখালী ,বন্যাতলা ,পশ্চিম পাতাখালী,বিড়ালক্ষী,নওয়াবেকী,ঘোলা এলাকাগুলোর অবস্থা আশংকাজনক ।যে সময় ওই বেড়ীবাধের ওই সব জায়গা গুলোর ফাটল তীব্রতর আকার ধারন করে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হতে পাওে । ইতিমধ্যে উপজেলার নৈকাটী, সোরা , কৈখালী সহ কয়েকটি স্থানে ব্লাকের কাজ শুরু হয়েছে ।আইলার সময় গাবুরা ও পার্শ্ববর্তী পদ্মাপুকুর ইউনিয়ন দুটির বেড়ীবাধ ভেঙ্গে  তলিয়ে যায় । ওই এলাকার সার্বিক ক্ষতি সহ অর্ধশতাধিক মানুষ ভয়াবহ ওই দুর্যোগে প্রান হারান । তিনি আরও বলেন, গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন দুটির চারি দিকে নদী দ্বারা বেষ্ঠিত । যার কারনে চার পাশ নদী দ্বারা আটকানো ।যে কোন সময় বেড়ীবাধের যে- কোন অংশ ভেঙ্গে গেলে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে । কপোতক্ষে নদীড়তে জাল টানা অবস্থায় হাছিনা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমাগো ১০কাঠার একটি ভিটাবাড়ীর উপর কাচা ঘরবাড়ী ছিল কিন্তু সর্বনাসা আইলা তা কেড়ে লইছে । তহনতে অহনও পর্যন্ত বেড়ীবাদেও উপর টোং ঘর বেধে বাস করছি । তবে আগত বর্ষা মৌসুম আসায় আমাগো দুর্ভোগ বাড়বে ।বেড়ীবাধ ভাঙন ও প্লাবনের কথা জানতে চাইলে হাছিনা কেদে উঠেন । গবেষনা মুলক প্রতিষ্টানের শাহীন ইসলাম জানান, আইলার পর জরিপে দেখা গেছে, ওই সময় ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস এবং যএতএ বেড়ীবাধ ভেেেঙ্গ মুহুতের মধ্যে সবর্এ  পানি ঢুকে এক নিমিষে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার কারন ছিল । ইচ্ছামত পাউবোর বেড়ীবাধ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে পানি উত্তোলন করার কারনে বেড়ীবাধ  দর্বল হয়ে পড়াএবং প্রবল জোয়ারের তোড়ে  বেড়ীবাধের অধিকাংশ জায়গা ভেঙ্গে যায় ।শ্যামনগর উপজেলার সহকারী পাউবো কর্মকর্তা বিশ্বজিৎকুমার মন্ডল ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও নদীতে প্রবল জোয়ার থাকায় বেড়ীবাধের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে ।এছাড়া পাউবোর বেড়ীবাধ ছিদ্র করে অবৈধ ভাবে পানি উত্তোলন ৫ শতাধিক ব্যাক্তির শ্যামনগর থানায় মামলা করা হয়েছে ।