শ্যামনগরে বাচ্চা ধরা আতংকের মাঝে এক মায়ের ভিন্ন অভিযোগ


371 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে বাচ্চা ধরা আতংকের মাঝে এক মায়ের ভিন্ন অভিযোগ
মে ১৩, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলাবাসীর মনে একটা ভীতির কাজ করছে। সেটা হলো রোহিঙ্গা নামক ছেলে ধরা বা গলা কাটা। কিন্তু জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গা বা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ধরা পড়লেও বাচ্চা ধরা সহ কেউ এখন পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়েনি।

এদিকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পানখালি-চুনা গ্রামে রবিবার (১২ ই মে) রাত্র ৯ ঘটিকায় মো. শাহীনুর রহমান ও মোছা. রুবিনা খাতুন এর একমাত্র ছেলে ০২ (দুই) বছর বয়সী আব্দুর রশিদ কে নিজ ঘরের জানালার শলা ভেঙ্গে টেনে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার রাতেই ঘটনাটি চাউর হয়ে যায় সমস্ত ইউনিয়ন ব্যাপি। সোমবার সকালে আরও দু পাঁচটি ইউনিয়ন সহ সমগ্র উপজেলা ব্যাপি ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (১৩ ই মে) সকাল ১০ টায় উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান (২) ডালিম কুমার ঘরামী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি পরিদর্শন করে ভীতসন্ত্রস্ত আব্দুর রশিদকে কোলে তুলে পরম মমতা দিয়ে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

শিশুটির মা রুবিনা খাতুনের ভাষ্যমতে, রাত্রে তারাবির নামাজ শেষে রাতের খাবার খেয়ে প্রতিদিনকার ন্যায় তার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা বাইরে মাটির কাজ করার সুবাদে বাড়িতে থাকেন না। ঘরের ভিতর সিলিং ফ্যান চলতে থাকায় তিনি জানালার শলা ভাঙ্গার শব্দ বুঝতে না পারলেও তার কোল থেকে বাচ্চা চলে যাচ্ছে এটি সে টের পায়। সে চেয়ে দেখে তার বাচ্চাটিতে জানালার বাইরে থেকে পা ধরে টানছে। এতক্ষণে তার কোমর পর্যন্ত বাইরে নিয়ে গেছে। তারপর সে হাঁকাহাঁকি ও চিৎকার চেঁচামেচি করলে পাশের কয়েকটি পরিবারের মানুষ ছুটে আসে। ততক্ষণে সেই লোকটি চলে যায়।

পাশের বাড়ির সাত্তার আলী গাজী বলেন, আমি দৌঁড়ে বের হয়ে লোকটাকে ধরতে না পারলেও তার কিছুটা বর্ণনা দিতে পারবো৷ তার মাথায় জটা চুল, গায়ে পাঞ্জাবি পরিহিত ও মুখে দাঁড়ি ছিলো। মনে হলো লোকটকাে ক’দিন ধরে আমাদের এলাকায় পাগল বেশে ঘুরতে দেখেছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্যা মোছা. খাদিজা বিবি ও আমিরন বিবি একবাক্যে বলেন, রোহিঙ্গা হোক আর বাচ্চা ধরা হোক, তারে তো আমরা চোখে দেখিনি। তবে গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখে বিশ্বাস না করলেও আজ আমাদেন বিশ্বাস করতে হচ্ছে সত্যিই ছেলে ধরা ঢুকেছে আমাদের গ্রামে। আমরা পুলিশের কাছে দাবি জানাই বাচ্চা ধরাগুলোকে পাগল বলে আপনারা ছেড়ে দিবেন না। তারা এক এলাকায় অঘটনা না ঘটালেও অন্য এলাকায় ঠিকই ঘটাবে।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান (২) ডালিম কুমার ঘরামী সাংবাদিকদের বলেন, এখানকার বিট ইনচার্জ এর সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে। তিনি রাতে ঘটনাস্থলে আসেন। যদি ধরা যেতো অবশ্যই পুলিশ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতো। কিছু জায়গা থেকে এরকম সন্দেহজনক লোকদের কে পুলিশ ধরলেও পাগল বলে আখ্যায়িত করে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। যদি এরা সবাই পাগল হয় তবে কেন হঠাৎ রাতের বেলা এতো পাগলের আনাগোনা। হোক তারা রোহিঙ্গা কিংবা পাগল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্রামের সমস্ত মানুষ ও পরিবারের মাঝে ভীতির কাজ করছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যেখানেই অপরিচিত মানুষদের আনাগোনা দেখা যাবে সাথে সাথেই তাদেরকে উপযুক্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে সঠিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা। যাতে করে এলাকাবাসীকে আর ভয়ের মধ্যে না কাটাতে হয়।