শ্যামনগরে যমুনা নদী পুন:খনন ও ব্রীজ নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


455 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে যমুনা নদী পুন:খনন ও ব্রীজ নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
অক্টোবর ১২, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
আদিকাল থেকে যমুনা নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল এ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য, জীবন জীবিকা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি। যুগ যুগ ধরে যমুনা নদী সংযোগ এলাকায় কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি, কবিরাজ, মৌয়াল, বাওয়ালসহ বাঙ্গালী ও আদিবাসী গ্রামীণ জনগন এক স্থানিক প্রতিবেশ নির্ভর জ্ঞান চর্চার মধ্য দিয়ে রক্ষা করে চলেছিল শস্য ফসলের জাত, কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য ভান্ডার, গৃহস্থলী উপকরণসহ নানান গ্রামীণ পথ ও প্রযুক্তি। কিন্তু কালক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন, ষাটের দশকের উপকূলীয় বাঁধ তৈরী, নদী দখল ও দূষণ, নদী সংযোগ খালগুলো ভরাট, অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত চিংড়ী চাষের কারনে ঐতিহাসিক যমুনা নদী ও নদী নির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা বর্তমানে ভয়াবহভাবে বিপন্ন।

গবেষণা সংগঠন বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর হিসাব মতে, যমুনা নদী সংযোগ বিলের সংখ্যা ৪৪টি। পূর্বে এ সমস্ত বিলগুলোতে স্থানীয় প্রজাতির ধান, পাট, গম, সরিষা, সবজি ও মসলাসহ বৈচিত্র্যময় ফসলের চাষাবাদ হতো। কৃষির সমস্ত উপকরনের উপর কৃষকের নিয়ন্ত্রন ছিল এবং কৃষক ছিল আতœনির্ভরশীল। যমুনা নদী সংযোগ ৪০টি জলাশয় ছিল স্থানীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম। এছাড়া, জলাশয়গুলো ছিল কচ্ছপ, কাঁকড়া, সাপ, ব্যঙ, কুচে, শামুক, ঝিনুক ও বনজ শাকে সমৃদ্ধ বাস্তুসংস্থান। নদী সংযোগ বিলে স্থানীয় জাতের ধান চাষ, জমিতে প্রচুর ঘাস, জলাশয়ের মিষ্টি পানি ও বিস্তৃর্ণ চারণভূমি থাকাতে বিভিন্ন ধরনের গবাদিপশু পালন ছিল প্রতিটি কৃষক পরিবারের নিদর্শন। যমুনা সংযোগ বিল ও জলাশয়ে ৩৩ প্রকার ধান, ১৮ প্রকার মাছ, ৮ প্রকার গবাদিপশু, ২০ প্রকার পাখি, ১৮ প্রকার ফলজ ও বনজ গাছ এবং অসংখ্য বনজ খাদ্যের উৎস ছিল। কিন্তু যমুনা নদী সংযোগ সেই সমৃদ্ধ ও কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর টেকসই জীবন জীবিকা এখন শুধুই স্মৃতি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিপন্ন যমুনা নদী পুন:খননের দাবীতে মানববন্ধন করলেন সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিম। সোমবার  সকাল ১০ টার সময় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিম, উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কেন্দ্রে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে যমুনা নদী পুনঃখনন ও ব্রীজ নির্মানের দাবীতে মানব বন্ধন করলেন।

এসময় বক্তারা বলেন, “অতিদ্রুত বিপন্ন যমুনা নদী পূন:খনন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী সংযোগ খালসমূহ পূন:খনন ও লবন পানি মুক্ত, পরিকল্পিত উপায়ে যমুনার দুই তীরে বনায়ন, স্থানীয় মাছের অভয়াশ্রমসহ অতীতের কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও পুন;গঠনের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে যমুনা পূন:খনন ও নদীর উপর ব্রীজ নির্মান করে জলাবদ্ধমুক্ত শ্যামনগর গঠন এবং প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও বিনোদনে যমুনার নতুন যৌবন সৃষ্টির বিনীত দাবি জানাচ্ছি।”

মানববন্ধন কর্মসূচীতে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা জনাব গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পী, সাংবাদিক শেখ আফজালুর রহমান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এস কে সিরাজ, সাংবাদিক জি এম মনসুর আলম, সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফ, ইউপি সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিমের উপদেষ্টা বিপ্রকাশ মন্ডল, সভাপতি মারুফ হোসেন মিলন, সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান ও বারসিক কর্মকর্তা মননজয় মন্ডল প্রমুখ।