শ্যামনগরে রমরমা চলছে কোচিং বানিজ্য


512 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে রমরমা  চলছে  কোচিং বানিজ্য
আগস্ট ২৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারী নীতিমালা না মেনে কোচিং বানিজ্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া একাধিক অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগর উপজেলা সদরের নাম করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছেই জিম্মি হয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। কারণ শিক্ষকদের কাছে না পড়লে তাদের মেধা বিকাশের ব্যাপক মাসুল গুনতে হয়।

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজী বিষয়ের প্রনোদনা ক্লাস এর মাধ্যমে মেধা বিকাশের সহায়ক হিসাবে শিক্ষার্থীদের সময়ের ব্যবস্থা করলেও থেমে নেই কোন শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা যদি স্যারের  কোচিং এ প্রাইভেট না পড়ি তাহলে আমাদের কে ফাইনাল পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দিবে। স্কুল টাইমের আগে দুই ব্যাচ এবং পরে দুই ব্যাচে ৩৫-৪০জন করে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান।

নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবব্রত মন্ডল,  তরুন মন্ডল , মোঃ হারুন,আবু হাসান, মোঃ শফিউল, গোলাম মোস্তফা বেশী বেশী করে পড়ান বলে জানাযায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণনন্দ মুখার্জীর কাছে পড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষক হাসান, শফিউল, গোলাম মোস্তফা স্কুলে পড়ান কিন্তু অন্য শিক্ষকদের ব্যপারে আমার জানানেই।

এদিকে উপজেলা সদরের শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত নকিপুর হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল হুদা, দিপক গায়েন, গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ, শাহাদাৎ হোসেন সহ অন্যান্য শিক্ষকদের বাসার সামনে ভোর হাওয়ার সাথে সাথেই হাজির হয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীরা। শিক্ষকরা সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের বাড়ীতে প্রাইভেট কোচিং এ মেতে উ্ঠেন। তাদের কোচিং সেন্টার গুলো এক একটি স্কুলের ক্লাশ রুমের চাইতেও বড়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে কোচিং করানোর ব্যপারে নাজমুল ও আছাদ স্যার প্রতিষ্ঠনের অনুমতি নিয়ে পড়ান।

তবে বাহিরে কোন শিক্ষক কোচিং করাচ্ছে কিনা তা আমার জানানেই। পাশাপাশি প্রভাবশালী বৃত্তবান ব্যক্তিদের বাড়ীতে বাড়ীতে যেয়ে তাদের সন্তানদেরকে পড়ান এ শিক্ষকরা। শুধু তাইনয় উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল-৪৩, মাদ্রাসা-৩৬, কলেজ-৫, বিএম কলেজ-২ সর্ব মোট ৮৬টি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকরা সরকারী কোন নীতিমালা না মেনেই চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার নামে কোচিং বানিজ্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতিমাসে সর্বনি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।

এখানে এমনও দেখা গেছে যে, একজন শিক্ষার্থী ৩জন শিক্ষকের নিকট পড়তে যেতে হয়। কারণ একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে আরএকজন শিক্ষক অখুশি হন। তাই সকল শিক্ষকদের মন জোগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কে একাধিক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। যার ফলে একাধিক অভিভাবক বলেন, আমাদের স্বল্প আয়ে একটি বাচ্চার খরচ চালাতে হিমশীম খেয়ে যেতে হচ্ছে। দিনমজুর অভিভাবকদের হতাশার শেষ নেই। একটি বাচ্চার পিছনে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা গুনতে হয়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সকল প্রতিষ্ঠান চলার কথা কিন্তু কিছু কিছু শিক্ষক সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা এ ধরণের কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগীতায় মিটিং করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কয়েকবার বলেছি। তবে যে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক গুলো এ বানিজ্যের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইননত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।