শ্যামনগরে শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য


359 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য
এপ্রিল ২৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোটার :
শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারী নীতিমালা না মেনে কোচিং বানিজ্যের রমরমা ব্যবসা। উপজেলার নাম করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছেই জিম্মি হয়ে আছে ছাত্র-ছাত্রীরা। কারণ শিক্ষকদের কাছে না পড়লে তাদের মেধা বিকাশের মাসুল গুনতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যদি সারের কাছে কোচিং এ প্রাইভেট না পড়ি তাহলে আমাদের কে ফাইনাল পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দিবে। স্কুল টাইমের আগে দুই ব্যাচ এবং পরে দুই ব্যাচে ৩৫-৪০জন করে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। স্কুলের স্যার তরুণ, আসলাম, হারুন, হাসান, শফিউল, গোলাম মোস্তফা বেশী বেশী করে পড়ান বলে জানযায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণনন্দ মুখার্জীর কাছে পড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষক হাসান, শফিউল, গোলাম মোস্তফা স্কুলে পড়ান কিন্তু অন্য শিক্ষকদের ব্যপারে আমার জানানেই। এদিকে উপজেলা সদরের শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত নকিপুর এইচ, এস, সি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক এ, টি, এম, নাজমুল হুদা, দিপক, গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ, শাহাদাৎ হোসেন সহ অন্যান্যদের শিক্ষকদের বাসার সামনে ভোর হাওয়ার সাথে সাথেই হাজির হয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীরা। শিক্ষকরা সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের বাড়ীতে প্রাইভেট কোচিং। তাদের কোচিং সেন্টার গুলো এক একটি স্কুলের ক্লাশ রুমের চাইতেও বড়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে কোচিং করানোর ব্যপারে কোন অনুমতি নাই তবে বাহিরে কোন শিক্ষক করছে কিনা তা আমার জানানেই।  পাশাপাশি প্রভাবশালী বৃত্তবান ব্যক্তিদের বাড়ীতে বাড়ীতে যেয়ে তাদের সন্তানদেরকে পড়ান এ শিক্ষকরা। শুধু তাইনয় উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল-৪৩, মাদ্রাসা-৩৬, কলেজ-৫, বিএম কলেজ-২ সর্ব মোট ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকরা সরকারী কোন নীতিমালা না মেনেই চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার নামে কোচিং বানিজ্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতিমাসে সর্বনিু ২শত থেকে ৫শত টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। এখানে এমনও দেখা গেছে যে, একজন শিক্ষার্থী ৩জন শিক্ষকের নিকট পড়তে যেতে হয়। কারণ একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে আরএকজন শিক্ষক অখুশি হন। তাই সকল শিক্ষকদের মন জোগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কে একাধিক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। যার ফলে একাধিক অভিভাবক বলেন, আমাদের স্বল্প আয়ে একটি বাচ্চার খরচ চালাতে হিমশীম খেয়ে যেতে হচ্ছে। দিনমজুর অভিভাবকদের হতাশার শেষ নেই। একটি বাচ্চার পিছনে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা গুনতে হয়। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সকল প্রতিষ্ঠান চলার কথা কিন্তু কিছু কিছু শিক্ষক সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা এ ধরণের কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক গুলো এ বানিজ্যের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইননত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
##

শ্যামনগরে ডে-নাইট মিনি ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোটার ঃ
শ্যামনগরের কাশিমাড়ীর গোবিন্দপুর সমাজ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে শনিবার ৮ দলীয় ডে-নাইট মিনি ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাব প্রাঙ্গনে নারী ও শিশুসহ উপচে পড়া দর্শকের ভিড়ে ৮দলীয় এ ক্রিকেট  খেলায় আমরা সবাই সংঘ ৬ উইকেটে ফ্রেন্ডস ক্রিকেট একাদশ কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ডাঃ এস, এম, আঃ রউফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন।এ সময় অন্যান্যদের  মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-অবঃপুলিশ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন তরফদার,অবঃসেনা কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার,অধ্যক্ষ আঃ হাই,সুপারঃ মাওঃ ইদ্রিস হোসেন, ইউনিয়ন আ‘লীগ সভাপতি শমশের আলী, বিএনপি সভাপতি আজিজুল হক সরদার, নব-নির্বাচিত সকল ইউপি সদস্যগন। আশরাফুল হুদা মনির ও নাজমুল কবীর পলাশ পরিচালনায় খেলায় অংশ গ্রহন করে- কাছারী ব্রিজ বন্ধু ক্রিকেট একাদশ, বকচরা ক্রিকেট একাদশ, জয়নগর ফ্রেন্ডশীপ ক্লাব, আমরা সবাই সংঘ, বন্ধু একতা যুব সংঘ, ফ্রেন্ডস ক্রিকেট একাদশ, শংকরকাটী সততা সংঘ ও খানপুর টাইগার ক্লাব। অবঃ শিক্ষক আলহাজ্ব শওকত হোসেন ঢালীর সভাপতিত্বে বিজয়ীদল আমরা সবাই সংঘ কে ১৪ইঞ্চি কালার টিভি ও রানার্সআপ ফ্রেন্ডস ক্রিকেট একাদশ দলকে মোবাইল সেট পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, এধরণের খেলা চর্চায়  মুস্তাফিজ-সৌম্যর মত নাম করা খেলোয়াড়ও জন্মনিবে । সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন- আঃ রশিদ ঢালী ও আঃ গফফার মিঠু।