শ্যামনগরে সন্তান নষ্টকারীদের হাতে গুম নাসিমা


512 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে  সন্তান নষ্টকারীদের হাতে গুম নাসিমা
মে ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর:
শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধু নাসিমাকে ফুসলিয়ে গুম করেছে তার স্বামী রফু মোল্লা ও তার সহযোগীরা। শিশু হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে এ কান্ড ঘটিয়েছে বলে জানাগেছে। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক  জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্যামনগরের সুধিমহল ।

নাসিমার মাতা জোবেদা জানান, আমার জামাতা উপজেলার আবাদ চন্ডিপুর (খাসকাটা) গ্রামের মৃঃ কেনা মোল্লার ছেলে রফু মোল্লা,  আমার মেয়েকে  ভিটামিন বড়ি বলে সন্তান নষ্টের বড়ী খাওয়ান। বড়ী খাওয়া পর  আমার মেয়ের পেটে ব্যাথা শুরু করে। এক পর্যায় পেটের ৫ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরন হতে থাকে। অসুস্থ অবস্থায় আমার মেয়েকে গত ২২ মে রাত ১১ টায় শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ঘটনাটি স্থানীয়  কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় গত ২৫ মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে শ্যামনগর থানার এস আই আমিনুর রহমান গত ২৫ মে শ্যামনগর হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ খবর পেয়ে নাসিমার মায়ের অবর্তমানে নাসিমার স্বামী রফু মোল্লা ও একই গ্রামের মুকুল মির্জা,  রকেট মির্জা এবং রশীদ গাজী, নাসিমাকে হাসপাতাল থেকে জোর করে  নিয়ে কোথাও গুম করে রেখেছে। নাসিমার মা জোবেদা অনেক খোজাখুজি করেও এখনও পর্যন্ত নাসিমার  সন্ধান পাইনি। শ্যামনগর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, নাসিমাকে এম.এম.কিট ট্যাবলেট খাওয়ানোর কারনে তার পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। যার কারনে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বুধবার রাত থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য গত কয়েক মাস পুর্বে স্বামী পরিত্যাক্ত নাসিমার সহিত রফু মোল্লা প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে নাসিমা ৪ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নির্দেশে ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার মাওলানা মুজিবর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান তাদের বিবাহ পড়ান।  এর পর এলাকার পরিবেশ নারী লোভী রফু মোল্ল্যা অনুকুলে আসলে  সে নাসিমার উপর নির্যাতন শুরু করে। নাসিমাকে চাপ দিতে থাকে তার পেটের সন্তান নষ্ট করার জন্য।এমন ককি মোটা টাকা লোভ দেখায়, নাসিমাকে। কিন্তু নাসিমা রাজী না হওয়ায় রফু মোল্লা তার সহযোগীদের নিয়ে কৌশলে নাসিমার পেটে সন্তানকে হত্যা করে। ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে রক্তক্ষরন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চ্যান্ঞল্যকর ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়লে হাসপাতাল থেকে নাসিমা অপহরন করলো তার পেটের সন্তান নষ্টকারী।  এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এদিকে শ্যামনগরের সচেতন মহল জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।###