শ্যামনগরে সমাজ কল্যান সংস্থার পরিচালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্বসাতের অভিযোগ


344 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে সমাজ কল্যান সংস্থার পরিচালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্বসাতের অভিযোগ
অক্টোবর ২৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ :
প্রতারনার মাধ্যমে সাধারন মানুষকে অতি মুনাফা দেয়ার অজুহাতে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্বসাত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখার  অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী মহলের পক্ষ থেকে আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রতিমা রানী সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে,শ্যামনগর উপজেলা সদরে অফিস নিয়ে আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার সাইন বোর্ডে প্রতিমা রানী স্থানীয় শতশত মানুষ কে তার সংস্থার সদস্য তৈরী করেন।লোনদান কর্মসৃচীর পাশাপাশি অতি মাত্রায় মুনাফা প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ফিক্সড ডিপোজিট প্রকল্প চালু করেন।
এছাড়া সোলার বিক্রী সহ নানা কার্য্যক্রম শুরু করেন, প্রতিমা রানী।
শ্যামনগর সরকারী মহসীন কলেজের সাবেক অধ্যাপিকা শাহানা হামিদ কে সামনে রেখে সংস্থার সভাপতি করে এ সংস্থার কার্য্যক্রম শুরু করা হয়।
তবে শাহানা হামিদ মেডাম বলেছেন, এসকল কার্য্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। প্রকৃত পক্ষে যারা টাকা পাবেন, তাদের টাকা ফেরৎ দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বিড়ালক্ষী  গ্রামের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাষ্টার নুরমোহম্মদ এর কন্যা নাজমুন্নাহার রেশমা ও শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামের মাষ্টার মনসুর আলীর ছেলে মাষ্টার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর পৃথক পৃথক ভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।এসকল অভিযোগে বিবাদী ছিলেন, ১৩০ পুর্ব আটুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার ক্যাশিয়ার নিলীমা মন্ডল, আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রতিমা রানী মন্ডল ও আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার কো- অডিনেটর ও প্রতিমা রানী মন্ডলের স্বামী আশিষ কুমার হালদার।
অন্যতম বাদী নাজমুন্নাহার বলেন,আমার ও স্বামীর নিকট থেকে প্রতিমা রানী ও তার সহযোগিরা সাড়ে চার লক্ষ টাকা নিয়েছেন।তাদের বিশ্বাস করে বিবাদীদের দ্বারা পরিচালিত আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থায় আমি আমার জমাকৃত টাকা জমা দেই।আমার বিশেষ প্রয়োজনে টাকা উত্তোলনের দাবী করলে এবার তারা শুরু করে তাল বাহনা। শুধু আমার নয় , সাধারন অন্যান্য মানুষের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এসংস্থার দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তার দাবী।
বিষয়টি নিয়ে ০১৯৩৭৫১০৮১৮ নং মোবাইল ফোনে বিবাদী নীলিমা রানী মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শ্বিকার করে বলেন,বিষয়টি দ্রুত মিমাংসা হয়ে যাবে। তবে আরো বিস্তারিত জানেন,প্রতিমা দি। এদিকে ০১৯২৪৩৯৩৮৬৮ মোবাইল ফোনে আলোর পথে সমাজ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রতিমা রানী মন্ডল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নাজমুন্নাহার নামে কোন ব্যক্তি আমার কাছে টাকা পাবেনা। তবে মাষ্টার মিজানের সাথে বসাবসি হয়েছে। আপনি বিস্তারিত মিজান মাষ্টারের নিকট থেকে জেনে নিন।
এদিকে উপজেলার আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু তার পরিষদে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঘটনার সত্যতা নিরুপন করে লিখিত মতামত প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া শ্যামনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেছেন,লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
####