সুন্দরবনের কাঠ আসছে লোকালয়ে : বনবিভাগ নীরব


563 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের কাঠ আসছে লোকালয়ে : বনবিভাগ নীরব
আগস্ট ৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনে কাঠ পাচার বন্ধ হয়নি। চিহ্নিত কাঠ পাচারকারী চক্র সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের যোগ সাজসে প্রতিনিয়ত কাঠ পাচার করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়দের অভিযোগ। মাঝে মাঝে বন বিভাগের অভিযানে নামমাত্র কাঠ আটক হলেও পাচারকারীরা থেকে যায় আড়ালে। ফলে উজাড় হচ্ছে বৃক্ষরাজী, ধ্বংস হচ্ছে সুন্দরবনের বৈচিত্র, সৃষ্টি হচ্ছে অনাকাঙ্খিত প্রাকৃতিক দূর্যোগ।

অতিসম্প্রতি তথ্য সংগ্রহের জন্য সুন্দরবন ঘেঁষা দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে দেখা যায়, কাঠ পাচার করার দৃশ্য। গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের  বায়জিদ সরদার দিবালোকে প্রকাশ্যে সুন্দরবন হতে কাঠ কেটে চকবারা খালে ডুবিয়ে রাখছে। জিজ্ঞাসাকালে জানায়, বন বিভাগকে ম্যানেজ করে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। সে আরো জানায়, নৌকা প্রতি ১ হাজার থেকে বারশত টাকা মাসোহারা দিয়ে সুন্দরবনে কাঠ সংগ্রহের অনুমতি নিতে হয়। এদিকে শ্যামনগর উপকুলীয় এলাকার একটি সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারীরা বুড়িগোয়ালিনী ষ্টেশন,কোবাদক স্টেশন সহ একাধিক বন টহল ফাঁড়ীর বনকর্মচারীদের ম্যানেজ করে কাঠ পাচার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ি ওসি মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে কথা হলে বলেন, সুন্দরবনে কাঠ পাচার রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সহকারী বন কর্মকর্তা এসিএফ শোয়েব খান বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় ৪টি ষ্টেশন অফিস এবং ১০টি টহল ফাঁড়িতে ১২০ জন বন রক্ষক নিয়োজিত আছে। ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে বিশাল বনভূমি রক্ষায় সীমিত সংখ্যাক জনবল নিয়ে সঠিক ভাবে কাজ করা দূরহ। তিনি জনবলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জম ও সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন। সুন্দরবনে কাঠ পাচার বন্ধে উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সহায়তার কথা বলেন।