শ্যামনগরে সড়ক পাকা করার অজুহাতে হাজারও গাছ কর্তন


137 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে সড়ক পাকা করার অজুহাতে হাজারও গাছ কর্তন
জুলাই ৬, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

সড়ক পাকা করার অজুহাতে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি এলাকায় রাস্তার দু’পাশের মেহগনি, বাবলা, কড়ই ও বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই সহস্রাধিক গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে।
বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তা হতে পুর্ব দুর্গাবটি এলাকার আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা কার্পেটিং কাজের শুরুতেই এমন কান্ড ঘটেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়ানাধীন এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স মোল্যা কন্সট্রাকশন নামীয় একটি প্রতিষ্ঠিান।
রাস্তা উঁচু করার অংশ হিসেবে দু’পাশ হতে ভেকু দিয়ে মাটি সংগ্রহের সুবিধার্থে ঠিকাদারের লোকজন এমন কান্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। যদিও ঠিকাদারের দাবি তারা সামান্য কিছু গাছ কাটলেও অধিকাংশ গাছ স্থানীয়রা কেটে নিয়েছে।
সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে পুর্ব দিকে দুই কিলোমিটার রাস্তা কার্পেটিং এর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুর্বেকার ইটের সোলিং সরিয়ে সেখানে মাটি দিয়ে রাস্তার দু’পাশ বাঁধার কাজ চলছে।
স্থানীয় আকবর আলী ও জয়দেব কুমারসহ কয়েকজনের অভিযোগ রাস্তা পাশ থেকে মাটি নেয়ার সুবিধার্থে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তার দু’পাশে থাকা হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছে। কিশোরী মোহন ও তাপস সরকারসহ কয়েকজন জানান ভেকু ব্যবহারের সুবিধার্থে ঠিকাদারের ম্যানেজার স্থানীয়দের নিজ নিজ বাড়ির সামনের গাছ কেটে নেয়ার পরামর্শ দেয়ায় অনেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে ।
দীর্ঘ ১৫/২০ বছরের পুরানো এসব গাছ কাটার কারনে উপকূলবর্তী এলাকা আরও বৃক্ষশুণ্য হয়ে পড়লো- উল্লেখ করে জেলা পরিষদ সদস্য ডালিম কুমার ঘরামী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ভেকু ছাড়া মাটি সংগ্রহ করা হলে গাছ কাটার প্রয়োজন হতো না-জানিয়ে তিনি বলেন, বুলবুল ও আম্পান এর তান্ডবে গোটা উপকূল যখন বৃক্ষশুন্য তখন দুই হাজারেরও বেশী গাছ কাটার ফল স্থানীয়দের ভোগাবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ঠিকাদার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাযশে হাজার হাজার গাছ মারা পড়লো। গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে গাছ কাটার উৎসব চললেও চেয়ারম্যান কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানায় ইতিমধ্যে গাছ কাটার বিষয়ে একজন ইউপি সদস্যকে বিষয়টির খোঁজ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আলহাজ্ব নুরুল হক মোল্যা জানান, আামার লোকজন গাছ কাটেনি। ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলনের সময় কিছু গাছের ডাল-পালা ভেঙে গেছে মাত্র। বরং স্থানীয়রা রাস্তার দু’পাশের গাছ কেটে নিয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার অভিযোগ জানা মাত্রই ঠিকাদারকে গাছ বাঁচিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

#