শ্যামনগরে ১৯ দিনেও উদ্ধার করা হয়নি এক কলেজ ছাত্রী


520 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে ১৯ দিনেও উদ্ধার করা হয়নি এক কলেজ ছাত্রী
এপ্রিল ২৫, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
অপহরণের ১৯ দিনেও উদ্ধার করা যায়নি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শিখা রানী মন্ডলকে। গত ৭ এপ্রিল সকালে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ধানখালি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কলেজে আসার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতের পিতার নাম অশ্বিনী কুমার মন্ডল।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও পূর্ব ধানখালি গ্রামের হরেন মন্ডলের ছেলে অশ্বিনী কুমার মন্ডল জানান, তার মেয়ে শিখা রানী মন্ডল(১৮) মুন্সিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। প্রতিদিনের ন্যয় সে কলেজের যাওয়ার জন্য গত ৭ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে একটি নীল রঙের শালোয়ার কামিজ পরে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাড়ির পাশে নামযঞ্জ চলায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসবে বলে সে মা মালতি মন্ডলকে বলে যায়। বিকেল তিনটায় তিনি (অশ্বিনী) বাড়ি ফিরে এসে মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে অবহিত করেন। সকল আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে সন্ধান করে না পেয়ে ১০ এপ্রিল তিনি শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
তিনি আরো জানান, তাদের পাশের গ্রাম ট্যাংরাখালির ফনিরউদ্দিন মল্লিকের মেয়ে উপজেলার ছোট ভেটখালি গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন দু’ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পর থেকে শুকুর আলী নতুন বিয়ে করে সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকায় বসবাস শুরু করে। পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা করে শুকুর আলী। বাবা বিয়ে করায় সুফিয়া খাতুনের দু’ ছেলে শফিকুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম ট্যাংরাখালি নানার বাড়িতে  বেড়ে উঠতে থাকে। শফিকুল ইসলাম ক্রমশঃ নারী লোভী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শিখা রানী মন্ডল গত ৭ এপ্রিল সকালে কলেজে আসার সময় মুন্সিগঞ্জ কলেজ মোড় এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে শফিকুল ইসলাম ও তার কয়েকজন সহযোগি একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করেছে বলে একাধিক সূত্রে জেনেছেন। বিষয়টি তিনি শ্যামনগর থানাকে অবহিত করেছেন। শুকুর আলীর কাছে যেয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে শিখাকে ঢাকায় নিয়ে এক অজ্ঞাতস্থানে আটক রেখেছে শফিকুল।
মুন্সিগঞ্জ ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, শফিকুল ইসলাম মেয়েটিকে সে অজ্ঞাতস্থানে আটক রেখেছে জানতে পেরে তিনিসহ মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা খাতুন ও বকুল হোসেন গত সোমবার সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছায় শুকুর আলীর বাসায় যান। প্রাপ্ত বয়স্ক শিখা সাতক্ষীরা আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শফিকুলকে বিয়ে করেছে মর্মে শুকুর আলী জানান। তারা শিখাকে সাতক্ষীরায় হাজির করতে বললে কোন মতামত দিতে পারেনি শুকুর আলী। একপর্যায়ে দুপুর দু’ টোর দিকে শফিকুলের মোবাইল থেকে শিখা পরিচয়ে এক নারী জানায় যে সে সাতক্ষীরা আদালত থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শফিকুলকে বিয়ে করেছে।প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় এ নিয়ে বাবা মায়ের কিছু বলার নেই। এরপরও তাদেরকে সাতক্ষীরায় হাজির করানোর জন্য শুকুর আলীকে বলা হয়েছে। তবে শফিকুল বখাটে এবং ভাল চরিত্রের নয় বলে এ প্রতিবেদককে জানান ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার শান্তি কর্মকার, ইলা বিশ্বাস, সাহেব আলীসহ কয়েকজন জানান, শুকুর আলী বেশ কিছুদিন ধরে তাদের পাড়ায় বসবাস করে থাকেন। পুরাতন বস্ত্রের ব্যবসা করেন তিনি। শফিকুল মাঝে মাঝে এখানে অবস্থান করেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এলাকার বাবুরাম বিশ্বাসের এক মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে ভারতে পাচারকালে লক্ষীদাঁড়ি সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। গণধোলাই দিয়ে শফিকুলকে ছেড়ে দেয় এলাকাবাসী। এরপরও শফিকুলের বিরুদ্ধে শ্যামনগরের দু’টি মেয়েকে ভারতে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব মেয়ে পাচারে সহযোগিতা রয়েছে শুকুর আলীর।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শফিকুল ইসলামের ০১৯৮২-৭১৬৭২০ নং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছার শুকুর আলী জানান, তার ছেলে শফিকুল কি করে, কোথায় থাকে তা তিনি জানেন না। তবে শিখা মন্ডল মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছে বলে শফিকুল তাকে অবহিত করেছে। সোমবার শ্যামনগরের তিনজন ইউপি সদস্য শিখাকে হাজির করানোর জন্য তাকে অনুরোধ করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ কুমার রায় জানান, অশ্বিনী কুমার মন্ডলের সাধারণ ডায়েরীর সূত্র ধরে তিনি শুকুর আলীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। শফিকুলের মোবাইল নম্বর ট্যাক করে অবস্থান জানার চেষ্টা করেছেন। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ও মামলা না করায় শিখাকে উদ্ধার ও শফিকুলসহ অপহরণকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।