শ্যামনগর আটুলিয়া ইউনিয়নটি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিছিন্ন


417 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর আটুলিয়া ইউনিয়নটি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিছিন্ন
মে ১৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর:
সুন্দরবন সংলগ্ন  খোলপেটুয়া নদীর তীরে গড়ে উঠা শ্যামনগর উপজেলার বানিজ্যিক খ্যাত আটুলিয়া ইউনিয়নটি কৃষি ভিত্তিক ইউনিয়ন।  এখানে ৮০% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। সরকার কৃষিকে শুধু কৃষক নয়, সর্ব স্থরের সকল পেশার মানুষের মধ্যে কৃষির বিস্তর করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন,  নিজের ঘরের সাসনের একখন্ড জায়গা যেন, পড়ে না থাকে। সেটিকে ও যেন কৃষি কাজে লাগানো হয়। সে কারনে সরকার আজ সব চেয়ে কৃষিতে ভুর্তকি দিয়ে যাচ্ছেন। শ্যামনগর উপজেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম মহোদয় একজন কৃষি বিদ। তিনি সম্প্রতি সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক আধুনিক প্রযুক্তিতে ছোট জায়গায় বেশী ফলন সহ হরেক রকম শবজি চাষ করা যাবে, সে টি বাস্তবে দেখিয়েছেন। সহজ কথায় শ্যামনগরের কৃষি পার্ক নামে খ্যাত সর্ব স্থরের মানুষের কাছে যখন বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে ঠিক তখনই পুরা একটি ইউনিয়ন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিছিন্ন।

একটি ইউনিয়নকে তিন ভাগে ভাগ করে তিনটি ব্লক করা হয়েছে। এ সকল ব্লকে একজন করে উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ব্লক সুপারভাইজার থাকে। কিন্ত কৃষিখ্যাত উপজেলার সবচেয়ে গুরুপ্তপুর্ন একটি ইউনিয়নের মধ্যের তালিকায় রয়েছে আটুলিয়া। বানিজ্যক ভাবে অনেক এগিয়ে এ ইউনিয়নটি। অথচ কৃষি দপ্তর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ ইউনিয়নটি রয়েছে বাহিরে। কৃষকদের সাথে কোন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই কোন যোগাযোগ। সরকারের নির্দেশনা আছে,  প্রত্যেক উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছুটির দিন বাদে অন্যদিন গুলো মাঠের কৃষকদের সাথে থাকতে হবে। সরকারের যখন যেটা কৃষি বিষয়ক তথ্য আসবে সেটি দ্রুত কৃষকদের কানে পৌছে দিতে হবে।শুধু তাই নয়, কৃষকদের হাতে কলমে বুঝিয়ে দিতে হবে। নতুন নতুন প্রকযুক্তির সাথে কৃষকদের  সম্পর্ক তৈরী করে দিতে হবে।এ ছাড়া কখন কোন সার দিতে হবে, বিষ দিতে হবে, একথায় বলা যায় সকল নিয়মাবলী সময়ের ব্যবধানে কৃষককে বুঝিয়ে দিতে হবে। উপজেলা কৃষি অফিসের খাতা কলমে এ ইউনিয়নের  অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে রয়েছেন, উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাকিম,এস এম আহসান উল্লাহ, মোঃ আব্দুল হাকিম।  এদিকে আব্দুল হাকিমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি কাশিমাড়ী ইউনিয়নের মুল দ্বায়িত্বে আছি। আটুলিয়ার নওয়াবেকী ব্লকে আমাকে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে সময় পেলে নওয়াবেকী ব্লকে যাই।

এদিকে নওয়াবেকীর সাবেক ইউ পি মেম্বর আতিয়ার রহমান বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, পাচ বছর মেম্বরী করলাম অথচ কৃষি অফিসের লোকজনের সাথে কোন দিন দেখা হলো না।  তারা মাসিক সভাতে ও আসেন না। একই অভিযোগ আটুলিয়া ইউনিয়নের আটুলিয়া ব্লকের  অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা এস এম আহসান উল্লার বিরুদ্ধে। তবে তিনি বলেছেন, আমার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ভুরুলিয়া ব্লকে মুল দ্বায়িত্ব। আমি সেখানেই তাই সময় দিয়ে পাইছিনা। অন্য স্থানে যাবো কি ভাবে। আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন। এদিকে শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হোসেন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার কানে আসছে, এখন থেকে অবশ্যই আমি মনিটরিং করবো, যারা দ্বায়িত্বে আছেন  তারা অবশ্যই নিয়মিত ভাবে কৃষকদের পাশে যাবেন। এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সাংসদ সদস্য বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং কৃষি নিয়ে সর্বক্ষন পরিকল্পনা করেন। সে ক্ষেত্রে কৃষিকে আমাদের কি ধরনের গুরুপ্ত দিতে সে আর বলার অবকাশ থাকেনা। এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। অবশ্যই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।