শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আসনে কে পাচ্ছেন আ’লীগের মনোনয়ন


2864 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আসনে কে পাচ্ছেন আ’লীগের মনোনয়ন
আগস্ট ১৬, ২০১৮ আশাশুনি কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ ::
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা -৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এ নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক জলপনা কল্পনা।

শ্যামনগর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও কালিগঞ্জ উপজেলার আংশিক ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ নির্বাচনী আসন। সাংগঠনিক দিক থেকে এক সময় বিএনপি জোটের ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত ছিলো এ আসনের দুই উপজেলা। ২০০৮ সালের আগে কালিগঞ্জ উপজেলা ছিলো দেবহাটা উপজেলার সঙ্গে। আর শ্যামনগর উপজেলা ছিল একটি আসন। প্রায় ৫ লাক্ষ ভোটের এই আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত, বিএনপি জোট সমর্থিত এমপি ছিলো, ২০০৮ সালে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলা ১১ টি ও কালিগঞ্জ উপজেলা আংশিক ৪ টি ইউনিয়ন মোট ২০ টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা ৩ আসন গঠন করে। শ্যামনগর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে সাতক্ষীরা ৪ আসন গঠিত হয়। ২০০৮ সাল থেকে ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামীলীগ গত ২ মেয়াদে আসনটি দখলে আছে। এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা বিভক্তি হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সর্ব শেষ শুনানিতে আসনটি পূর্বের ন্যায় বহাল রাখার দাবিতে কালিগঞ্জের সর্ব দলিয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এই কমিটির আহবায়ক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান এর নেতৃত্বে আসন পুনঃ বহলের দাবিতে মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন স্বারকলিপি সহ জোরালো দাবি জানিয়ে ঢাকা পর্যন্ত গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক আসনটি সব রাজনৈতিক দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ সংসদীয় আসনটি নিয়ে আওয়ামীলীগের হয়ে স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবে ব্যানার ফেস্টুনে নেতা ও তাদের ছবি দিয়ে, সভা সমাবেশের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রচার প্রচারনা চালচ্ছেন।

২০১৩ সালের এ আসনের নির্বাচন না হওয়ায় জোটগত প্রার্থীদের সহযোগীতায় আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দার এমপি মনোনিত হয়। তিনি এবারও এ আসনের প্রার্থী হতে চান। তিনি সাংসদ হয়েও এলাকায় সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেন।বিপদে আপদে অসহায় মানুষের পাশে ছুটে যান।রাতের আধারে অভাবগ্রস্থ মানুষের বাড়িতে যেয়ে যেয়ে সবার খোঁজ খবর নেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।তিনি এলাকায় গন মানুষের নেতা হিসেবে বিবেচিত।প্রায়সময় দেখা যায় তিনি শ্রমিকের সাথে একসাথে কাঁচা দিয়ে মাটি কাটছেন,গরীব তৃষ্ণার্ত শ্রমিকের ডাব খাওয়াচ্ছেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে নেই  শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউল হক দোলন। অাসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তিনি তার এলাকায় অনেক অাগে থেকে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।সরকারের উন্নয়ন নিয়ে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা করছেন।তাকে নিয়ে এলাকায় ইতোমধ‌্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন,সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ আতাউর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম লেলিন, কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, তরুণলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিউল্লাহর নাম শোনা যাচ্ছে।

তবে এ আসন থেকে ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর মনোনিত প্রার্থী হতে পারেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সত্তার মোড়ল ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা। এছাড়া জাসদ (ইনু) মনোনিত প্রার্থী হিসাবে অধ্যাক্ষ আশেক ই-এলাহী প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন। যদিও আওয়ামীলীগের সম্ভব্য প্রার্থী ও নেতারা বলছেন দলীয় হাই কমান্ড যাকেই দলের প্রার্থী হিসাবে মনোয়ন দিবেন আমরা তাকেই মেনে নিবো। আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে এ আসনটি হাত ছাড়া হতে পারে।
##