শ্যামনগরে কুচিয়া চাষে ঝুকছে এলাকার চাষীরা


743 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগরে কুচিয়া চাষে ঝুকছে এলাকার চাষীরা
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর ::

পারিবারিক পর্যায়ে কুঁচে চাষ
পরিবর্র্তিত জলবায়ুর সাথে লাগসই একটি সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ২২.২ কোটি টাকার কুঁচিয়া রপ্তানি হয়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৬ কোটি টাকায় এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে সেটি ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্যা ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে কুঁচের যেমন দেশীয় বাাজরে চাহিদা রয়েছে তেমনি বিদেশী বাাজরেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে বাংলাদেশ হতে চীন, হংকং, তাইওয়ান ও কোরিয়াতে কুঁচে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তণ এর প্রভাব এবং অপরিকল্পিত ভাবে বাগদা চিংড়ি চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় কৃষি জমির লবনাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রচলিত ফসলের আবাদ ভাল হচ্ছে না। অন্যদিকে পতিত ভূমিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎপাদিত ঘাসেরও সংকট দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণিসম্পদ পালনেও চ্যালেন্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

প্রতিকূল এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিবর্র্তিত জলবায়ুর সাথে লাগসই একটি সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে কুঁচে চাষ। চাষ পদ্ধতি সহজ, খাবার কম লাগে এবং বাজারের খাবারের উপর নির্ভরশীল হতে হয় না। এছাড়া কুঁচে চাষ বা মোটাতাজাকরনে জায়গা কম লাগে এবং রোগ ব্যাধি তুলনামূলক ভাবে কম হয়। ফলে কুঁচে চাষ বা মোটাতাজাকরণ উপকূলীয় এলাকায় স্থানভেদে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কুঁচে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিশ্ব পরিমন্ডলে পরিচিত। দেশীয় ও আর্šÍজাতিক বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে উপকারভোগীরা প্রচলিত নিয়মে প্রাকৃতিক জলাধার গুলো থেকে কুঁচিয়া আহরণে বেশি মনোযোগী। কিন্তু সেদিন আর বেশী দুরে নয়, ব্যাপক পরিমান আহরনের ফলে প্রকৃতিতেও এটি আর সহজলভ্য হবে না।

সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) লিফ্ট-ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় “প্রাকৃতিক উপায়ে কুঁচিয়ার বংশ বি¯তারের সুযোগ এবং পরিবার ভিত্তিক কুঁচিয়া খামার স্থাপনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি” নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করেছে। প্রকল্পটি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প কর্মএলাকায় আগ্রহী চাষীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণ সুবিধা প্রদান করে পারিবারিক খামার পর্যায়ে কুঁচের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, বাজারজাতকরণ প্রকৃয়ায় চাষীদের সংগঠিত করে সংশ্লিষ্ট মার্কেট এ্যাক্টরদের সাথে যোগসুত্র স্থাপন করার মাধ্যমে এ খাতে সংশ্লিষ্ট সকল শ্রেনীর জনগোষ্ঠির টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে প্রকল্পটি কাজ করছে।