শ্যামনগর বংশ্বীপুরে সুখলী বেগমের লাশ উত্তোলন


318 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর বংশ্বীপুরে সুখলী বেগমের লাশ উত্তোলন
মে ১৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর:

শ্যামনগরে  অবৈধ জমজ সন্তান নষ্ট করতে যেয়ে জীবন দিতে হলো সুখলী বেগম (৩৫) নামের এক গৃহ বধুকে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২৫ এপ্রিল বংশ্বীপুর সুমি ইন্জিনিয়ারিং  এর স্বত্বাধিকারী  মোস্তাফা কাদিয়ানীর বাড়ীতে। স্থানীয় ভাবে সকল ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রসাশনকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি করে নিহত সুখলি বেগমের দাফন সম্পুন্ন করা হয়েছে। এদিকে এঘটনা জানার পর এলাকার সচেতন মহল ঘটনার মুল নায়ক মোস্তাফা কে আটক করে আইনগত ব্যবস্থার দাবীতে পুলিশ সুপার  মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন  ।সরেজমিনে জানা গেছে, বংশ্বীপুরের সুমি ইন্জিনিয়ারিং এর মালিক মোস্তফা  ঢাকার গামেন্টস কর্মী সুখলী বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।সুখলী বেগম পাইকগাছা উপজেলার কবিরের স্ত্রী। শাররীক সম্পর্কের কারনে অবৈধ সন্তান নিয়ে সুখলী বংশ্বীপুর মোস্তাফার বাড়ীতে চলে আসে। এঘটনা চাপা দিতে মোস্তাফা গং সুখলীর পেটের জমজ ২ সন্তানকে  নষ্ট করতে উঠে পড়ে লাগে। এক পর্য্যায়  বংশ্বীপুর  সরদার নার্সি হোমের কর্মচারী আনিসুর রহমানের মাধ্যমে সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। ব্যপক রক্তক্ষরনের এক পর্য্যায় সুখলী বেগমকে আশংকজনক অবস্থায় শ্যামনগর হাসপাতালে আনা হলে সে মারা যায়। সুখলীকে পাগল আখ্যায়িত করে একটি মহল দ্রুত তার দাফন সম্পুন্ন করে।  এ বিটের দ্বায়িত্বে থাকা শ্যামনগর থানার এস আই শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ময়না তদন্তের লক্ষে লাশটি সাতক্ষীরায় পাঠানোর কথা বলে দাফনে বাধা দেয়া হলে, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম মহসীন উল মুলক বলেন, সুখলী নামের নিহত ওই গৃহবধূ একজন পাগল মহিলা ছিল।যার কারনে তারা নিহত মহিলার  দাফন করতে পেরেছেন। কৌশলে গৃহবধূ সুখলী বেগম কে দাফন শেষ করে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার পায়তারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এধরনের ঘটনা ঘঠিয়ে মোস্তফা এখন বহাল তবিয়্যাতে। এদিকে সুখলীর লাশ উত্তোলন পুর্বক প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন করে ঘটনার মুল নায়ক মোস্তফা কে আটক করার দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মহোদ্বয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে ওই এলাকার স্থাথ্যকর্মী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, সুখলী বেগম বেশ কিছুদিন শান্তিতে ঘর সংসার করেছিল। তার গর্ভাবস্থায় কয়েকটি টিকা দেয়া হয়েছেে এবং তাকে নিয়মিত চেক আপ করানো হতো। সুখলী বেগমের পেটে ২টি জমজ সন্তান ছিল। এতে সুখলী বেগম নানা রকম স্বপ্নের মধ্যে জীবন কাটাতে থাকতো। তবে সে বরাবরই তার স্বামী মোস্তফার আতংকে থাকতো। মোস্তফা নাকি প্রায় সুখলী বেগমকে তার পেটের সন্তান নষ্ট করার জন্য জবর দস্তি করতো। পরবর্তীতে সুখলী বেগম কে মোস্তফা বলেছিল, তোমার পেটের একটি সন্তান আমার নিঃসন্তান ভাইকে দেবো। আর একটি তোমার কাছে থাকবে। নিজের ইচ্ছার শর্তেও  সুখলী বেগম এতে রাজী হয়। কিন্ত নিষ্ঠুর পাষন্ড স্বামী মোস্তফা সুখলী বেগমকে বিশ্বাস না করে জমজ সন্তানদের আনাড়ী লোকের মাধ্যমে নষ্ট করার চেষ্টা করে। এক পর্য্যায় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের মাধ্যমে সুখলী বেগম মারা যায়। প্রথমে জমজ সন্তানদের হত্যা তার পর সুখলী বেগমকে। এর পরও বহাল তবিয়্যাতে ঘাতক মোস্তফা।