শ্যামনগর সরকারি হাসপাতাল থেকে ঔষধ বিতরণ বন্ধ, বিপাকে দরিদ্র সেবা প্রার্থীরা


156 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর সরকারি হাসপাতাল থেকে ঔষধ বিতরণ বন্ধ, বিপাকে দরিদ্র সেবা প্রার্থীরা
জুলাই ৪, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

গত সাত দিন ধরে শ্যামনগর উপজেলা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল থেকে ঔষধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ঔষধ বিতরণের দায়িত্বে থাকা এক স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা সনাক্ত হওয়ার পর থেকে এমন অবস্থা চলছে। কতৃপক্ষের তরফ থেকে বিকল্প কাউকে ঔষধ বিতরণের কাজে নিযুক্ত না করায় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ম আয়ের অসুস্থ মানুষগুলো সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ঔষধ সহায়তা না পেয়ে চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে।
করোনাকে অজুহাত হিসেবে দাড় করিয়ে কতৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সেবা দানে অনীহা দেখাচ্ছে বলে ভুক্তোভোগীরা অভিযোগ তুলেছে। শুধুমাত্র জরুরী বিভাগ খোলা রেখে সংশ্লিষ্টরা রীতিমত ছুটির মেজাজে দিন কাটাচ্ছে বলেও অনেকের অভিযোগ। যদিও কতৃপক্ষের দাবি সরকারি ঔষধ বিতরণ ছাড়া সব সেবা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজিমনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারটায় শ্যামনগর উপজেলা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায় জরুরী বিভাগে এক চিকিৎসকসহ কয়েক স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত। ঘুরে ঘুরে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্নারে যেয়ে অন্য কোথাও কোন চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। দোতলার পুরুষ নারী ও শিশু ওয়ার্ডে যেয়ে মাত্র পাঁচ/ছয় জন রোগীর দেখা মেলে।
চিকিৎসকের সাক্ষাৎ কিংবা ঔষধ না পেয়ে নিরাশ হওয়া বুড়িগোয়ালীনির বিলাল হোসেন বলেন, ১৫ কিলোমিটার দুর থেকে এসেছিলাম চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দরকারি ঔষধ হাসপাতাল থেকে নেয়ার আশায়। কিন্তু ঔষধ দেয়ার কক্ষ বন্ধ থাকায় জরুরী বিভাগ থেকে পরামর্শ মিললেও ঔষধ না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। বাইরের দোকান থেকে এসব ঔষধ কিনতে অনেকগুলো টাকা গুনতে হবে।
প্রায় অভিন্ন অভিযোগ কাশিমাড়ীর ভূমিহীন রবিউল ইসলামের। বহিঃবিভাগে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না মেলায় জরুরী বিভাগ থেকে মাথা ব্যাথাসহ শাররীক দুর্বলতার জন্য যে ঔষধ খেতে বলা হয়েছে তা বাইরে থেকে কিনতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ ঔষধ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারনে হাসপতাল থেকে ঔষধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র জরুরী বিভাগ ছাড়া অন্য সব সেবা কার্যক্রমে অচালবস্থা চলছে- দাবি করে অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দীন মুন্সী বলেন করোনাকে পুঁজি করে কতৃপক্ষ উদ্দেশ্যমুলকভাবে স্বাস্থ্য সেবার বিষয়কে উপেক্ষা করছে। কয়েক স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা পজেটিভ হওয়ার ঘটনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কতৃপক্ষ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিঃবিভাগে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ হওয়ায় অন্য বিষয়ে পরামর্শ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি বিকল্প কাউকে দিয়ে সরকারি ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম সচলের দাবি জানালেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অজয় সাহার সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সামনে যেয়ে বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ঔষধ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির করোনা পজেটিভ হওয়ার কারনে ক্ষটি বন্ধ থাকায় আপাতত ঔষধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কক্ষটি পরিস্কার করে পুনরায় ঔষধ বিতরণ শুরু হবে।