শ্যামনগর সরকারী মহসিন ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক সংকট : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত


1023 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর সরকারী মহসিন ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক সংকট : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
আগস্ট ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সুন্দরবনের কোল ঘেষে সাতক্ষীরার সর্বশেষ উপজেলা শ্যামনগর। ২০১৩ সালে ১৪ মে জাতীয়করণ হয় শ্যামনগর সরকারি মহসিন ডিগ্রী কলেজটি। জাতীয়করনের পর থেকে অনেক বিষয়ের শিক্ষকরা অবসরে চলে যাওয়ায় দিনে দিনে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা মোট ৫টি বিষয়ে অনার্স শিক্ষা চালু রয়েছে। এইচ.এস.সি, ডিগ্রী সমমান, ডিগ্রী প্রাইভেট সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫ হাজার ৮৮০ জন। কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতায় ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে চরম শিক্ষক সংকট। কয়েক মাস ধরে উদ্ভিদবিদ্যা ও হিসাব বিজ্ঞান ক্লাস হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলা বিভাগে ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একজন। ইংরাজীতে তিনজন শিক্ষকের স্থলে রয়েছে একজন। মার্কেটিং বিভাগে তিনজন শিক্ষকের স্থলে রয়েছে একজন। উদ্ভিদবিদ্যা ও হিসাব বিজ্ঞানে কোন শিক্ষক নেই।
জাতীয়করণের পর শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ায় অনেক পদ শুন্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু স্থলাভিষিক্ত হয়ে কোন শিক্ষক বা কর্মচারী যোগদান করেননি। শুধুমাত্র অধ্যক্ষ পদে অবসরে যাওয়ার পরে এসেছেন অধ্যাপক মোঃ ইয়াহিয়া মোল্যা।

তিনি জানান, অনার্স বিভাগে ৮জন শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়া থাকলেও এখনও দেওয়া হয়নি। এখনও সরকারী স্কেলে বেতন চালু হয়নি। পদ শুন্য থাকায় বিজ্ঞানাগারে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক শিক্ষাদান, কলেজের লাইব্রেরীতে বই বিতরন ও সংরক্ষন, হিসাব রক্ষনের কাজ ও বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষনা বেক্ষনের কাজেও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্লাস পরিচালনার জন্য যথেষ্ঠ ক্লাসরুম নেই। মাঝে মধ্যে গাছতলায়ও ক্লাস নিতে হয়।
অধ্যক্ষ ড.মোঃ ইয়াহিয়া মোল্যা ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট নিয়ে খুব বিপাকে আছি। সবমিলিয়ে ৮৫জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ২৬ জন। যেসব বিষয়ে ১-২ জন করে শিক্ষক আছে সেসব বিষয়ের শিক্ষক যদি কোন প্রকার ছুটি নেয় তাহলে কি অবস্থা হয় বোঝেন? অন্য কলেজ থেকে শিক্ষক এনে পারটাইম শিক্ষক হিসাবে কোন রকমে ক্লাস চালিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে বিষয়গুলো লিখিতভাবে জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।