শ্যামনগর সরকারী মহসীন ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে ছাত্রী উক্ত্যক্তসহ নানা অভিযোগ। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে তদন্ত সম্পন্ন


599 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর সরকারী মহসীন ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে ছাত্রী উক্ত্যক্তসহ নানা অভিযোগ। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে তদন্ত সম্পন্ন
আগস্ট ৭, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সরকারী মহসীন ডিগ্রী কলেজের ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক মো: আবুল বাসার (বিসিএস ক্যাডার নং -২৫২৬৬) এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উক্ত্যক্ত করা,  কলারোয়া গরুর হাটের ইজারা গ্রহন, কলেজের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অবৈধ ভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. ইয়াহিয়া মোল্যার দায়ের কৃত অভিযোগের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ তাজিব উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ লিয়াকত পারভেজকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ গত ২৩ জুলাই কলেজে সরেজমিনে তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেছেন। তদন্তে অভিযোগে বিষয়টি প্রমানীত হয়েছে বলে জানাগেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, শ্যামনগর সরকারী মহসীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড: ইয়াহিয়া মোল্যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর প্রভাষক মো: আবুল বাশারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কলেজের ভূগোর বিভাগের প্রভাষক মো: আবুল বাসার  সাতক্ষীরার কলারোয়া গরুর হাটের ইজারা গ্রহণ, কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ভূগোল ব্যবহারিক পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থবানিজ্য, কলেজের ছাত্রীদের উক্ত্যক্ত করাসহ নানাবিধ অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত। মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর এই অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজকে নির্দেশ দেন। যার স্বারক নং-৬সি/২১সি-১/২০১৫/৫০৫০/৫, তারিখ-২৮-৬-২০১৫।
তদন্তকারী কর্মকর্তা অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ জানান, আমি সরেজমিন গিয়ে যথাযথ তদন্ত করেছি। ইতোমধ্যে তদন্ত রিপোর্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বেশ কিছু অভিযোগ প্রমানীত হয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সামনে  হাজির হয়ে অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষক আবুল বাশার কলেজের ছাত্রীদেরকে একা একা তার বাসায় যেতে বলতেন। তিনি নানা ভাবে ছাত্রীদের উক্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধন্ত গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান,ব্যবহারিক ডিগ্রী পরীক্ষার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে গড় ২ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে  ২ শত টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু তিনি কোন রশিদ দেয়নি। তারা বিষয়টি স্থানীয় এমপি এস,এম, জগলুল হায়দারের নিকট অভিযোগ করেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নোট বিক্রী করা, পরীক্ষায় পাশ-ফেল করানো ও নিজ কলেজ ছাত্রীদের উক্ত্যক্ত করাসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। জাল সার্টিফিকেট দেয়ারসহ নানা অভিযোগে  তিনি কয়েক বছর আগে যশোর শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষক হিসেবে বরখাস্তও হন। সেই সময় অভিযোগ গুলো বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ৯৫৮/১ স্মারকে আবুল বাসারের বিরুদ্ধে ভূয়া ফলাফল সংক্রান্ত অভিযোগে জড়িত থাকায় ৫ বছরের জন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক পরিচালিত সকল প্রকার কাজ থেকে বিরত রেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছিল। ওই শিক্ষকের ভয়ে শিক্ষার্থীরা আতংকিত। প্রভাষক আবুল বাসার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে প্রভাষক আবুল বাসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত হবে যে, তিনি নির্দোষ না দোষী। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে তার দাবি।