শ্যামনগর হাসপাতালটি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে


412 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
শ্যামনগর হাসপাতালটি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে
আগস্ট ২৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর :
এতদিন শ্যামনগরের স্বাস্থ্যসেবা ছিল সাড়া জাগানো। কয়েকজন গুনগত ও মান সম্মত ডাক্তার ইতিপুর্বে  মানুষের দৌড় গোড়ায় পৌছে দিয়ে স্বাথ্যসেবা কে আলোচনার শীর্ষে  নিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতিককালে এ স্বাথ্যসেবা কে ধ্বংসের দার প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য অব্যাহত ভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। এ ষড়যন্ত্রের মুল কারন হলো, ক্লিনিক ব্যবসা ,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কৃর্তৃক প্যাথলজি ব্যবসা আর হাসপাতালের ডিএস এফ ও নন ডিএসএফ অপারেশন সংক্রান্ত। এ সব জায়গা গুলোতে চলছে রমরমা বানিজ্য আর কমিশনের টাকা ভাগাভাগী। ভাগবাটার কারনে নিজেদের মধ্যে চলছে অন্তকলহ। এর জের ধরে ক্ষমতার প্রভাব আর মোটা টাকার বিনিময় নিজের অবস্থান শক্ত করতে অন্যকে সরিয়ে দিয়ে বহাল তবিয়্যাতে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর এর দায়ভার চলে যাচ্ছে সাধারন নিরহ মানুষের উপর।

ভোগান্তীর পাশা পাশি ডাক্তার নামের কিছু মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে রোগী নামের সাধারন মানুষেরা। ইতিমধ্যে উপরোক্ত ষড়যন্ত্রের শিকারে পড়ে ডাঃ অভিজিৎ রায়, ডাঃ সুজিত রায়, টিএইচএ ডাঃ সন্তোষ কুমার, ও অবশেষে এক মাত্র এ হাসপাতালে থাকা এনেসথিসিয়ার ডাঃ আশরাফুল আলমকে সুন্দরবন উপকুলীয় শ্যামনগর থেকে বিদায় নিতে হলো। শ্যামনগর হাসপাতালের মানসম্মত স্বাথ্যেসেবার কারনে, খুলনার কয়রা, কালিগন্জ ও শ্যামনগর উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবনের সবচেয়ে দুঃসময়ে এখানে ছুটে আসতেন আর এক মুখ হাসী নিয়ে ফিরে যেতেন  নিজ আশ্রয় স্থলের কুড়ে ঘরে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত ভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের সাড়ে চার লক্ষ মানুষ নয় দক্ষিনান্ঞলের লক্ষ লক্ষ মানুষ চিকিৎসা ভোগান্তির মধ্যে পড়বে।

শ্যামনগরের দরিদ্র অসহায় মানুষেরা সাতক্ষীরা- ৪ আসনের মাননীয় এম পি এস এম জগলুল হায়দার মহোদ্বয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। পদাধিকার বলে শ্যামনগর তথা কালিগন্জের লক্ষ লক্ষ মানুষের অভিভাবক ও শ্যামনগর হাসপাতালেরর স্বাথ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন, জাতীয় সাংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। তাই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে সাধারন মানুষ সর্বাধিক চিকিৎসা পেতে পারে সে লক্ষে সকল পেশার মানুষ তার জরুরী ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে গত রোববার শ্যামনগর হাসপাতালে ডাক্তারের চিকিৎসার অবহেলার কারনে মারা গেল চার বছরের শিশু তাহেরা পারভীন। সে উপজেলার মুন্সিগন্জ ধানখালী গ্রামের গোলাম মোস্তফার কন্যা।রোগী পক্ষের অভিযোগ জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তার না থাকার কারনে শিশু তাহেরা পারভীন মারা গেছে। এঘটনা কে কেন্দ্র করে সারা উপজেলা জুড়ে চলছে চরম উত্তেজনা। হাসপাতালের এ করুন চিত্র মানুষের সহ্যের বাধ ভেঙ্গে দিয়েছে।এদিকে শিশু তাহেরা নিহত হওয়ার ঘটনায় রোগী পক্ষ আর হাসপাতালে পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ড ও উত্তেজনা কর পরিবেশের কারনে জরুরি বিভাগ,প্যাথলজি সহ অন্যান্য বিভাগ কিছুক্ষন বন্ধ থাকলেও পুলিশি উপস্থিতিতে স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় জনতা এসময় এর প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভুক্তি জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা এসময় ডাক্তারদের অবহেলার কারনে প্রতিনিয়ত রোগীর মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবী করে। এসময় তারা স্বাথ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ( টিএইসএ)ডাঃ খান হাবিবুর রহমান ও আ র ম ডাঃ স্বপ্না রানীর অপসারন দাবী করে।
এদিকে নিহত শিশু তাহেরার বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন,আমার কন্যার কয়েকদিন ধরে জ্বর ছিল। সে কারনে  রোববার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর কোন ডাক্তার ছিলনা। তখন জরুরি বিভাগের দ্বায়িত্বে ছিলেন,হাসপাতালের আ র ম ডাক্তার স্বপ্না রানী। তিনি বলেন,ডাক্তার না থাকার কারনে আমার মেয়ে মারা গেছে। জরুরি বিভাগে অবস্থানরত প্যারামেডিক্যাল ম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন,এসময় ডাক্তার স্বপ্না রানীর ডিউটি  ছিল। তিনি পাশের রুমে ছিলেন।এদিকে ডাঃ স্বপ্না রানীর বক্তব্য নেয়ার জন্য কয়েকবার মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিফ করেননি।
শ্যামনগর হাসপাতালে স্বাথ্য ও পঃ কর্মকর্তা ডাঃ খান হাবিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার সংকট চলছে দীর্ঘ দিন ধরে, মাত্র ৫ জন ডাক্তার নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। রোগীর লোকজন ডাক্তারদের লান্ঞিত করেছে। আমার ডাক্তাররা আন্তরিক ভাবে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করে থাকে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসার মান অনেক ভাল।  শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, নারী শিশু আদালতের বিশেষ পিপি ও স্বাথ্য কমিটির সদস্য এড জহুরুল হায়দার বাবু বলেন,গত তিনদিন আগে আমি নিজে হাসপাতালে গিয়েছিলাম অসুস্থতার কারনে। কিন্ত একটি ইনজেকশন দেয়ার জন্য আমি জরুরি বিভাগে দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করেছিলাম। তারপরও কোন ডাক্তার না পেয়ে আমার নিজ ড্রাইভারকে পাঠিয়ে বাসা থেকে ডাক্তার আনতে হয়।হাসপাতালের এ অবস্থায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন,আমার বেলায় যদি এই হয়, তাহলে সাধারন রোগীরা কি পরিমান হয়রানী হয়ে থাকে।  তিনি বলেন,কর্মরত ডাক্তাররা সর্বক্ষন প্যাথলজি ও ক্লিনিক নিয়ে পড়েছে আছে।হাসপাতালে টিএইসএ ডাঃ খান হাবিবুর রহমান নিজেই এ ব্যবসার সাথে জড়িত। যার কারনে অন্য ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিজেই উৎসায়িত করে থাকেন।তিনি হাসপাতালের প্রাচীরের গা গেসে ক্লিনিকের জন্য আলিশ্বান বিল্ডিং হাকিয়েছেন।তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের চাকুরী তার আর ভাল লাগছেনা।তিনি সর্বক্ষন ক্লিনিকে চিন্তা নিয়ে পড়ে আছেন।হাসপাতালের পরিতক্ত বিল্ডিংগুলোতে রাতদিন চলছে মদ গাজাখোর আড্ডা খানা। সে সব বিষয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই।এই হলে হাসপাতালে হযবরল অবস্থা। একের পর এক হাসপাতালের ব্যার্থহীন ঘটনায় শ্যামনগর আপামোর জনতা ফুসে উঠছে। যে কোন বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে শ্যামনগরের সচেতন মহল  সাতক্ষীরা- ৪ আসনের এমপি, স্বাথ্য দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।