সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : কালিগঞ্জে আ’লীগ নেতার উপর সন্ত্রাসী হামালার আট দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি


388 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : কালিগঞ্জে আ’লীগ নেতার উপর সন্ত্রাসী হামালার  আট দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিরাঞ্জন কুমার পালকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বানিহীর সদস্যরা। এঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দিলে গত আট দিনেও পুলিশ মামালা রেকড করেনি। উল্টো সন্ত্রাসীরা তাকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আ’লীগের পক্ষে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাশেদ বলেন, নিরাঞ্জন কুমার পাল মুজিব আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের রাজীনিতর সাথে যুক্ত হন। বিভিন্ন সময়ে যুবলীগ ও ওয়ার্ড আ’লীগের দায়িত্ব পালনের এক পর্যায় ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল সম্মেলনের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি ২ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে তিনি সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দলীয় সংগঠন পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আ’লীগের কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনাকালে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আ’লীগ নেতা শেখ রিয়াজ উদ্দিন সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা হাতে রাম দা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অর্তকিতে তার উপর হামলা চালায়। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে নিরাঞ্জন কুমার পালকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। এঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত  এজাহার দিলে গত ৮ দিনেও পুলিশ সেটি নিয়মিত মামলা হিসাবে গ্রহণ করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার নীলকন্ঠপুর গ্রামের মৃত নবীর আলীর ছেলে শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাসদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পর ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান  করেন। এক পর্যায় তিনি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি দলের ভিতর বিভাজন সৃষ্টি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। তার এই অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার পাশাপাশি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী ও দল বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারের মাধ্যমে পরবর্তীতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু সে এখনও তার পূর্বে স্বাভাব মোটেও পাল্টায়নি। নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এলাকায় একের পর এক অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে সে। তার নেতৃত্বে চলা আওয়ামী লীগ নামধারী কতিপয় মুখোশধারী সন্ত্রাসীর কারণে দলের ভাবমূর্তি দারুন ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এলাকার জামায়াত-বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে চাঁদাবাজী, ঘের দখল, জমিদখলসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে এলাকার সাধারন মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না। নির্বিচারে তার অত্যাচার সহ্য করে চলেছে তারা।

তিনি আ’লীগ নেতা নিরাঞ্জন কুমার পালের দেয়া এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করে সন্ত্রাসী রিয়াজ উদ্দিন ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।