সংবাদ সম্মেলনে দাবী : মিঠু মেম্বরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা


416 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদ সম্মেলনে দাবী : মিঠু মেম্বরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা
জুলাই ২৩, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমার চাচী ফরিদা বেগম ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউপি সদস্য মিঠু ও আমাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সামনে যে সব অভিযোগ উপস্থাপন করেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন, সদর উপজেলার ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দীন সরদারের ছেলে ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ইং ২২/০৭/২০১৭ তারিখ  শনিবার আমার সাবেক চাচী ফরিদা বেগম সাংবাদিকদের সামনে যে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বিগত ১০ বছর ধরে আমার আপন চাচা আফিল উদ্দীন মারা যাওয়ার পর থেকে ফরিদা বেগম আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা আমাদের বসত ঘর ও ভিটে-বাড়ির জমি দখল করারও চেষ্টা করে। আমরা বড়খামার গ্রামের অত্যন্ত অসহায় গরীব মানুষ। বিলীন ও ভিটে-বাড়ির ৮৪ শতক জমি নিয়ে ফরিদা বেগমের সাথে আমাদের বিরোধ চলছিল। আমার চাচা মারা যাওয়ার পর বিরোধপূর্ন জমির ওয়ারেশ হয় চাচাতো ভাই আদম আলী ও বোন শাহানাজ পারভীন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বামীর স্বত্ব হিসাবে ফরিদা বেগম ২ আনা সম্পত্তির দাবীদার। কিন্তু ইতিমধ্যে তা নষ্ট হয়ে গেছে। তার কারন, আমার চাচা মারা যাওয়ার পর চাচী এরই মধ্যে ২ বার বিয়ে করেছে। প্রথম বিয়ে করে বড়খামার গ্রামের মোঃ মোহর আলী কারিকরের পুত্র আব্দুল আলিমের সাথে। এই আলিমকে ধর্ম ছেলে বানিয়ে শেষ পর্যন্ত তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু গ্রামের লোকের চাপের মুখে এই বিয়ে বেশি দিন টিকেনি। বর্তমানে যার সাথে বিবাহ করে আমার চাচার বাড়ীতে অবস্থান করছে সেই স্বামী একজন ট্রাক ড্রাইভার ও মাদকাসক্ত। এ ছাড়া জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে উভয়পক্ষের ৬টি ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা রয়েছে। দেওয়ানী মামলায় আমরা ২০১৫ সালে রায়ও পেয়েছি। আমার আর এক চাচার নাম ছিল কফিল উদ্দীন সরদার। এই চাচা নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়। কিন্তু আমার সুচতুর চাচী ফরিদা তার স্বামী আফিল উদ্দীনকে কফিল উদ্দীন বানিয়ে সম্পত্তির দাবী করে। এই ঘটনায় আদালত সমস্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু কিছুতেই এই রায় না মেনে আমার চাচী আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দাযের করে। আমাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগও দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত  হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান ইউপি মেম্বার ও সাংবাদিক রেজাউল করিম মিঠু নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বড়খামার জামে মসজিদে একটি জুম্মার নামাজে উপস্থিত মুসল্লীদের কাছে প্রস্তাব রাখে, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে জমি-জায়গা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আমাদের এই বিরোধ মেটানো হবে। এলাকার মানুষ এতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দেয়। আমরা দুই পক্ষই তাতে রাজী হই। সেই মোতাবেক গত ইং ১৭/০৬/২০১৬ তারিখে ব্রহ্মরাজপুর ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের হল রুমে আপোষ-মিমাংশার জন্য বসাবসি হয়। এতে চেয়ারম্যান, মেম্বার, বাজার কমিটির লোকজন, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে এক শালিসি বৈঠকে আমাদেরকে আদম আলী গং ৫ কাঠা জমি ছেড়ে দেবে ও যার যার মামলা-মোকদ্দমা নিজ খরচে প্রত্যাহার করা হবে বলে সর্বসম্মতক্রমে আমরা একমত হই। সবাই এটা মেনে নিয়ে আপোষনামায় সহি-স্বাক্ষর করা হয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উক্ত আপোষনামায় স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে এই আপোষনামা তারা না মেনে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে। এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তা মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়। আপোষ নিয়ে তাদের দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত স্থলে মিঠু মেম্বার সত্য ঘটনা তুলে ধরায় তারা মিঠু মেম্বারের উপর চরম নাখোশ ও ক্ষুদ্ধ হয়।
তিনি আরো জানান, মিঠু মেম্বারের এক ভাইজির অপহরনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আদম আলী ও আব্দুল হাইয়ের নামে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা হয়। পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার জেরে আমার চাচী মিঠু মেম্বারকে চাঁদাবাজ বানিয়েছে। এলাকার একটি কুচক্রীমহলের ইন্ধনে তারা তাদের অপরাধ ঢাকতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে বলে তিনি দাবী করেন। তাই প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বিষয়টি সরজমিনে তদন্তের জন্য প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কামরুল ইসলামের মা আনোয়ারা খাতুন, বড়বোন মমতাজ খাতুন, বড়খামার গ্রামের কোরামত আলী কারিকর, কালাম কারিকর, তাছলিমা খাতুন, কামাল উদ্দীন, রমজান আলী, সামছুর রহমান প্রমুখ। ##