সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে কোন গণতন্ত্র নেই : খুলনায় এরশাদ


423 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে কোন গণতন্ত্র নেই : খুলনায় এরশাদ
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা প্রতিনিধি :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশে এখন প্রাণহীন গণতন্ত্র চলছে। সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে কোন গণতন্ত্র নেই। দখলবাজ ও টেন্ডারবাজদের দখলে চলে গেছে দেশ। সুশাসন নেই। সবার কাছে বন্দুক-পিস্তল। গরুর হাটে গোলাগুলি হয়, প্রতিবাদ করার কেউ নেই। মিডিয়ায় সত্য বলার সুযোগ নেই। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রন করে আসছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনি আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেয়ার আহবান জানান।

সোমবার দুপুর ২টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে খুলনা জেলা শাখার আহবায়ক ও এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় সভাপতিত্ব করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, দেশের মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট  হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতিত হচ্ছে। বিচারকার্য বিলম্ব হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপরাধীরা শাসক দলের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, জাপাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গ্রামঅঞ্চলে আবার ছুটেছি। মানুষের মুখে আবার হাসি ফুটাতে তিনি জাপাকে নির্বাচিত করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, আমি দলীয়করণে বিশ্বাস করি না, আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। আমি বিচারকদের কাজে হস্তক্ষেপ করিনি। বেসিক ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, সে টাকা উদ্ধার হয়নি। এখনও হলমার্ক কেলেঙ্কারীর হোতাদের গ্রেফতার করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচার হলে কেউ তার প্রতিবাদ করলে অর্থমন্ত্রী রসিকতা করেন। তিনি সরকারেরর সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় থেকে তারা  অন্ধ হয়ে গেছেন। তারা অন্যায় দেখতে পায় না। তিনি আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুলনাবাসীর সমর্থন চান।

ক্ষমতায় যেয়ে গণতন্ত্রের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এরশাদ বলেন, খুব শীঘ্রই ইলেকশন ক্যাম্পেনইংয়ে বের হব। গেল তিন মাসের আন্দোলন অনেক গাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে। জ্বালাও পোড়াও নৈরাজ্যের রাজনীতি জনকল্যান বয়ে আনতে পারে না। তিনি জেলা শাখার সভাপতি পদে শফিকুল ইসলাম মধুকে পুণরায় মনোনীত করেন।

জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ক্ষুধা দরিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পার্টি আত্মপ্রকাশ করে, এরশাদ তার সফল বাস্তবায়ন করেন। জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করার জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায়। এইচএম এরশাদ ৬৮ হাজার গ্রামে  শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার ৯ বছরের উন্নয়নের রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারেনি। বিভিন্ন সময়  উন্নয়নের নামে গ্রেনেড সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজি চলেছে। দেশবাসী দু’ নেত্রীর হাত থেকে মুক্তি চায়।

সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ’৮২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের দু’ বছর পর হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচন দিতে চেয়েছিলেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ’৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচন হয়। ৯ বছর জাতীয় পার্টি দেশবাসীকে সেবা করেছে, উপজেলা সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করেন। উপজেলা সৃষ্টি করে প্রশাসনকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। এ  প্রশাসন সাধারণ মানুষের কল্যান বয়ে আনে।

উদ্বোধনী পর্বে কয়রা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শফিকুল ইসলাম ঢালী আগামী নির্বাচনে মহাজোটের কাছে খুলনা-৬ আসনের জাপার প্রার্থী মনোনয়নের দাবি করেন। তিনি বলেন, কয়রা উপজেলার ৬৭টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়নে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ ও ৮৮ সালের নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে জাপার প্রার্থী মরহুম মোমিন উদ্দিন আহমেদ ও সরদার জহুরুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রসিডিয়ামের সদস্য, কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর রহমান, প্রেসিডিয়ামের সদস্য তাজ রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুব সংহতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবুল হোসেন। বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় যগ্ম মহাসচিব, জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির  আহবায়ক শফিকুল ইসলাম মধু, শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, সাবেক সংসদ সদস্য একেএম মোক্তার হোসেন, জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান, মহানগরী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুজিবর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য জহুর আলী মোড়ল, মৎস জীবী পার্টির সভাপতি সোমনাথ দে, ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ জমাদ্দার, পাইকগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি মোাস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, কয়রা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শফিকুল ইসলাম ঢালী, দাকোপ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন সাব্বির, বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখার সভাপতি মো: মোতওয়াল্লি, রূপসা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব খান টিপু, দিঘলিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই জেলা শাখার সর্বশেষ সম্মেল অনুষ্ঠিত হয়। শফিকুল ইসলাম মধু ও হাদিউজ্জামান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।