সতক্ষীরায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা, কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও


135 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সতক্ষীরায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা, কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও
জানুয়ারি ২৭, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

ক্রমাগত সমস্যাসহ কম দামে গম বিক্রি হওয়ার কারণে চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার চাষীরা। অথচ শীতকাল হচ্ছে গম ফলনের উপযুক্ত সময়।

বিগত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গমের জমিতে ছত্রাকবাহী ব্লাস্ট’ রোগের সংক্রমণ শুরু হয়।

এ রোগের কোন প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্ত জমির গম অতি দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি কিছু জমির গম ক্ষেত আগুনে পুড়িয়েও ফেলতে হয় এসব কারণে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাটি আর বর্তমান আবহাওয়া উপযোগী না থাকায় ও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ফলন কম হওয়ার কারণে গম উপজেলায় মাত্র ১৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কৃষকরা মনে করেন গম চাষের চেয়ে অন্য ফসল চাষ করে তুলনা মূলক ভাবে অনেক লাভ হয়।সে জন্য গমের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষ করছেন। উপজেলার খলিলনগর হাজরাকাটি, দোহার, মাগুরা আগোলঝাড়া গ্রামে স্বল্প পরিমানে গমের চাষ দেখা গিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা যায়, তালা উপজেলায় ২০১৬ সালে ২০৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। ২০১৭ সালে ২০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়। ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ক্রমন্বয় কমে এসে দাঁড়ায় ১৭৫ হেক্টর জমি। এভাবে কমতে শুরু করেছে গম চাষের আবাদ।
হরিশ্চন্দ্রকাটী গ্রামের মো. ইসলাম হোসেন বলেন, তালা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে গমের বীজ ফ্রি দিয়েছে আমি ৩৩ শতক জমিতে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গম চাষ করেছি বর্তমানে আমার ফসলের অবস্থা খুব ভালো আবহওয়া স্বাভাবিক থাকলে ও ছত্রাকবাহী ব্লাস্ট’ রোগের আক্রমণ না হলে ভালো ফলন পাবো-ইনশাআল্লাহ।

কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন-আমি সরকারি সহযোগিতা ১৫ শতক জমিতে গম চাষ করেছি জমিতে এসে ফসল দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। আগামী বছরে আমি সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বেশি জমিতে গমের চাষ করবো।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে কৃষকরা বলেন, বর্তমানে বাজারে এক কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকা, এক কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৫-২৬ টাকা। বাজারে আটার দাম কম থাকায় গমের আবাদ দিন দিন ছেড়ে দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন বলেন, সর্বশেষ তথ্য মতে এবার ১৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। আমরা প্রদর্শনী প্লট করে কিছু কিছু চাষিদের সার ও গমের বীজ বিনামূল্যে প্রদান করেছি। তাছাড়া এ বছরে গম চাষের উপর কৃষকের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা, সহায়তা কৃষকদের মাঝে প্রদান করা হবে।