সদরের বিনেরপোতায় চলছে খালের সরকারি জমি অবৈধ দখলের মহৎসব : দেখার কেউ নেই !


631 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সদরের বিনেরপোতায় চলছে খালের সরকারি জমি অবৈধ দখলের মহৎসব : দেখার কেউ নেই !
এপ্রিল ১৬, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

খন্দকার আনিসুর রহমান ::
সাতক্ষীরা সদরের  বিনেরপোতা এলাকায় চলছে  খালের সরকারি জমি অবৈধ দখলের মহৎসব। সরকারি জমি অবৈধ ভাবে দখল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্যের নিকট বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার  বিনেরপোতা বেইলী ব্রীজের পশ্চিম পাশে কাটাখাল (শালিখা খাল) অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে দখল বুঝে নিয়ে পাকাস্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে একটি মহল।

সাধারণ মানুষের নজর এড়াতে সেখানে অবশ্য অবলম্বন করা হয়েছে অভিনব কৌশল। স্থাপনার সামনে রয়েছে কাঠের তৈরি কয়েকটি নতুন দোকান। আর পিছনে দিব্বি স্থাপনার কাজ তর তর করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ওই স্থাপনার মালিক একই এলাকার গণেশ, লক্ষণ ও সন্তোষ ডাক্তার। গণেষ, লক্ষণ ও সন্তোষ মালিক হলেও দখল কাজের সর্বাত্মক সহযোগিতায় রয়েছে ভূমিদস্যু জিয়া, মান্নান ও হাবলু নামের ৩ ব্যক্তি। উক্ত ব্যক্তিরা অত্র অঞ্চলের জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত।

তাদের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ আতংকিত। তারা শুধু খাল দখল করে ক্ষ্যান্ত থাকেনি, প্লট আকারে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রিও করেছেন।

ইতোপূর্বে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সাবান আলী ও তার পরিবারকে তার দখলীয় সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টায় মারপিটের ঘটনা ঘটিয়েছে ইতিপূর্বে জিয়া, মান্নান, হাবলুসহ কতিপয় ব্যক্তি। এতে মুক্তিযোদ্ধা সাবান আলী ও তার ২ ছেলে মারাত্মক ভাবে আহত হয়।

যা বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়। এঘটনায় তৎকালিন সদর সহকারি কমিশনার(ভূমি) মুক্তিযোদ্ধা সাবান আলীর জমি বুঝিয়ে দিলেও পরবর্তীতে ওই জমি পুনরায় অবৈধ ভাবে দখল করে জিয়া বাহিনী।

উল্লে¬খ্য উক্ত জিয়া বিএনপি থেকে পাল্টি খেয়ে কিছুদিন পূর্বে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। তাকে দলে নেওয়ার কারণে অত্র এলাকার অনেক পোড় খাওয়া আওয়ামীলীগ কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এদিকে একের পর এক অবৈধ ভাবে সরকারি জমি নদী, খাল অবৈধ  দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে ওই খালের উপরে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে স্থাপনার মালিক গণেশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার ভাই লক্ষণ সব জানে। লক্ষণের ফোন নাম্বার চাইলে তিনি তার কাছে নেই বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে সদর ভূমি অফিসের নায়েব কান্তি লালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

তারপরে কি অবস্থায় আছে সেটি আমাদের জানা নেই। তবে যদি তারা আবারো কাজ শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
##