সফল মৌসুমের গল্প


406 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সফল মৌসুমের গল্প
আগস্ট ৫, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

২০১৪-১৫ মৌসুমের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে হারতে হয়েছিল। এর পরই সব ভোজভাজির মতো পাল্টে গেল। কী দারুণ একটা মৌসুমই না শেষ করল বাংলাদেশ! ২০১৫ সালটা তো গেল স্বপ্নের মতো। গত একটা বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা সময় গেছে। শুধু দলীয় সাফল্যেই নয়, এ সময়েই বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে তার ভবিষ্যতের জীয়ন কাঠিও_ উঠে এসেছেন সাবি্বর, সৌম্য, মুস্তাফিজ, তাইজুল, জুবায়ের ও লিটনের মতো নতুন তারকা। চলুন ঘুরে আসি এই সময়ে…

ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যর্থতা ]
ক্যারিবিয়ান মাটিতে ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। একমাত্র টি২০ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এর পর সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ মুশফিকুর রহিমের দল। টেস্ট সিরিজ হারলেও বাংলাদেশ তাইজুল ইসলামের রূপে দারুণ একজন বাঁহাতি স্পিনার পেয়ে যায়। অভিষেকেই তাইজুল ইনিংসে ৫ উইকেট নেন। এই সফরের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের হয়ে কাজ শুরু করেন শ্রীলংকান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এই সফরের পর পরই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে অভিজ্ঞ মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দ্বিতীয় মেয়াদে দেওয়া হয় নেতৃত্বভার।

জিম্বাবুয়ে ‘অলওয়াশ’

জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশে সফর করে গত অক্টোবর-নভেম্বরে। এবারই বাংলাদেশ ঘরের মাঠে প্রথম ও সাকল্যে তৃতীয়বার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে। তিনটিতেই জয়ী হয়ে ওয়ানডের জন্য বেশ ভালো রসদ নেয়। টেস্ট সিরিজের নতুন আবিষ্কার হন লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন। নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা পুরো দলের খলনলচেই যেন পাল্টে দিলেন। বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের শক্তির তারতম্যটা বুঝিয়ে দিল। বিশ্বকাপের আগে এটাই ছিল বাংলাদেশের শেষ ওয়ানডে সিরিজ। তাই বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে এই সিরিজে পরীক্ষা করা হয়। উঠে আসেন হার্টহিটার ব্যাটসম্যান ও দুর্দান্ত ফিল্ডার সাবি্বর রহমান। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অভিষিক্ত সৌম্য সরকার ২০ রানের এক ছোট্ট ইনিংস খেলেই বিশ্বকাপগামী দলে জায়গা করে নেন। এ ম্যাচে অভিষেকেই হ্যাটট্রিকসহ ১১ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পরও অবশ্য কম্বিনেশনের কারণে বিশ্বকাপে যাওয়া হয়নি তাইজুল ইসলামের।

স্বপ্নের বিশ্বকাপ
২০১৫ সালের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মাধ্যমে। ২৪ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিল মাশরাফি বাহিনী। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে বিশ্ব দেখেছিল নতুন বাংলাদেশকে। এটাই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যায়িত। গ্রুপ পর্বে ছয় ম্যাচের তিনটিতে জিতে এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে টাইগাররা। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারানোর পর নিউজিল্যান্ডকেও প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ আম্পায়ারদের ভুলে ভারতের কাছে হেরে আসর থেকে বিদায় নেয়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নতুন করে খুঁজে পায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন তিনি। মুশফিকুর রহিম ছিলেন দুর্দান্ত ধারাবাহিক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ দুটি ‘শেষ বল’ করে নায়ক বনে যান বিশ্বকাপের আগে ব্যক্তিগত জটিলতায় পড়া পেসার রুবেল হোসেন। দারুণ ব্যাটিং করে আস্থার প্রতিদান দেন সৌম্য সরকার। মাশরাফি-তাসকিনের ‘চেস্ট বাম্প’ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা উদযাপনের অংশ হয়ে যায়।—সুত্র সমকাল অনলাইন।