সব রোগের গুরু দুশ্চিন্তা


534 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সব রোগের গুরু দুশ্চিন্তা
আগস্ট ১৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
দুশ্চিন্তা এখন সবার জীবনেরই যেন একটি অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু সহজ উপায় জানলে আপনি খুব সহজেই দুশ্চিন্তাকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মানুষ কেন দুশ্চিন্তা করে? এর পেছনে থাকে লাখো কারণ, কিন্তু দুশ্চিন্তা কি তার সমাধান করে দেয়? আসলে এর উত্তর হচ্ছে না। দুশ্চিন্তার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক গোলক ধাঁধায় পড়ে পথ হারিয়ে ফেলে আর এর প্রভাব পড়ে জীবনের অন্য সব কাজকর্মে।

আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি দুশ্চিন্তাকে জয় করবেন। বর্তমানে দুশ্চিন্তার কারণে যেসব রোগ ত্বরান্বিত হয় তার মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম। কেউ কেউ বলেন, সব রোগের গুরু এই দুশ্চিন্তা। এদিকে হৃদরোগ হচ্ছে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বেশি ঘাতক। ১৫ বছর আগেও এমন একটা ধারণা ছিল যে, যদি একবার কারও এ রোগ হয় তাহলে রোগটি শুধু বেড়েই চলে। এমনটা মনে করা হতো যে, এটা হচ্ছে লাগাতার বেড়ে চলা এক রোগ। বেশ কয়েক দশক আমরা এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাগাতার বেড়ে চলতে দেখেছি। বিরাট সংখ্যায় লোকদের হার্টঅ্যাটাক হয় আর তাদের এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা যায়। ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে এটা জানা যাবে যে, এ রোগের মুখ্য কারণ হচ্ছে হৃদয়ের ধমনীগুলোয় জমে থাকা ফ্যাটের অর্থাৎ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগিস্লারাইডসের লাগাতার স্থায়ী রূপে জমা হওয়া আর এই জিনিসটাকে আমরা নিজেদের আধুনিক জীবনশৈলী দ্বারা আরও বাড়িয়ে তুলেছি।

আমরা শারীরিক পরিশ্রম করা এখন প্রায় বন্ধই করে দিয়েছি। সুতরাং আমরা যে তেল, ঘি বা অন্য ফ্যাট দিয়ে তৈরি খাবার খাই, সেগুলোকে আমাদের শরীর পূর্ণরূপে প্রয়োগ করতে পারে না। অনুপযুক্ত এবং অতিরিক্ত ফ্যাট, অন্য তত্ত্বগুলোর সহায়তায়, যেমন আধুনিক জীবনের চাপ, ধূমপানের অভ্যাস এবং এরকমই আরও অনেক কারণে শরীর আর হৃদয়ের ধমনীগুলোয় জমা হতে শুরু করে, যার ফলে হৃদয় রোগের উৎপত্তি হয়। একটা ভালো খবর হচ্ছে- আমরা নিজেদের জীবনশৈলীতে ছোটখাটো সঠিক পরিবর্তন নিয়ে এলে বেড়ে চলা হৃদয় রোগকে আটকাতে পারব তাই নয়, তার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমাতে পারব। এ কথা বলা যায় যে, এখন ফ্যাট আর কোলেস্টেরল, যেগুলো হৃদয়ের ধমনীগুলোয় রক্তের প্রবাহকে বাধা প্রদান করে সেগুলোকে সরানো যেতে পারে। এ লক্ষ্যে নতুন যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি এগিয়ে চলেছে সেগুলোর মধ্যে হলিস্টিক অন্যতম। এ চিকিৎসায় রোগী নিজেই চিকিৎসক, ডাক্তার শুধু নিমিত্ত। তারা কেবল সঠিক নিয়ম এবং রোগীকে সুস্থ হওয়ার পথের সন্ধান দিয়ে থাকেন। তার আগে মন নিয়ন্ত্রণের জন্য চাই সঠিক উপায়ে মেডিটেশন। মানসিক চাপই মানুষের অসুখ ও অশান্তির অন্যতম কারণ। তাই মানসিক চাপ কমাতে হবে। এছাড়া মানুষের নিজের চিন্তাধারা মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। আজ আকাশে মেঘ দেখে আপনি ভাবতে পারেন যে আজ দিনটি ভালো যাবে না, কিন্তু আপনি তো এটাও ভাবতে পারেন যে আজ মজা করে বৃষ্টিতে ভিজব। আপনাকে শিখতে হবে কিভাবে আপনি নিজেকে আরও ভালো রাখতে পারবেন। সব সময় এমন মানুষের সঙ্গে মিশবেন যারা পজিটিভ চিন্তা করে, কারণ এতে আপনার অনেক উপকার হবে। আপনার চিন্তাধারাই আপনাকে রাখবে দুশ্চিন্তামুক্ত।

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।–সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন