‘সমকালের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন গোলাম সারওয়ার’


330 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সমকালের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন গোলাম সারওয়ার’
আগস্ট ১৮, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*সমকাল পরিবারের দোয়া-মাহফিল

অনলাইন ডেস্ক ::

সমকালের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন বরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমকালের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। এটা সমকাল পরিবারের জন্য অনন্য পাওয়া।

শনিবার সমকালের নতুন কার্যালয়ে দোয়া-মাহফিল পূর্ব আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।


আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব) এস এম শাহাবউদ্দিন, একুশে টিভির এডিটর ইন চিফ ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল ইসলাম বুলবুল, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাশ, হামীম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক তরুণ চক্রবর্তী ফিজু, সমকালের উপ সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত ও আবু সাঈদ খান, বার্তা সম্পাদক মশিউর রহমান টিপু, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, কবি ইকবাল হাসান, গোলাম সারওয়ারের ছোট ভাই গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জন। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হামীম গ্রুপের প্রধান ইমাম মওলানা আবু নাইম।


চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, সমকালের সহযোগী সম্পাদক সবুজ ইউনুস, নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি মাইনুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপ প্রেস সচিব নকীব উদ্দিন আহমেদ, গোলাম সারওয়ারের ছোট ভাই গোলাম হায়দার মীর্জা, কনিষ্ঠ পুত্র গোলাম সাব্বির অঞ্জন, জামাতা মিয়া নাইম হাবীবসহ সমকাল পরিবার, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর পরিবার এবং হামীম গ্রুপের কর্মকর্তরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

এ কে আজাদ বলেন, গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে অনেক স্মৃতি। তাকে হারিয়ে প্রকৃতপক্ষে একজন মুরুব্বিকে হারিয়েছি। সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার-এটা ছিল অত্যন্ত নির্ভরতার জায়গা। এ ছাড়া যখনই সংকটে পড়েছি, তখনই মুরুব্বি হিসেবে গোলাম সারওয়ারের মূল্যবান পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি বেঁচে থাকবেন তার অসাধারণ কর্মের মধ্যে।


মুস্তাফিজ শফি বলেন, সারওয়ার ভাই তার একাগ্রতা, কর্মনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং আদর্শের যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সে পথ ধরেই সমকালকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তার সহকর্মীরা। গোলাম সারওয়ার আমাদের বাতিঘর, তিনি সবসময় পথ দেখিয়েছেন, পথ দেখাবেন।

এস এম শাহাবউদ্দিন বলেন, গোলাম সারওয়ার শুধু বার্তা কক্ষে সংবাদ সম্পাদনা আর লেখালেখিতেই অনন্য ছিলেন না। মার্কেটিং, সার্কুলেশন, প্রশাসন সব বিষয়েই তিনি সমান জ্ঞান রাখতেন এবং যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সঙ্গে যারাই কাজ করেছেন তারাই তার অসাধারণ কর্মদক্ষতায় আলোকিত হয়েছেন, মুগ্ধ হয়েছেন।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, গোলাম সারওয়ার যখন যুগান্তর প্রতিষ্ঠা করেন তখন তিনি তার বার্তা সম্পাদক ছিলেন। শুধু তাই নয়, গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সুদীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ সত্যিকারের অভিভাবককে হারিয়েছে।

শাহ আলমগীর বলেন, পিআইবির চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সব সময় ভাবতেন। নতুন নতুন প্রশিক্ষণ কর্মশালা, গবেষণার জন্য পরামর্শ দিতেন। তার প্রেরণাতেই পিআইবি অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

জীবন কানাই দাশ বলেন, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে যোগ দেওয়ার পর তিনি গোলাম সারওয়ারের সান্নিধ্য পেয়েছেন। অনেক কাজের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সমকালে তিনি একটা মানদণ্ড দেখতে পান, যা অনেক বহুল প্রচারিত দৈনিকে দেখা যায় না। এটা গোলাম সারওয়ারের জন্যই সম্ভব হয়েছে। গোলাম সারওয়ারই দেশের সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোলাম সারওয়ারকে তিনি কাছ থেকে দেখেননি। কিন্তু সমকালের মাধ্যমে, সৃজনশীল সাংবাদিকতা দেখে তিনি গোলাম সারওয়ারের উচ্চতা সম্পর্কে জেনেছেন।

তরুণ চক্রবর্তী ফিজু বলেন, গোলাম সারওয়ার অনন্য সম্পাদক, বরেণ্য সাংবাদিক এবং ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি সবাইকে ভালবেসেছেন এবং ভালবাসা পেয়েছেন।

অজয় দাশগুপ্ত বলেন, গোলাম সারওয়ার শুধু সম্পাদক ছিলেন না, সাংবাদিকতার শিক্ষক ছিলেন। তার কাছে যারা সাংবাদিকতার দীক্ষা পেয়েছেন তারাও এখন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছে।

আবু সাঈদ খান বলেন, গোলাম সারওয়ার তার পুরো জীবন ব্যয় করেছেন সংবাদপত্রে, সংবাদ কক্ষে। তিনি সংবাদপত্রকে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। তার অসামান্য অবদান কেউ কখনও ভুলবে না।

মশিউর রহমান টিপু বলেন, তার বড় সৌভাগ্য এবং বেদনার যে তিনিই সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের শেষ বার্তা সম্পাদক। গোলাম সারওয়ার প্রতিটি সাংবাদিকের কাছে যেমন, তার কাছেও চিরদিনের বাতিঘর হয়ে থাকবেন।

মাহবুব আজীজ বলেন, গোলাম সারওয়ার ছিলেন একজন নিখুঁত অভিভাবক। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি গোলাম সারওয়রের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং কাজের সঙ্গে ছিলেন। সাংবাদিকতায় যা কিছু শেখা সবই গোলাম সারওয়ারের কাছ থেকে। এই মহান অভিবাবককে হারিয়ে যে বেদনা তা প্রকাশের ভাষা নাই।

কবি ইকবাল হাসান বলেন, গোলাম সারওয়ার সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সাহিত্যনুরাগী ছিলেন।


গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, তাদের বাবা-মা গোলাম সারওয়াকে দুলাল বলে ডাকতেন। বাবা-মায়ের সেই দুলাল, তার বড় ভাই এত বড় মানুষ হয়েছেন সেটা পরিবারের জন্য অনন্য পাওয়া। তিনি সবার কাছে গোলাম সারওয়ারের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া কামনা করেন।

গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু বলেন, গোলাম সারওয়ারের কাছে পরিবারের চেয়ে তার সংবাদ কক্ষ অনেক বেশি প্রিয় ছিল। বিশেষ করে সমকাল ছিল তার স্বপ্ন, ধ্যান-জ্ঞান। তিনি সমকালে এসে নিজের মত করে একটি রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছিলেন। এ কারণে তিনি সমকাল প্রকাশকসহ সমকাল পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গোলাম সারওয়ারের পরিবার সমকাল পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবে বলেও আবেগাপ্লুত কন্ঠে জানান তিনি।