‘সমাজ থেকে মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল করতে হবে’


227 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সমাজ থেকে মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল করতে হবে’
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা, খুলনা ॥
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ ও প্রশাসন) জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, মাদক কখনও আলোর পথ দেখায় না, একটি দেশের মূল চালিকা শক্তি তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। মাদক নির্মূল না হলে দেশের সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতি থমকে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। সরকারের এ ঘোষণার সাথে একত্বতাপোষন করে পুলিশের কেউ যাতে মাদকাসক্ত না থাকে এ জন্য পুলিশের মধ্যে কীটটেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাদকের মত বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যধি। একটি সুস্থ্য সবল জাতি ও উন্নত জনগোষ্ঠীর জন্য সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ নির্মূল করতে হবে। খেলাধূলার ব্যবস্থা করা সহ মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সচেতনতার উপর গুরুতারোপ করে সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি শুক্রবার বিকালে পাইকগাছা থানা চত্ত্বরে জেলা ও থানা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত মাদক, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ওসি মোঃ এমদাদুল হক শেখের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, পুলিশ পরিদর্শক শহিদুর রহমান, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এফএমএ রাজ্জাক, সহ-সভাপতি তৃপ্তি রঞ্জন সেন ও মোঃ আব্দুল আজিজ, কাউন্সিলর শেখ মাহবুবুর রহমান রনজু, আওয়ামী লীগনেতা জিএম ইকরামুল ইসলাম, আরশাদ আলী বিশ্বাস, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, যুবলীগনেতা শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, জগদীশ চন্দ্র রায়, প্রাক্তন শিক্ষক দীলিপ কুমার সানা, ছাত্রলীগনেতা পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী, মাওঃ শহিদুল ইসলাম ও ইমনা খাতুন। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ মেঘলা আকাশ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

#

পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদীর বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা; অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা, খুলনা ॥
পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। নদীর একটি অংশের কর্তৃত্ব নিয়ে মৎস্যজীবী সমিতি ও স্থানীয় এবিএম এনামুল হকের মধ্যে সম্প্রতি এ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এমনকি প্রশাসনকেও জড়ানো হচ্ছে বিরোধে। যে কোন মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষ ঘটতে পারে এমন আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবী নদীটি দীর্ঘদিনপর সমিতির অনুকূলে থাকায় এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করছিল। অতিসম্প্রতি এনামুল হক বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় এলাকা আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ ও প্রশাসন) জিএম আবুল কালাম আজাদ। উল্লেখ্য, উপজেলার গড়ইখালী, চাঁদখালী ও লস্কর ইউনিয়নের সীমন্তবর্তী ২৫১ একর আয়তনের মিনহাজ নদী (বদ্ধ জলমহল) রয়েছে। নদীটির বিরোধকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক বছর এলাকার মানুষ হামলা মামলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বিগত ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় উপজেলার গজালিয়া বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০২৫ সাল হতে ২০৩০ সাল মেয়াদে মিনহাজ নদী (বদ্ধ জলমহল) ইজারা গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে হস্তান্তর করার পর মৎস্যজীবী সমিতি ও তাদের লোকজন শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছে। পথিমধ্যে জলমহলের স্লুইচ গেট সংলগ্ন একটি অংশ নিয়ে স্থানীয় আমিরপুর গ্রামের এবিএম এনামুল হকের সাথে সমিতির বিরোধ সৃষ্টি হয়। দখল ও কর্তৃত্ব নিয়ে দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে। ফলে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। যার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে সরেজমিন জলমহল এলাকা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ। পরিদর্শন শেষে তিনি এলাকাবাসীর সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় সামাদ গাজী জানান, জলমহল সমিতির নিয়ন্ত্রণে থাকায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিনপর শান্তিতে রয়েছে। আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী জানান, রব ও এনামুল গংরা মিনহাজ নদী এলাকা অশান্ত করে তুলেছিল। মাঝে কিছুটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অবস্থান করলেও আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে। বাচ্চু মিস্ত্রী জানান, জলমহলটি কেন্দ্র করে আমার নামে ১৮টি মামলা হয়েছে। আমি এনামুলের কাছে এখনো টাকা পাইবো। অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন জানান, ইতোপূর্বে অসংখ্য মামলার কারণে এলাকার গরীব মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আহম্মদ আলী মিস্ত্রী জানান, এনামুল শুধু সাধারণ মানুষকে নয় ইউএনও ও ওসির বিরুদ্ধেও মামলা করেছে। সে একজন মামলাবাজ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। জাহানারা বেগম জানান, দেড় বছরের মাসুম বাচ্চাকেও মামলার আসামী হতে হয়েছে। নার্গিস বেগম জানান, এলাকার অসংখ্য নিরিহ নারী এখনো মামলার ঘানি টানছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিধান জানান, এনামুলকে মামলা পরিচালনার জন্য পাওয়ার নামা দেওয়া হয়। পরিবর্তীতে তার কার্যক্রম সন্তোষ জনক না হওয়ার পাওয়ার নামা বাতিল করা হয়। সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব অহেদুজ্জামান জানান, জলমহলটি বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে সরকার কর্তৃক ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই সমিতির মাধ্যমে জলমহলটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে এনামুল এসে এলাকার পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে। জলমহলে তাহার কোন কর্তৃত্ব নাই। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, সমিতির লোকজন এক সময় এনামুলকে জলমহলের কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করেছিল। আবার সমিতির লোকজনই তাকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে মিনহাজ নদী সংক্রান্ত আমাদের নির্দেশনা ছাড়া থানায় অহেতুক আর কোন মামলা হবে না। এলাকার মানুষ কেউ যাতে হয়রানী না হয় এ জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে পুলিশের উর্দ্ধতন এ কর্মকর্তা জানান।