সমাজ বিনির্মাণে আলোকবর্তিকা ডাঃ ওহাব !


674 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সমাজ বিনির্মাণে আলোকবর্তিকা ডাঃ ওহাব !
মার্চ ১, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা::
আমীর-ফকির, ধনী-গরীব, মুটে-মজুর, রাজা-প্রজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়েই আমাদের সমাজ। এর মধ্যে কেউ শাসক কেউ শোষক। কেউ ভোগ করছে কেউ ত্যাগ করছে। কেউ নিরবে নিঃভৃতে সমাজ বা দেশটাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় রত, কেউ বা আবার ভুতের মত পিছনে টানছে।

এর মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে এই সমাজ ও দেশ। তবে যে কোন পেশায় থেকে সেই ব্যক্তি সমাজ তথা দেশকে এগিয়ে নিতে পারেন, যদি কিনা তাঁর হৃদয়ে দেশ প্রেমকে লালন করতে পারেন। আর এমনই ব্যক্তিত্ব ডাঃ এস এম আব্দুল ওহাব যিনি সমাজ বিনির্মাণে আলোকবর্তিকার মত কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে নিঃভৃতে।

এসএম আব্দুল ওহাব সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার কাজলা গ্রামে ১৯৫৯ সালের ২০ মে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আবুল কাশেম ও মাতা মরহুম অভিরন্নেছার ৫ম সন্তান তিনি। আস্কারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর শিশুকালের লেখাপড়ার জীবন শুরু হয়।

তারপর ১০৭৫ সালে নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ম শ্রেণিতে মেট্রিক পাশ করেন যা ঐ সময়ে ছিল সমগ্র বোর্ডের মধ্যে ৪র্থ স্থান। এর মধ্যেই ওহাবের গুণাবলী প্রকাশ পায় শিক্ষক ও সহপাটিদের মাঝে। সাহিত্য চর্চায় হয়ে ওঠেন মনোযোগি। কবিতা গল্প লেখায় বেশ মনোনিবেশ করেন। তাঁর লেখাগুলো সাড়া ফেলায় সহপাটি ও পাঠকদের মাঝে।

তারপর এই তরুণ লেখক ভর্তি হন নড়াইল ভিকটোরিয়া সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ১ম শ্রেণিতে এইচ.এস.সি পাশ করেন এবং বোর্ডের মধ্যে ২য় স্থান করে নেন।

এর পর ১৯৮৪ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাশ করেন এবং মেডিকেল অফিসার হিসাবে প্রথম চাকুরীতে যোগদান করেন দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেক্সে। তারপর কবি-লেখক থেকে হয়ে ওঠেন একজন ডাক্তার। এর মধ্য থেকে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শুরু হয় তার সমাজ সেবা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০২ সালের জানুয়ারীতে এমডি কার্ডিওলজী উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। ২০১৩ সালে আমেরিকান কলেজ অব চেষ্ট ফিজিশিয়ান থেকে এম.এস.সিপি করেন। উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন যেমন ছিল তার নেশা, মানব সেবা আর সমাজ সেবাও হয়ে ওঠে তাঁর নেশা ও পেশা।

তিনি আবারও চলে যান মালদ্বীপে। সেখানে তিনি ইন্দ্রাগান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে সিনিয়র রেজিঃ কার্ডিওলজী হিসাবে প্রায় ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তারপর দিল্লি থেকে নন ইনভেসি কার্ডিওলজী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তিনি ঢাকা, খুলনা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সুনামের সাথে চাকরী করে আসছেন। মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ওহাব বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সহযোগি অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। যিনি প্রতি শুক্রবার সাতক্ষীরা সংগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেন।

এমনিভাবে ডাঃ ওহাব ভারত, মালদ্বীপ, কাতার, দুবাই, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্য। যেমন করেছেন উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ তেমনি করেছেন সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগ।

এতকিছুর মাঝেও তিনি রয়ে গেছেন কবি ভূবনে। বই পড়া, সাহিত্য চর্চা তাঁর পিছু ছাড়েনি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, স্মরণিকায় তাঁর বহু লেখা হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন প্রজন্মকে তিনি লেখার মধ্যে দেখিয়েছেন আলোর পথ। কোমল হৃদয়ের অধিকারী এই মানুষটির পথ চলা এসব সৃষ্ট কর্মের মধ্যে।

ডাক্তারী পেশায় থেকে মানবতাবাদী আব্দুল ওহাব জন্মভূমি থেকে চাকরি স্থল পর্যন্ত গরীব, দুখী, অসহায় ব্যক্তিদের প্রতি বছর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যান, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডাক্তারী পেশা যে সত্যিই একটি মহৎ সেবা, সেটি ডাক্তার ওহাবের সান্নিধ্যে গেলেই মানুষ বোঝে। শুধু তাই নয়।

এমন একটি পেশায় থেকে যে দেশ গড়ার জন্য, সমাজ বিনির্মানের জন্য কিছু করা যায়, তার উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন এই দেশ প্রেমিক ডাক্তার আব্দুল ওহাব। হয়ত তাঁর দ্বারা এসব সম্ভব হয়েছে যে, তিনি আখের গোছানোর জন্য ব্যস্ত থাকেন না, বা সম্পদশালী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান না।

কিন্তু নিজের অজান্তে তিনি যে মানবতাকে জয় করেছেন, দেশ প্রেমকে লালন করেছেন, মানুষের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকার পাথেয় অর্জন করেছেন সেটা হয়ত তিনি জানেন না। তাই মনীষীদের ভাষায়, এই হচ্ছে মহামানব!

ডাঃ আব্দুল ওহাব মানবসেবার, সমাজ সেবার বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন নিজ খরচে। তাঁর নিজ গ্রাম কাজলায় তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন আবুল কাশেম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাঁর আদর্শ পিতা মরহুম আবুল কাশেম ও মাতা মরহুম অভিরন্নেসা’র

নামানুসারে আবুল কাশেম অভিরন্নেসা জনকল্যাণ ট্রাস্ট, অভিরন্নেসা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মাদার কেজি এন্ড কলেজিয়েট স্কুল, বিশেষ করে এম.জে এফ বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলসহ সবমিলে প্রায় ১৯টি প্রতিষ্ঠান গড়েছেন তিনি। নলতায় খানবাহাদুর আহছানউল্লা

(রহঃ) ও আদর্শ শিক্ষক মরহুম দরবেশ আলী’র নামে প্রতিষ্ঠিত আহছানিয়া দরবেশ আলী মেমোরিয়াল ক্যাডেট স্কুলেও এই আলোকিত মানুষ ডাঃ ওহাবের অনুদানের ছোঁয়া লেগেছে। এমনিভাবে তিনি আলো জালিয়ে চলেছেন এ সমাজে। যে আলোর রশ্মি-জ্যোতি কতদূর পৌছাবে সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন।

ডাঃ আব্দুল ওহাবের পিতা মরহুম আবুল কাশেম ছিলেন একজন কৃষক। উদার ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসাবে সমাজে পরিচয় ছিল তাঁর। তিনি কৃষি কাজের মধ্য দিয়ে উত্তম আদর্শে মানুষ করতে চেষ্টা করেছিলেন সন্তানদের।

সেই স্বপ্ন সফল হয়েছিল বলেই আজ তাঁর ফল পাচ্ছে এ সমাজ উত্তম সন্তানের মারফত। ৩ কন্যার জনক ডাঃ ওহাব নিজের কন্যাদেরও তৈরি করছেন ডাক্তার হিসাবে এবং মানুষের সেবক হিসাবে।

তাদের মধ্যেও সমাজ সেবার বীজ বপন করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট তিনি, যাতে করে তাঁরাও পিতার মত একসময় এ সমাজে আলো জালিয়ে যেতে পারে।

সমাজ সেবায় যার এমন বিশালতা, সুদূরপ্রসারী চেতনা, সেই কাজের কৃতিত্বের জন্য ডাঃ আব্দুল ওহাব সরকারিভাবে ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজ কর্মী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও খুলনা বিভাগের বিদ্যোৎসাহী সমাজ কর্মী হিসাবে

তাঁর নামটিই থাকার কথা ছিল, কিন্তু সমাজে এমন অবদান না থাকলেও পিছনের দরজা দিয়ে সেই চেয়ারে বসেছেন অন্যজন। সমাজ সেবার অবদানে যোগ্যতার মাপকাঠিতে সোজাসুজিভাবে বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মীর স্থানটি অলংকৃত করার যোগ্যতা ছিল ডাঃ

ওহাবের, কিন্তু কাজ না করে পিছনের দরজা দিয়ে আসার বিষয়টি তিনি পছন্দ করেন না বিধায় বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মীর খাতায় তাঁর নামটি থাকল না। আর সেজন্য বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আশানুরূপ উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে হয়ত বঞ্চিত হল।

তবুও যেহেতু তিনি সমাজ গড়ার কারিগর, দেশ প্রেমিক সেহেতু বিভাগীয় ঐ পদ না পেলেও তাঁর অনুদানের হাত আর উন্নয়নের ছোাঁয়া থেমে নেই, থাকবেও না।

বন্ধুসুলভ ও সদালাপি এই মানুষটির কাছে হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণের কোন বিভেদ নেই। আর যিনি সৃষ্টের সেবক হন তাঁর মধ্যে এগুলো থাকারও কথা না। তাই তিনি কর্মস্থলে থেকেও যেন সমাজ বিনির্মানে আলোকবর্তিকার মতো আলো জ্বালিয়ে যেতে

পারেন, এমন দোয়া কামনা করেছেন তাঁর জ্বালানো আলোকচ্ছটা পাওয়া আপমর সর্বসাধারণ।
##