সম্ভাবনার হাতছানি


225 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সম্ভাবনার হাতছানি
অক্টোবর ১২, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর সামনে রেখে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক খাতে অনেক সম্ভাবনার হাতছানি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেও মনে করছেন তারা। বিশেষ করে ২৫টি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য খসড়া তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ছোট-বড় ২৫টি প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সমকালকে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এ সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈদেশিক নীতির দূরদর্শিতার স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের পহেলা নম্বর বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। শি জিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়বে। চীনের বাজারেও বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সুযোগ বাড়বে। অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও চীনের আর্থিক সহায়তা আরও বাড়বে। নানা মাত্রিকতাতেই চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফর হবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

চীনের দিক থেকেও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেও এ সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। গত সোমবার বেইজিংয়ে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং

জুয়ানিউ ঢাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে বলেছেন, এ সফর হবে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক। সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর হবে। চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র লু কাং একই দিন বেইজিংয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, চীনের একটি অগ্রবর্তী দল ঢাকায় গিয়ে ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় করে এরই মধ্যে সফর কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন চীনের প্রেসিডেন্টের ১৪ অক্টোবর সকালে ঢাকা পেঁৗছার অপেক্ষা।

এদিকে, গত সোম ও মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি, বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও গ্গ্নোবাল টাইমস চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর নিয়ে কয়েকটি সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গত ৩০ বছরের মধ্যে চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বেইজিং।

গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই করা হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চীনের প্রেসিডেন্টকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উষ্ণ অভিনন্দন জানাবেন। দেওয়া হবে লালগালিচা সংবর্ধনা।

ঢাকার আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সঙ্গে প্রকল্প সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ‘সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট’ বা ‘সরবরাহ ঋণচুক্তি’র আওতায় খুব বেশি সহায়তা নেওয়া হলে তার জন্য পরে অনেক বেশি ঋণের বোঝা মাথায় আসতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতিতে চীনের কাছে বাংলাদেশ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন এ অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব যেমন বাড়াতে চায়, তেমনি দক্ষিণ চীন সাগর তীরবর্তী বিশাল অঞ্চলের ওপর নিজেদের দাবির প্রতিও সমর্থন আদায় করতে চায়। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই চীনের সহায়তা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, এ মুহূর্তে পুরো বিশ্বই অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের প্রতি বেশ নির্ভরশীল। এ কারণে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

কূটনৈতিক গুরুত্ব :বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের গুরুত্ব বাংলাদেশের কাছে সমধিক। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেও বাংলাদেশের গুরুত্ব চীনের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান সমকালকে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর তীরবর্তী বড় একটি অঞ্চল চীন নিজেদের বলে দাবি করছে। এ দাবির প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সমর্থনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনও তারা আদায়ের চেষ্টা করবে। আর এ জন্যই ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ চীনের কাছে এ মুহূর্তে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ, দক্ষিণ চীন সাগর তীরবর্তী অঞ্চলের দাবি নিয়ে এসব দেশের সঙ্গে চীনের কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ এশিয়ায়ও নিজেদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাববলয় বিস্তার করতে চায়। এ ব্যাপারে ভারতের নীতি-অবস্থানের বিষয়টিও বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। চীনও সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই যতটা সম্ভব বাংলাদেশকে আপন বলয়ে রাখতে চায়।

ওয়ালিউর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীন সফর করার পর থেকেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর পর থেকে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় দৃঢ়। এ জন্য চীনের সহায়তার আকারও এখন অনেক বড় হচ্ছে। এবার চীনের প্রেসিডেন্টের সফর সামনে রেখে সে সহায়তার পরিমাণ আরও সম্প্রসারিত করার চেষ্টা নিশ্চয় থাকবে। সেখান থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর সমকালকে বলেন, চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। কারণ, কূটনীতিতে একটি দেশে আরেকটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সফর সাফল্য হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, চীন এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। এর আগে চীনের সহায়তায় অনেক বড় বড় প্রকল্প দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে বড় বড় প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাই হবে এখন মুখ্য। এ ছাড়া সরকারের হাতে বাস্তবায়নযোগ্য আরও বড় বড় প্রকল্প রয়েছে। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিবলয় গড়ে তোলার জন্যও সরকার বিনিয়োগকারী খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে কার্যকর সহায়তা পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, কূটনৈতিক সমীকরণে এ মুহূর্তে চীনের কাছে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতির দিক থেকে চীন একটু বেশি গুরুত্ব দিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা ভাবছে। বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের আরও বিনিয়োগ এবং সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ, বিশ্বে অবকাঠামো উন্নয়নে চীন একটি রোলমডেল। তিনি বলেন, সার্বিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্টের সফর বাংাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব :অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফর সামনে রেখে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ দেশে চীনের আরও বেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার বড় সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর মধ্য দিয়েই এই সফর থেকে বড় অর্জন সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সমকালকে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈদেশিক নীতির অসাধারণ সাফল্য। কারণ একই সঙ্গে ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি শেখ হাসিনার দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সম্ভব হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা উদ্যোক্তাদের বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়া হচ্ছে, যেখানে চীনের ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে বিনিয়োগ করতে পারবেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এ মুহূর্তে বিশ্বে এক নম্বর তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ চীন তৈরি পোশাক উৎপাদনে কিছুটা আগ্রহ হারিয়েছে। বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি পোশাক রফতানি করতে পারবেন। এর ফলে চীনে আরও বেশি পণ্য রফতানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২১টি প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে চুক্তি হবে। এর ফলে দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই খুবই কম। ফলে এখানে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এ জন্য চীন বিনিয়োগ করলে আমরা বেশি লাভবান হব। কাজেই প্রেসিডেন্টের সফরে আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বিনিয়োগে। এটা হলে উৎপাদন বাড়বে; কর্মসংস্থান হবে। আমাদের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি সহায়তার পরিমাণ পাইপলাইনে ২০ বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে চীন থেকে ঋণ নিতেই হবে_ এমন কথা নেই। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ঋণের সুদহার ২ থেকে ৩ শতাংশ। শর্ত থাকে কঠিন। কাজের মান খারাপ, পরিশোধের সময় কম। কাজেই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। শর্ত আরও সহজ ও শিথিল করতে দরকষাকষি করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রো চেম্বারের (এমসিসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, চীনের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু পাওয়ার রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশে আমাদের রফতানির সুযোগ কমে আসছে। সে ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার হতে পারে চীন। হতে পারে রফতানির বড় বাজার। এ জন্য চীনে রফতানি আরও বাড়াতে হবে। প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। কিন্তু এ সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কারণ, ওই তালিকায় রফতানিযোগ্য পণ্য খুবই কম। আয় বাড়াতে হলে আমাদের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পূর্বশর্তগুলো আরও সহজ করতে হবে। পণ্যের মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে শর্ত আরও শিথিল করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্পর্ক গভীর করতে হলে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে চীনকে। আমাদের চামড়া ও আইটি সেক্টরে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ করতে পারে চীন। আট ভাগ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য প্রচুর বিনিয়োগ দরকার বাংলাদেশের।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির বলেন, চীন আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে চীনের বাজারে রফতানি বাড়াতে হবে। বর্তমানে চীন আমাদের অনেক প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। আরও বিনিয়োগ দরকার। তৈরি পোশাক, চামড়া, আইটি সব খাতে চীনের অভিজ্ঞতা আছে। এসব খাতে বিনিয়োগ করতে পারে তারা।