সম্রাট-আরমান কারাগারে


84 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সম্রাট-আরমান কারাগারে
অক্টোবর ৭, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তার সহযোগী যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লার কারাগার পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত সোয়া আটটার দিকে সম্রাটকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কারাগার সূত্র জানায়, তাকে সাধারণ বন্দী হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে আরমানকে কুমিল্লার কারাগার পাঠানো হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, ১৪০টি ইয়াবা ট্যাবলেট রাখার দায়ে আরমানের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৭ এর এসআই সজীব মিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে শনিবার গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মদ্যপ ছিলেন সম্রাট ও আরমান। তাদের কাছে বিদেশি মদ ছিল। এ কারণেও ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ছয় মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেন।

গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে সংগঠন থেকে সম্রাট ও আরমানকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তার হেফাজতে থাকা দু’টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়া গেছে। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাকে এ ঘটনায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই কার্যালয়ে অভিযানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মদ, ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

একই সময়ে র‌্যাব সদস্যরা পৃথকভাবে সম্রাটের মহাখালী ডিওএইচএস ও শান্তিনগরের বাসায় অভিযান চালান। এছাড়া আরমানের মিরপুরের বাসায়ও অভিযান চালানো হয়।

সারওয়ার আলম বলেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মাদকের একটি, অস্ত্র রাখার ঘটনায় অস্ত্রের একটি এবং ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি মামলা হবে। সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে ওইসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে আনা হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর আলোচনার আসে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অনেকের ধারণা ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক সম্রাট। এছাড়াও সম্রাটের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান নেন সম্রাট। সেখানে অবস্থানকালে শতাধিক সমর্থক তাকে পাহারা দিয়ে রাখেন। এরপর সম্রাটের অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায় সম্রাট তাদের নজরদারিতে আছেন। এরই মাঝে গত ২২ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তলব করা হয় তার ব্যাংক হিসাবও।