সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী


307 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী
জুন ৩, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব। আওয়ামী লীগ সরকার তা প্রমাণ করেছে।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় ধরলা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’।

দেশের অবহেলিত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমি গিয়েছি। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায় গিয়েছি। সেখানকার মানুষের সমস্যার কথা শুনেছি। সরকারে আসার পর এসব মানুষের উন্নয়নে নানা উদ্যোগও নিয়েছি।’

ধরলা নদীর ওপর প্রথম সেতু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই হয়েছিল— একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার ধরলার দ্বিতীয় সেতুটি কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটের মানুষকে আমি ঈদ উপহার হিসেবে দিয়েছি। এটি আপনারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়। পরপর দুইবার ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়ন করেছি। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে যে উন্নয়ন সম্ভব, আওয়ামী লীগ সরকার তা প্রমাণ করেছে।’

দ্বিতীয় ধরলা সেতু

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। মা-বাবাসহ সব হারিয়েছি। আমার লক্ষ্য একটাই— এ দেশের উন্নয়ন করে যাওয়া। আমার বাবা আজীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, তিনি স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমি তার দেখানো পথে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি।’

সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে ধরলার পূর্ব পাড়ের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলাসহ গোটা জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেতুর পূর্ব পাড়ে আছিয়ার বাজার এলাকায় উদ্বোধনী ফলক স্থাপন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় প্রদর্শনসহ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সেতুটি চালু হওয়ায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হলো। এই সেতুর মাধ্যমে ওই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আবদুল আজিজ জানান, সারাদেশের সঙ্গে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী- এই তিন উপজেলাসহ সোনাহাট স্থলবন্দরের সড়কপথের দূরত্ব কমাতে ফুলবাড়ীর শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের রামপ্রসাদ ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট এলাকায় ধরলা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধরলা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এরপর এর নির্মাণ কাজ ২০১৪ সালে শুরু হয়ে গত বছর ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে।

এর আগে ৬৪৮ মিটার দৈর্ঘের প্রথম ধরলা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এটিরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।