‘সরকার স্কুলে জঙ্গিবাদ বিরোধী পরামর্শের উদ্যোগ নেবে’


333 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সরকার স্কুলে জঙ্গিবাদ বিরোধী পরামর্শের উদ্যোগ নেবে’
এপ্রিল ১৩, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথ পরিহারে অনুপ্রাণিত করতে কাউন্সেলিং (পরামর্শ) প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের সকল শ্রেণী-পেশার জনগণের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা বলেন, কাউন্সেলিং এর কাজটা যথার্থ ফলপ্রসূভাবে করার জন্য একটি প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউন্সেলিং এর জন্য আমরা হয়তো কিছু মানুষকে ট্রেনিং দিতে পারি, তারা কিভাবে এই কাউন্সেলিংটি করবেন। …এ ব্যাপারেও আমরা উদ্যোগ নেবো। শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়ে-যাতে কেউ বিপথে গেলে তাদের যেনো সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রতি স্কুলে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলর দেয়ার একটা প্রস্তাব এসেছে। প্রতি স্কুলে হয়তো মনোবিজ্ঞানী কাউন্সিলর দেয়া সম্ভব নয়। তবে, আমরা ইতোমধ্যেই একটি উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা জানেন, আমি সূচনা ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশনও করেছি এবং সেখানে যারা এ ধরনের বিপথে যাচ্ছে বা যারা অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধী রয়েছে সেখানে তাদের কিছু কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে। আর সে কাউন্সেলিংয়ের জন্য আমরা হয়তো কিছু মানুষকে ট্রেনিং দিতে পারি, তারা কিভাবে এই কাউন্সেলিংটা করবেন। শুধু কাউকে কাউন্সেলিং দিলে হবে না, অভিভাবক-শিক্ষক তাদেরও এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। তাদেরও জানতে হবে। শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেবো। যাতে কেউ বিপথে গেলে তাদের যেন সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়। এটি একটি ভালো প্রস্তাব কাজেই সব স্কুলে কাউন্সিলর দেয়া না গেলেও আমরা সকলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ ধরনের একটা উদ্যোগ নিতে পারি।

এ সময় গণভবন প্রান্তে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

বিভাগের ৪ হাজার ১৯টি পয়েণ্টে সম্প্রচারের আয়োজন সম্বলিত এই ভিডিও কনফারেন্সে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার একটাই কারণ, আমাদের সেটা হচ্ছে- একটা নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস। যে করেই হোক এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। এটা কখনো ইসলামের পথ না। ইসলাম জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস এবং নিরীহ মানুষ হত্যা করাকে কখনো সমর্থন করে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু লোকের অপকর্মের জন্য আমাদের শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম, ভাতৃত্বের ধর্ম ইসলামের বদনাম হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মটাকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। কাজেই আমি এটাই আপনাদের কাছে চাইবো, যে করেই হোক এর হাত থেকে আপনাদের ছেলেদের মুক্ত রাখতে হবে। আমাদের সমাজে বিশিষ্টজনেরা আছেন, শিক্ষকরা আছেন, মসজিদের ইমামরা আছেন, ওলামায়ে কেরাম আছেন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী এবং অভিভাবক সকলকে আমি অনুরোধ রাখবো যে, কাদের ছেলে-মেয়েরা এ ধরনের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, স্কুল-কলেজে কারা অনুপস্থিত রয়েছে- তার যেন খোঁজ-খবর নেন এবং কোনভাবেই এসব কোমলমতি যেন বিভ্রান্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি এগুলো পরিবারকে ধ্বংস করে, সমাজকে ধ্বংস করে, বাবা-মার জন্য একটা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষার প্রসারে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, আমরা বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি, বৃত্তি, উপবৃত্তি দিচ্ছি, স্কুল-কলেজগুলোর উন্নয়ন করে দিচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু ঘোষণা নয় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে দিচ্ছি। ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানে আমরা ডিজিটাল সেন্টার করে দিচ্ছি, ব্যাপকহারে কাজের সুযোগ আমরা করে দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে,এটা আমাদের নীতি। এটাই ধর্মনিরক্ষেক্ষতা।

এই সময় মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন এবং জাতির পিতার ইসলাম প্রসারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা আমাদের। প্রতিটা পরিবারই আমাদের আপনজন। প্রত্যেক পরিবার যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। কোন পরিবারে যদি একটা মাদকাসক্ত সন্তান থাকে তাহলে সেই পরিবারে দুঃখের সীমা থাকে না। কোন পরিবারের কোন ছেলে যদি সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত হয়ে যায়, সে পরিবারের জন্য সেটা সব থেকে দুঃখজনক হয়ে যায়। কাজেই ছেলে-পেলেদের এটা বোঝাতে হবে এবং সেভাবেই তাদের মানুষ করতে হবে। এর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। আর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে এটুকু চাইব-এই প্রকল্পের কাজগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে ব্যাপারেও সবাই যত্নবান হবেন এবং সে কাজগুলো করবেন সেটাই আমরা চাই।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এটা প্রতিরোধে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আজ যে গণসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আজকে যে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কথা বললেন, আপনাদের কাছ থেকে যে, তথ্য আমরা পেলাম তাতে আমি খুব আশাবাদী যে বাংলাদেশ একটা শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদেও কোন স্থান থাকবে না। মাদকের হাত থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। কাজেই সকলকে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

তিনি কলেন, আমাদের দেশটাকে আমরা- শিক্ষায়-দীক্ষায় সর্বতভাবে সাবলম্বী ও উন্নত করতে চাই এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটাও তাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে যে উদ্যোগগুলো আপনারা নিচ্ছেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন সেজন্য সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তৃণমূল পর্যায়ে থেকে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা যারা আছেন- তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এবং আরো ভূমিকা রাখবেন এবং সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সকলেরই সহযোগিতা কামনা করি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসুন এদেশটাকে আমরা গড়ে তুলি। আপনারা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেভাবে কাজ করে গেলেই আমরা ইনশাল্লাহ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দেশটাকে মুক্ত করতে পারব।