সরিষা ফুলের গন্ধে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ


529 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সরিষা ফুলের গন্ধে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ
জানুয়ারি ৭, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
জেলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ হলুদের সমারোহ হয়েছে। চোখ জুড়ানো হলুদে সমরোহ হচ্ছে সর্বত্র। জেলা কৃষি অফিস জানায়,
জেলায় সরিষার চাষ গত বছরের তুলনায় এক হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বেশি হয়েছে।

চলতি বছর সরিষার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ টন। খরচ কম হওয়ায় জেলার কৃষকরা সরিষার আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তা ছাড়া সরিষা চাষ ৮০ দিনে উৎপাদন হয় বলে এর লাভও বেশি হয়। কৃষকরা জানায়, ভালো দাম পেলে আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর সরিষার উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় ২ হজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে, তালা উপজেলায় ৩৯০ হেক্টর জমিতে, দেবহাটা উপজেলায় ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে, আশাশুনি উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে ও শ্যামনগর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সরিষা চাষী কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন। এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। গত বছর আবাদ করে তার খরচ হয়েছিল সাড়ে চার হাজার টাকা। এবার খরচ হয়েছে আট হাজার টাকা। যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় তা হলে সব খরচ বাদ দিয়ে তার ২৫ হাজার টাকা বেচাকেনা হবে বলে তিনি আশা করছেন।

দেবহাটার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি লিচ নিয়ে সরিষার আবাদ করেন। সেজন্য তার বিঘা প্রতি খরচ হয় তিন হাজার টাকা। এবার তিনি ছয় বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। এবার সরিষার ফলন বেশি হওয়ায় তিনি বেশি সরিষা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জেলায় এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে। তাছাড়া কৃষকরা কম খরচে অধিক লাভবান হয় সরিষা চাষে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।