‘সর্বস্তরে বাংলা, শুদ্ধ বানানে শুদ্ধ উচ্চারণে’


1113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সর্বস্তরে বাংলা, শুদ্ধ বানানে শুদ্ধ উচ্চারণে’
মে ১৬, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
‘বাংলা হচ্ছে বিশ্বের মধুরতম ভাষা’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে ২০১০ সালে। এই বাংলা সেই বাংলা যাকে মাতৃভাষা হিসাবে মর্যাদা দিতে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে এ দেশের ছেলেরা। এই সেই বাংলা যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আফ্রিকার সিয়র লিওন ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বাংলা ভাষার ব্যবহার রয়েছে। ‘একুশ থেকে একাত্তর’ দিয়েছে আমাদের ভাষা, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ , গণতন্ত্র, জাতীয় সংগ্রাম। অথচ আজ অবধি সর্বত্র বাংলার প্রচলন যেমন নিশ্চিত হয়নি , তেমনি বাংলার শুদ্ধ বানান ও শুদ্ধ উচ্চারণ আমরা করছি না। ফলে বাংলা ভাষা নানাভাবে ক্ষয়িত হতে চলেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার অনেক শব্দ , অনেক বর্ণ।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই তথ্য প্রকাশ করেন ছায়ানীড় নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন বাংলাকে তার উপযুক্ত মর্যাদা দিতে বাংলার নির্ভুল বানান ও নির্ভুল উচ্চারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার সঠিক প্রয়োগে শিক্ষকদের আন্তরিক হতে হবে। যারা প্রশাসনে রয়েছেন তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে সর্বত্র শুদ্ধ বাংলার প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ঃ শুদ্ধ বানানে শুদ্ধ উচ্চারণে’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. আবদুল হান্নান , অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট , উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার ছাড়াও প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী , বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জেলা প্রশাসনে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারি।
বাংলা ভাষায় ২৫০ টি যুক্ত বর্ণ রয়েছে জানিয়ে কর্মশালার প্রধান আলোচক ও সঞ্চালক মো. লুৎফর রহমান বলেন তা লিখতে আমরা প্রায়ই ভুল করছি। বানানের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন মন্ত্রী শব্দ কখন মন্ত্রিত্ব হয়, প্রজ্বলন এবং উজ্জ্বল বানানে কেনো পার্থক্য, রবীন্দ্র জয়ন্তী কেনো রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী নয়, বেড়ি কেনো বেড়ি বাঁধ নয়, কেনো হয় শুদ্ধ বানান ইস্টার্ন, মডার্ন, কর্নেল, রেস্তোরাঁ, সরস্বতী, শহিদ, ফলাফল নয় ফল, ফার্মেসি, স্টেশনারি, যক্ষ্মা, লক্ষ্মী, ব্রাম্মণ, গীতাঞ্জলি, অশ্র“জল নয় অশ্র“। এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন প্রতিটি শব্দের বানানে ও উচ্চারণে এক একটি যুক্তি রয়েছে। ইচ্ছা করলেই যে কোনোভাবে যে কোনো বানান লেখা যায় না। এসব বিষয়ে নত্ব বিধান ও ষত্ব বিধান মেনে চলা আবশ্যক। তিনি বাংলা বানানের ২৫ টি সহজ সূত্র তুলে ধরেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহনকারীদের কাছে ২১ টি শব্দ লিখিত একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এতে প্রথম স্থান অধিকার করেন জেলা প্রশাসনে কর্মরত আবু নাহিদ মো. শাহরিয়ার। অপর দিকে তিনজন শিক্ষক শুন্য পান। কর্মশালায় সাতক্ষীরার একটি দৈনিক পত্রিকা তুলে ধরে মো. লুৎফর রহমান বলেন তার নজরে ৫০ টি ভুল বানান এসেছে। এমন কি ‘শাবান’ মাস বানানটিও ওই পত্রিকায় লেখা হয়েছে ‘সাবান’। এটা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন এ ধরনের প্রতিটি ভুল আমাদের প্রজন্মকে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। তিনি বলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে বাংলাকে নোবেল কমিটির কাছে তুলে ধরেছিলেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলায় ভাষন দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনা অন্তরে ধারন করে বাংলাকে শুদ্ধভাবে এবং শুদ্ধ উচ্চারণে সর্বস্তরে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। কর্মশালায় মো. লুৎফর রহমান বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাকে আত্মস্থ করেছেন এদেশের দামাল ছেলেরা। এই বাংলার শক্তিই আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। এজন্য বাংলাকে সর্বস্তরে শুদ্ধ বানানে ও শুদ্ধ উচ্চারণে তুলে ধরতে সকলকে কাজ করতে হবে।
##