সহকারী পুলিশ সুপারের সাথে পাটকেলঘাটা হাটবাজার ব্যবস্থপনা কমিটির সভা


453 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সহকারী পুলিশ সুপারের সাথে  পাটকেলঘাটা হাটবাজার ব্যবস্থপনা কমিটির সভা
মার্চ ৩০, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মোঃ মাহাফুজুর রহমান মধু ::

পাটকেলঘাটা হাটবাজার ব্যবস্থপনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে সহকারী পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা গত কাল সন্ধা ৭টায় সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। হাটবাজার কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে মতবিনিময় করেন তালা পাটকেলঘাটা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আতিকুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মহিবুল ইসলাম,তদন্ত ওসি উজ্বল কুমার। হাটবাজার ব্যবস্থপনা কমিটির সাধারন সম্পাদক নিজামউদ্দীন ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ সাধু, আব্দুল লতিফ সরদার, তরিকুল ইসলাম, হাসান হোসেন বাবু, আবু হোসেন, তাপস কাশ্যপী প্রমুখ।
##

 

ইসলামকাটির একজন হতদরিদ্র জীবন সংগ্রামী মহিলা তাসলিমা বেগম

বাংলাদেশের ইউএনডিপি অর্থায়নে, বেসরকারী সংস্থার সুশিলনের সহযোগিতায় উৎপাদনশীল সম্বাবনাময় কর্মের সুযোগ গ্রহনে নারীর সামর্থ উন্নয়ন ‘স্বপ্ন প্রকল্পের মৌলিক সেবা প্রদানের লক্ষে’ নিয়ে হতদরিদ্র মহিলাদের নিয়ে কাজের সুযোগ সুষ্ঠি করে স্ববলম্বী করে গড়ে তোলার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

একজন হতদরিদ্র জীবন সংগ্রামী মহিলার নাম তাসলিমা বেগম (২৯) তালাকপ্রাপ্ত । ছেলেমেয়েদের মুখে দু’বেলা দুমুটো অন্ন তুলে দিতে দিনরাত বাড়ী বাড়ী যেয়ে ভিক্ষাবুত্তি করতো । ভিক্ষা করে ৪জন সংসার ভরপোষন করে আসছিল। জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে চাইলেও দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জারিত ।

তবে এভাবে আর কতদিন । মনের জোরেই সন্তানদের দিকে তাকিয়ে শুধু দু’বেলা দু-মুঠো অন্নের সন্ধানে ভিক্ষা করতে বের হয়। রোগব্যাধি বাসা বেধেছে শরীরে । সংসারে নেমে আসতে থাকে ভোর অন্ধকার । কুল হারা মাঝির মত জীবন। তবুও সংসাবের মোহ তাকে বাঁচালেও জীবন তরী ডুবু-ডুবু ।

এমনই সময় অর্থ্যাৎ ২০১৫ সালে আগষ্ট মাসে মাইকে বাঁজতে পায় তালা উপজেলায় ইসলামকাটি ইউনিয়নে স্বপ্ন প্রকল্পের ৩৬জন হতদরিদ্র মহিলা নিয়োগ করা হবে । শুনে হাসিনা বেগম নির্ধারিত স্থানে এসে লটারীর মাধ্যমে কাজটি মিলে যায় ।

নিদিষ্ট মেয়াদে রাস্তায় মাটি দিয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করে। প্রতিদিন ২’শ টাকা হিসেবে পেতে শুরু করে। সাতক্ষীরা জেলার ৫টি উপজেলায় কাজ শুরু করে। তাদের প্রকল্পের কাজ পেয়ে সদস্য হিসেবে কাজ শেষে নিজ নামে ব্যাংক থেকে মজুরির টাকা উত্তোলনের সময় সঞ্চায় হিসেবে ৫০ টাকা করে রেখে দিতো।

বর্তমানে তাসলিমা বেগম সংসার চালিয়ে সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ চালিয়েও তার ব্যাংক ২২ হাজার ১’শ ৫০ টাকা করে প্রত্যেকে এ্যাকাউন্টে রয়েছে।২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে প্রকল্পের প্রথম মেয়াদে শেষ হয়েছে। তাসলিমা বেগম পূর্বের অবস্থার ভিক্ষা করতো।

তার গ্রামের ইসলামকাটি ইউনিয়নে গোপালপুর বাড়ীতে ১০হাজার টাকা দিয়ে কসমেট্রিক্স দোকান চালু করে পাশাপাশি একটি গাভী ক্রয় করে । এখন বর্তমানে সেটা ৪০-৪৫ হাজার টাকা মালসামগ্রী রয়েছে। ঐ কসমেট্রিক্স দোকান থেকে প্রত্যেক দিনে ৩০০’শ / ৩৫০ টাকা উর্পাজন করে আসছে। বর্তমানে তাসলিমা বেগম সংসারে যে সু-বাতাস বইছে। সাবলম্ববী হয়ে উঠা তাসলিমা বেগম এই প্রতিবেদককে সাথে একান্ন আলাপচারিতায়, গোপালপুর গ্রামে তালাকপ্রাপ্ত তাসলিমা বেগম ৩ সন্তানের জননী । তিনি আরো জানান আমার স্বামী তালাক দিয়ে চলে গেলে আমি ৩ সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাযাপন করি। স্বপ্ন প্রকল্পের কাজ পেয়ে এখন অনেক সুখী সংসার নিয়ে সন্তান নিয়ে ভাল আছি । এই স্বপ্ন প্রকল্পের এসে বিভিন্ন প্রশিক্ষনে মাধ্যমে কর্মস্থানে সুযোগ সুষ্ঠি করে দিয়েছে। এমনি করে একই প্রকল্পের স্বাবলম্বী হয়েছেন অত্র ইউনিয়নে ঘোনা গ্রামে জুলেখা ,পরানপুর লিপিয়া,শাহিদা ভবানীপুর শিখা রানী, ইসলামকাটি গ্রামে অবমিকা রানী মতো আরো অনেকে।
##