সাংবাদিকতায় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেলেন এড.শহীদউল্যাহ


395 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাংবাদিকতায় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেলেন এড.শহীদউল্যাহ
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ ফটো গ্যালারি বিনোদন সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

শাহিদুর রহমান :
সাংবাদিকতায় কবিতা পরিষদ পুরস্কার পেলেন সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক এ্যাড: এ কে এম শহীদউল্যাহ।

আজ শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে পঞ্চাদশ কবিতা উৎসবে কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তাকে পুরস্কার দেয়া হয়। সাতক্ষীরা সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল প্রবীণ এই সাংবাদিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ সময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-ভাষা গবেষক অধ্যাপক কাজী মুহম্মদ অলিউল্লাহ, সাহিত্যিক গাজী আজিজুর রহমান, ভারতের কবি স্বরুপ মন্ডলসহ কবি, সাহিত্যিকবৃন্দ।

এড. এ কে এম শহীদউল্যাহ’র জীবনি

————————————————————————————————-

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারি এ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ । তিনি ১৯৩৭ সালের ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে একটি সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্ম গ্রহণ করেন। পিতা মৃত আব্দুছ ছোবহান সরদার, মাতা মৃত জেলেখা খাতুন।

১৯৬৭ সালে ‘ সাপ্তাহিক হলিডে ’ পত্রিকায় এ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ’র সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দি মর্নিং নিউজ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৭ সাল তিনি বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকায় যোগদান করেন। পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ‘ বাংলাদেশ টাইমস্ ’ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ৩১ বছর এ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ বাংলাদেশ বেতারের সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম” পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক।

তিনি ১৯৫২ সালে আশাশুনির হামিদ আলী হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রি কুলেশন পাশ করেন। ১৯৬০ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে বিএ পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ’ থেকে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশের পর ১৯৬৫ সালে সাতক্ষীরা বারে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি অদ্যবদি সাতক্ষীরা বারের একজন সদস্য ( বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য ) হিসাবে নিয়মিত প্রাকটিস করছেন।

ছাত্র জীবনে তিনি আশাশুনি হামিদ আলী হাইস্কুল থেকে `Good Conduct’ মেডেল পান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যায়নকালে `Nutrality’ বিষয়ের উপর রচনা প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল পান।

এ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আলহাজ্ব এ্যাড. এ কে এম শহীদউল্যাহ সাতক্ষীরার অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি টিআইবি, সনাক সাতক্ষীরা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক , বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা সাতক্ষীরা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং এলায়েন্স ’ফেমা’ সাতক্ষীরা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সুইড সাতক্ষীরার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে তিনি আজও কাজ করে যাচ্ছেন।

শুধু সাংবাদিক নয়, একজন মেধাবী আইনজীবী হিসেবে তার রয়েছে সুনাম,সুখ্যাতি। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র বেঁচে আছেন। সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

৮২ বছর বয়েসের এই মানুষটি এখনো নিয়মিত আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

#