সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি নভেম্বরেই হতে পারে


348 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি নভেম্বরেই হতে পারে
অক্টোবর ২৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
নভেম্বর মাসেই শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হতে পারে। আইনগত ও প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত রায় কার্যকরের সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

একাত্তরে চট্টগ্রামে গণহত্যা এবং ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে কুখ্যাত এ দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আরও দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া।
দুই যুদ্ধাপরাধীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে আগামী ২ নভেম্বর। শুনানি বিলম্বিত না হলে নভেম্বরের মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। বিলম্বিত হলে সেটা গড়াতে পারে ডিসেম্বর পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে বিজয় দিবসের আগেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর সেদিন রাতেই ফাঁসি হয়। কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে তার রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় ফাঁসি হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের
আপিলের চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর আগামী ২ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। শুনানি হবে কি-না এ বিষয়ে আদালত ওই দিন সিদ্ধান্ত দেবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সমকালকে বলেন, আশা করছি, রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব দণ্ড কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, দিনক্ষণ ঠিক করে আগাম কিছু বলা যাবে না। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে রায় কার্যকর হতে পারে_ এমন প্রত্যাশা করা যায়।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের আপিলের রায়ও পরিবর্তন হবে না। তাদের রিভিউ আবেদন খারিজ হলে রায়ের অনুলিপি কারাগারে পাঠানো হবে। এর পর থাকবে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। ইতিপূর্বে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। সাকা-মুজাহিদও রাষ্ট্রপতির কাছে সম্ভবত প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। দুই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে অথবা চাইলেও তা নাকচ করা হলে নভেম্বরের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম সমকালকে বলেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কোনো আসামির রিভিউ আদেশের ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারের আদেশ বাস্তবায়ন করতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে দেশে নাশকতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদেশি দুই নাগরিক হত্যা, গাবতলীতে এএসআই ইব্রাহীম হত্যা, পবিত্র আশুরার রাতে হোসেনী দালান এলাকায় গ্রেনেড হামলাসহ যেসব নাশকতামূলক কর্মকা ঘটছে, তা এই দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকরে বাধা সৃষ্টির জন্য। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই ওই দুই নেতার অনুসারীরা এ ধরনের কাজ করছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ মামলার বিচারের সময় মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর পক্ষে সব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। আর এগুলো যাচাই-বাছাই করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। এখন সাকা চৌধুরী রিভিউর পাশাপাশি নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। সে ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, এটা আদালতের বিচার্য বিষয়। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে রিভিউর সুযোগ খুবই কম। সাধারণত আদালতের কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে।

অন্যদিকে, দুই যুদ্ধাপরাধীর কেঁৗসুলি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ দুটি রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য আগামী ২ নভেম্বর আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় থাকবে। দেড় মাস সুপ্রিম কোর্ট অবকাশ থাকায় অনেক মামলা জমেছে। আদালত খোলার শুরুতেই এ দুটি মামলার শুনানি হলে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই ওই দিন প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হবে।