সাকা-মুজাহিদের রিভিউ আবেদন বুধবার


378 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাকা-মুজাহিদের রিভিউ আবেদন বুধবার
অক্টোবর ১৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
যুদ্ধাপরাধে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে বুধবার রিভিউ আবেদন করবেন জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার তাদের আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সর্বোচ্চ আদালতের সাজার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য আর দুই দিন সময় রয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামির হাতে।

গত ২৯ জুলাই সালাউদ্দিন কাদের এবং এর  আগে ১৬ জুন মুজাহিদের মামলায় আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করে। পৃথক দিনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের রায় এলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় একইদিনে, ৩০ সেপ্টেম্বর।

ওইদিনই তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল পরদিন দুই ফাঁসির আসামির দণ্ড কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর ১ অক্টোবর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে এবং কাশিমপুর কারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের দিন গণনা।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াতের আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের রায় অনুযায়ী, আপিলকারীর আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি পাওয়া বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রায় পড়ে শোনানোর মধ্যে যেটি আগে হয় সেদিন থেকে রিভিউ আবেদন করার জন্য ১৫ দিন শুরু হবে।

১ অক্টোবর রায় পড়ে শোনানোর দিন হিসেবে ১৫ দিনের সময় শেষ হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। এ হিসেবে ৬৭ বছর বয়সী মুজাহিদ ও কাশিমপুর কারাগারে অবস্থানরত ৬৬ বছর বয়সী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাতে দুইদিন সময় রয়েছে।

রিভিউ নিষ্পত্তির আগে তার দণ্ড কার্যকর করা যাবে না; আর রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করেন তার পাঁচ আইনজীবী শিশির মনির, মসিউল আলম, এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক, মতিউর রহমান আকন্দ ও আসাদ উদ্দিন।

পরে তার আইনজীবী শিশির মনির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বুধবার রিভিউ দায়ের করব। মুজাহিদ দুটি প্রশ্ন তুলছেন। একটি হচ্ছে ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ২৩ বছর, তিনি ছিলেন ছাত্র। একজন ছাত্র কীভাবে একটি আধা সামরিক বাহিনীর কমান্ডার হন? আলবদর, রাজাকার ও শান্তিবাহিনীর কোনো কমিটির তালিকায় মুজাহিদের নাম নেই বলেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

“তাহলে তিনি কীভাবে বদর বাহিনীর কমান্ডার হলেন? এছাড়া কে তাকে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, কীভাবে নিয়োগ হলেন, এ বিষয়ে কোনো দালিলিক বা মৌখিক সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেননি।”

এ বিষয়গুলো রিভিউ আবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান শিশির মনির।

তিনি বলেন, “মুজাহিদ আশা করেন, আপিল বিভাগ উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন এবং তার দণ্ড মওকুফ করে ওই অভিযোগ থেকে খালাস দেবেন।”

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল (বুধবার) রিভিউ আবেদন করার চেষ্টা করব।”

তবে তার আরেক আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান আলফেসানী বলেন, “১৫ অক্টোবর রিভিউর ১৫ দিন সময় শেষ হচ্ছে। আমরা বুধবার রিভিউ আবেদন করব।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইতোমধ্যে বলেছেন, আইন অনুযায়ী যেভাবে অগ্রসর হওয়ার কথা, তারা সেভাবেই অগ্রসর হবেন।

এর আগে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ৩ অক্টোবর মুজাহিদের সঙ্গে তার আইনজীবীরা এবং ৬ অক্টোবর সাকা চৌধুরীর সঙ্গে তার আইনজীবীরা দেখা করেছিলেন।

এরপর গত ৯ অক্টোবর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করেন তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও মেয়ে।