সাকিবের ৪০০


281 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাকিবের ৪০০
জানুয়ারি ২১, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
মুতুম্বামিকে আউট করে মাইলফলক ছুঁলেন সাকিব, অভিনন্দন জানাতে ছুটে এলেন নুরুল হাসান-ইমরুল কায়েসরা। গতকাল খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এএফপি
মুতুম্বামিকে আউট করে মাইলফলক ছুঁলেন সাকিব, অভিনন্দন জানাতে ছুটে এলেন নুরুল হাসান-ইমরুল কায়েসরা। গতকাল খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এএফপি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পরিসংখ্যান বিচারে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে ‘সর্বকালের সেরা’ ক্রিকেটার। ব্যাট-বলে সব্যসাচী সাকিব আল হাসান টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ওয়ানডেতে আর একটি উইকেট পেলেই উঠে যাবেন চূড়ায়। টি২০ ফরম্যাটেও সবার ওপরে। রেকর্ড রেকর্ড আর রেকর্ডের বৃষ্টিতে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের সবাইকে। গতকাল আরও এক উচ্চতায় উঠে গেলেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় টি২০ ম্যাচে উইকেট পেলেন তিনি ৩টি, যার প্রথমটি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক ছুঁলেন সাকিব। বলা বাহুল্য, তিন ফরম্যাটে মোট উইকেটের টালিতে সাকিবের পরে দ্বিতীয় যিনি তার উইকেটসংখ্যা সবে ৩১০!

২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারাতে ওয়ানডে অভিষেকের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সাকিব। প্রায় দশ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর পর বহু রেকর্ড তিনি নিজের করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কী ব্যাটে, কী বলে সাকিবহীন বাংলাদেশ দল যেন কল্পনাও করা যায় না!
গতকালই যেমন বল হাতে সেটার একটা বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক। দারুণ শুরুর পর জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যখন বাংলাদেশের প্রত্যেক বোলারকে বেধরক পেটাচ্ছেন, তখন রাশ টানতে সাকিব দেখালেন তার ক্যারিশমা। তিনি নিজেও প্রথম ওভার করতে গিয়ে ১৩ রান দিলেন; কিন্তু প্রত্যাঘাত যদি না-ই করতে পারেন, তাহলে তিনি সাকিব কেন!
দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই মিড উইকেটে সাবি্বরের ক্যাচ বানালেন ১৪ বলে ২০ রান করা রিচমন্ড মুতুম্বামিকে। ৪০০ উইকেটের মাইলফলক সৃষ্টি হলো তাতেই। বাংলাদেশের প্রথম কোনো বোলার এমন একটা চূড়া স্পর্শ করলেন। ব্যাপারটা গৌরবের তো বটেই!
এর পরও সাকিব থামেননি। পরের ওভারে আবারও উইকেট। সেই মিডউইকেট, সেই সাবি্বর। এবার সাকিবে ঘায়েল ৩৩ বলে ৪৪ রান করা ওপেনার ভুসি সিবান্দা। ১৮তম ওভারে নিজের চতুর্থ শেষ ওভার করতে এসেও উইকেট নিলেন সাকিব। মাত্র ২৩ বল খেলা ‘ভয়ঙ্কর’ ম্যালকল ওয়ালারকে ৪৯ রানে সৌম্যর ক্যাচ বানালেন তিনি। ওয়ালার তখন আউট না হলে জিম্বাবুয়ে নির্ঘাত হয়তো দুইশ’ করে ফেলত এদিন। সাকিবের কালকের পরিসংখ্যানটা এমন :৪-০-৩২-৩; এক কথায় চমৎকার!
চমৎকার তো আসলে তার পুরো ক্যারিয়ারের সংখ্যাগুলোই। বোলিং নিয়ে আলোচনা বলে সেখানেই থাকা যাক। টেস্টে ৩৩.৩১ গড়ে ১৪৭ উইকেট, দ্বিতীয়তে থাকা মোহাম্মদ রফিকের ১০০। ওয়ানডেতে ২৭.৮৯ গড়ে ২০৬ উইকেট। ২০৭ উইকেট নিয়ে তার আগে আবদুর রাজ্জাক, ২০৩ উইকেট নিয়ে তার পরে মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ যেদিন আবার ওয়ানডে খেলবে, সেদিনই হয়তো সাকিবের ‘নতুন রেকর্ড’টা হয়ে যাবে। গতকাল মাঠে নামার আগে ৪০ ম্যাচে সাকিবের ছিল ৪৬ উইকেট। দ্বিতীয় রাজ্জাক ৪৪ উইকেট নিয়ে কাছেই আছেন। কালকের ৩ উইকেটের বদৌলতে সাকিব ৪৯ উইকেট নিয়ে ফেললেন। রাজ্জাকের দলে ফেরার সম্ভাবনা এতটাই ক্ষীণ যে, সাকিবের ওই চূড়ার অবস্থানটা প্রায় নিশ্চিত।
ভালো কথা, বাংলাদেশের পক্ষে মোট আন্তর্জাতিক উইকেটে শিকারি হিসেবেও কিন্তু তাকে অন্তত আগামী ১০ বছরে কেউ সরাতে পারবে বলে মনে হয় না। ২৭.২৯ গড়ে ৪০২ উইকেট তার। দ্বিতীয়তে থাকা মাশরাফির উইকেট ৩১০। এর পর রাজ্জাকের ২৭৪। কোথায় থামবেন সাকিব?