সাগর লাইব্রেরি’র মালিককে মামলা দিয়ে হয়রাণীর অভিযোগ


360 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাগর লাইব্রেরি’র মালিককে মামলা দিয়ে হয়রাণীর অভিযোগ
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান ::
সাতক্ষীরায় বই সাগর লাইব্রেরির দোকান ঘরের মালিক আব্দুর রশিদকে মামলা দিয়ে হয়রাণী ও দোকান ঘরের তালা কেটে মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মো. আব্দুল হামিদ গাজী’র ছেলে মো. আব্দুর রশিদ গত ইং-১৩ মার্চ ২০১৪ তারিখ থেকে আগামী ১২ মার্চ ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদে দোকান ঘরটি ভাড়া নেয়। দোকান ঘরটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই দোকান মালিক খুলনার পাইকগাছা থানার মো. আবুল হাসানের ছেলে জি.এম শহিদুল ইসলাম ও তার শশুর (মামা) জি.এম সাইদার রহমান ভাড়াটিয়া দোকান মালিক আব্দুর রশিদকে নানাভাবে হয়রাণী করতে থাকে।
এক পর্যায় গত ৭ ফ্রেবুয়ারি দোকান ঘরের ভাড়াটিয়া মো. আব্দুর রশিদের নামে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত সদর থানাকে নালিশী অভিযোগটি এফ.আই.আর হিসেবে গন্য করত: পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১৩ ফ্রেবুয়ারি জি.এম শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. আব্দুর রশিদকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২ টার দিকে আব্দুর রশিদের দোকান বই সাগর লাইব্রেরি থেকে তাকে আটক করে সদর থানার এসআই এনামুল হক  ঐদিন আসামীকে কোর্টে প্রেরন না করে পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে কোর্টে প্রেরণ করেন। কোর্ট থেকে মো. আব্দুর রশিদকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে বই সাগর লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ জেল হাজতে থাকা অবস্থায় ভোর রাতে দোকান ঘরের তালা কেটে মালামাল লুট করার সময় আব্দুল আজিজ,  মিজানুর ও হায়দার রহমানকে হাতে নাতে আটক করে সদর থানা পুলিশ। এসময় জিএম শহিদুল ইসলাম ও জিএম সাইদার রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন পালিয়ে যায়। আটককৃত আসামীদের নামে মো. আব্দুর রশিদের ছোট ভাই মো. রেজাউল ইসলাম মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা রেকর্ড না করে পরে আসামীদের ছেড়ে দেয়। আব্দুর রশিদের ভাই রেজাউল ইসলামের এজহার সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর থানার পশ্চিম পাশে বই সাগর লাইব্রেরিতে ১৫-২০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন বই মজুত ছিল। গত ১৩ মার্চ ২০১৪ সাল থেকে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে তিনি ব্যবসা করিয়া আসিতেছেন এবং আদালতের আদেশে সোনালী ব্যাংক সাতক্ষীরায় শাখায় প্রতি মাসে শহিদুল ইসলামের নামে ৫হাজার ১শত ৫টাকা জমা প্রদান করিয়া আসিতেছে। উক্ত লাইব্রেরির ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে ১৪৬৮৮/১৬ নং একটি রিট পিটিশন মামলা এবং যুগ্ম জেলা জজ ১নং আদালত সাতক্ষীরায় দেং ১/১৬ নং মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে তারা দোকান ঘরের ৪টি তালা কেটে লাইব্রেরির ভিতর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার বই এবং নগদ ২লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ও আব্দুর রশিদের ১টি সোনার আংটি ও একটি গলার চেইন চুরি করে নিয়ে যায়। যুগ্ম জেলা জজ ১নং আদালত সাতক্ষীরায় দেং ১/১৬ নং মামলা চলাকালীন যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত সাতক্ষীরা জজকোর্টের এ্যাডভোকেট কমিশনার মো. মোস্তাহিদ উর রহমান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুর্বক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন রিপোর্টে দুই নং পাতায় বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা পৌরসভা হইতে প্রদত্ত ট্রেড লাইসেন্স দৃষ্টে রিটে তফসিল বর্ণিত দোকান ঘরের মালিক আব্দুর রশিদ হইতেছে এবং দোকান ঘরে একাধিক কর্মচারী রয়েছে। এ ব্যাপারে জেলার সকল পুস্তক ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।