সাজাপ্রাপ্ত নেতা দেশকে কী দিতে পারেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর


109 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাজাপ্রাপ্ত নেতা দেশকে কী দিতে পারেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
নভেম্বর ২৪, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির প্রধান নেতা খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দিয়েছেন। সে কারণে তিনি আজ সাজাপ্রাপ্ত। একজন সাজাপ্রাপ্ত নেতা দেশকে কী দিতে পারেন?

বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন করেছে। আমাদের সময় যশোরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো। যশোর থেকেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সর্বপ্রথম এখানে আইটি পার্ক হয়েছে।

আগামীতে দক্ষিণাঞ্চলে আরও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনেও আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। আপনারা সুযোগ দিলে আগামী দিনেও উন্নয়ন করবো। ওয়াদা দেন, আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করবেন।

তিনি বলেন, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতই সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

যশোর শহরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়াম সংস্কার করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই স্টেডিয়ামের অবস্থা খুবই খারাপ। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যালারিকে আমরা ১১ স্তরবিশিষ্ট অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম করে দেব। এজন্য যা যা দরকার আমাদের সরকার করবে। আমি আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা চাই। একইসঙ্গে আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আপনারা আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করবেন। আপনারা যা চাইবেন, আমি তার চেয়ে বেশি দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোরে জনসভা করতে পেরে আমি আনন্দিত। এই যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানের মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর ছিল তখন তিনি মারা যান। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ ছিল, এখানে আসা যায়নি। তাই আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে আইটি পার্ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যশোরের অভয়গরে ইপিজেড নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখানে বহু মানুষের কর্মস্থান হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। যুব সমাজের জন্য আমরা অনেক কিছু করেছি। শুধু চাকরি খুঁজলে হবে না। কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। সেখানে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়া যাবে। যুবকদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আর কেউই বেকার থাকবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

যশোরের খেজুর গুড়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোর একদিকে যেমন খেজুর গুড়ের দেশ, আবার ফুলে শোভিত। ফুল উৎপাদনেও যশোর এক নম্বরে আছে। আমরা কৃষকদের সবরকম সুযোগ করে দিয়েছি। ১০ টাকায় তারা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। দুই কোটি কৃষক সেই কার্ড পান। এক কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। কৃষকের টাকা তাদের হাতে সরাসরি চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে মাত্র ১৬ থেকে ২২ টাকায় সেই সার আমরা কৃষককে দিচ্ছি। কৃষি উপকরণের কোনো অসুবিধা যাতে না হয় তার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি আমরা।

রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, অনেকে রিজার্ভ নিয়ে নানা সমালোচনা করছে। আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। রেমিট্যান্স আসছে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। আমদানি-রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কর সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, নিজেরা অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে, বাংলাদেশ এখনও সেখানে যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। আজকে আমরা ধান উৎপাদনে সারা বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে, খাদ্য উৎপাদন আমরা করে যাচ্ছি। সবজি উৎপাদন করছি। এসব করছি দেশের মানুষের জন্য।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সামছুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ প্রমুখ।