সাতক্ষীরা পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ভয়েস অব সাতক্ষীরার সাথে সাক্ষাতকারে মেয়র প্রার্থী মিঠু খান


485 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ভয়েস অব সাতক্ষীরার সাথে সাক্ষাতকারে মেয়র প্রার্থী  মিঠু খান
অক্টোবর ২৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসিম ফারুক খান মিঠু পৌরসভার আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। পৌর নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই মেয়র প্রার্থী ভয়েস অব সাতক্ষীরা সাথে সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভা বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও মেয়র নির্বাচিত হলে তার করণীয় নিয়ে। এই ব্যবসায়ীদের নেতা বলেছেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক শহর গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এ জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভেদাভেদ ভুলে সকলকে এক সাথে নিয়ে উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।

সাতক্ষীরা জেলার সফল এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। কিন্তু এখানে প্রথম শ্রেণীর অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরো জানান, পৌরসভার অধিনে বিভিন্ন হাট ও বাজার আছে। সেগুলো সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। পৌরসভার ভিতর বড়বাজার, মিনি মার্কেটসহ কয়েকটি বাজার পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি নির্বাচিত হতে পারলে পৌরসভার নিজস্ব জমিতে মার্কেট করবেন। যাতে জনগণের উপর ট্যাক্সের টাকা কমে। অন্যদিকে মার্কেটগুলো ভাড়া দিয়ে পৌরসভার আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে। ফলে শহরের উন্নয়ন করা হবে।

ভোমরা স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মিঠু খান আরো বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মরদেহ সৎকার করার জন্য জেলা শহরে ইলেকট্রনিক শ্মশান নির্মাণ করা হবে।  তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দিনের বেলায় শহরে ট্রাক ঢুকে যানজট সৃষ্টি করছে। পৌর এলাকার ভিতর একটি ট্রাক টার্মিনাল করা হবে।

সাতক্ষীরার প্রাণ সায়েরের খাল শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত। শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য প্রাণ সায়ের খালকে সৌন্দর্য্য বদ্ধন করা হবে। শহরের প্রবেশ দ্বারগুলোতে পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ করা নেই। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভার সীমানায় নির্ধারক স্থাপন করা হবে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে বিকেন্দ্রীয়করণ করা হবে বলে দাবী করে বলেন, কাউন্সিলরদের অফিস হবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। মানুষের দৌঁর গোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সনদ নেওয়ার জন্য পৌরসভায় আসতে হবে না। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অফিসে গেলে সনদ পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় পর্যন্ত সুইপার নেই। ময়লা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই। ফলে অনেকে ময়লা আবর্জনা প্রাণ সায়ের খালে ফেলে দুষিত করছে।

তিনি আরো বলেন, শহরে পৌরসভার কোন অডিটরিয়াম নেই। তিনি নির্বাচিত হলে ১ হাজার অসন সংখ্যার অডিটরিয়াম নির্মাণ করার উদ্যোগ নিবেন। পৌরসভার ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার সাথে রাজনীতি করলে চলে না। এটা গরীব মানুষের প্রাপ্য। তিনি নির্বাচিত হলে এগুলো প্রকৃতদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বন্টন করে দিবেন।

চেম্বার অব কমার্সের দুইবার নির্বাচিত সভাপতি মিঠু খান বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বসার তেমন স্থান নেই। শিশু পার্কটি গাছ লাগিয়ে খেলাধুলার পরিবেশ বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। এগুলো ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি আরো বলেন, বর্ষায় শহরের একটা বড় অংশ জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। শহরের দুই পাশে ডায়ের বিল ও কামালনগর খাল সংস্কার করলে শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে। কাঙ্খিত মাত্রায় নির্মাণ হয়নি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি হলে শহরের অনেক অংশে তলিয়ে যায়। শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। জলাবন্ধতা সৃষ্টি হয়। তিনি নির্বাচিত হলে এ সমস্যা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান। আমি দীর্ঘ দিন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। তাদের সাথে নিয়ে চলেছি। তারা আমাকে মূল্যায়ন করবে।

মেয়র প্রার্থী মিঠু খান সাতক্ষীরা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের আজীবন সদস্য। তিনি জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। তিনি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে বেশ আগেই তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। সাতক্ষীরার একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। সব মহলের কাছে গ্রহযোগ্যতা পাওয়ার ব্যাপারে তার প্রচেষ্টার কোন কমতি নেই। তিনি মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। একটি মডেল আধুনিক পৌরসভা বিনির্মাণের জন্য দল-মত নির্বিশিষে সকলের সাহায্য, সহযোগিতা, সমর্থন ও সকলের দোয়া কামনা করেছেন এই তরুণ নেতা।