সাতক্ষীরার আতংঙ্ক ২৭ কি:মি: ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ


211 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার আতংঙ্ক ২৭ কি:মি: ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ
মে ৬, ২০১৯ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ শাহিদুর রহমান ॥

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৫৫৩ কি: মি: ভেড়িবাঁধের শতাধিক জায়গা মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। ঝুকিপূর্ণ এসব ভেড়িবাঁধ মুহুত্বে ধ্বসে বিস্তিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুপার সাইক্লোন ফণি এসব এলাকায় প্রবল বেগে আঘাত হানলে কোন ভাবেই ঝুকিপূর্ণ এসব ভেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হতো না, সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতো বলে মনে করেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। বিধায় ফণির মতো আর কোন দুর্যোগ আসার আগেই মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ এসব ভেড়িবাঁধ ৪ থেকে ৫ ফুট উচুঁকরণ, টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং অধিক ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয় বোর্ডের তথ্যমতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ৫৫৩ কি: মি: ভেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ কি:মি: ভেড়িবাঁধ অধিক ঝুকিপূর্ণ। ঘুর্ণিঝড় ফণির আঘাতে ১৫ কি:মি: ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুপার সাইক্লোন ফণির প্রভাবে শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা, পদ্মপুকুর ও মুন্সিগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। ফণির প্রভাবে কপোতাক্ষ নদীতে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে গাবুরা গ্রামে অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুসের বাড়ির সামনে ২ কিলোমিটারব্যাপী পাউবো বাঁধ নদীতে ভেসে গেছে। এছাড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখারী প্রায় ১ কি:মি: এলাকা যে কোন সময় ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তড়ি ঘড়ি করে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে। ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, ফণি যদি প্রবল বেগে আঘাত হানতো তাহলে এই এলাকার শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীর সাথে বিলীন হয়ে যেতো।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঝড়ের আঘাতে ইউনিয়নে ২৭ কিলোমিটার পাউবো বাঁধের অধিকাংশ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তন্মধ্যে পার্শ্বেমারী, টেকেরহাট, গাগড়ামারী, চাঁদনীমুখা, নাপিতখালী, হরিষখালী ও সোরা এলাকায় বাঁধের অবস্থা অতি ঝূঁকিপূর্ণ, সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ভাঙনের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. আতাউর রহমান জানান, ঝড়ের আঘাতে নদীতে প্রবল ঢেউয়ে ইউনিয়নের কামালকাটি হাবলী হতে স্লুইস গেট পর্যন্ত খোল পেটুয়া নদীতে ধ্বসে গেছে। এছাড়া খুঁটিকাটা হতে চাউলখোলা পর্যন্ত পাউবো বেড়িবাঁধ অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে যে কোন মুহুত্বে বাঁধ ধ্বসে বিস্তিন্ন এলাকা নদীর সাথে মিশে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, ফনির আঘাতে ইউনিয়নে বড় ভেটখালী মোস্তফা সরদারের বাড়ির সামনে ৫০০ ফুট এলাকাজুড়ে মীরগাং নদীতে ধ্বসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান নদীতে বিলিন হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
পাউবো-২- এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোথাও কোনও বেড়িবাঁধের অবস্থা খারাপ দেখলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলো মেরামত করছি। সাতক্ষীরার দুই ডিভিশনের আওতায় মোট ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাউবো-২-এর আওতায় ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিতে আছে। সেগুলো সার্বক্ষণিক পর্যাবেক্ষণে রেখেছি। এই বেড়িবাঁধকে স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বাজেট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, রোববার ত্রান ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামিম শ্যামনগরের ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বলেন, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় যে ২৭ কি:মি: ভেড়িবাঁধ আগামী বর্ষার আগেই সংস্কার করা হবে। এছাড়া শ্যামনগর ও আশাশনি উপজেলায় যে ৫৫৩ কি:মি: ভেড়িবাঁধ রয়েছে তা আরো উচুঁ করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া উপকূলবর্তী এলাকায় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মানের পরিকল্পনার কথা বলেন তারা।

#