সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খেজুরের রস সংগ্রহের পূর্ব প্রস্তুতিতে গাছিরা ব্যস্ত


2055 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খেজুরের রস সংগ্রহের পূর্ব প্রস্তুতিতে গাছিরা ব্যস্ত
নভেম্বর ৯, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান, আশাশুনি :
শীতের আগমনে শুরু হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ তোলা। গাছ তোলা-কাটার পূর্ব প্রস্তুতিতে গাছিরা এখন মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

দক্ষিণ জনপদের আশাশুনির উপজেলার গাছিরা কেউ বসে নেই। তারা বর্তমানে রস সংগ্রহের কাজে মহা ব্যস্ত রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের লক্ষ্যে গাছ তোলা-কাটাসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছ অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে তোলা-কাটা করতে হয়। কোমরে মোটা রসি বেধে গাছে ঝুলে গাছ তোলার কাজ করতে হয় গাছিদের।

কিছু দিনের মধ্যে গাছ থেকে রস পাওয়া যাবে। খেজুরের রস শীতের সকালে রৌদ্রে বসে খেতে বেশ মজা লাগে ও বিকাল বা সন্ধ্যায় রস খেতে আরো মজাদার। রস জ্বালিয়ে তৈরি করতে হয় পাটালী ও গুড়। বেশ লোভনীয় খেজুরের পাটালী ও গুড়।

খেজুরের গুড় বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি অঙ্গ। তাছাড়া ক’দিন পরেই পিঠা-পুলি তৈরীর ধূম পড়বে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে।

গাছিরা জানান, শীত আসা মাত্রই তাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি। খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেগে থাকতে হয়। গাছি কিংবা গাছের মালিক পক্ষরা প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বালিয়ে গুড় বানিয়ে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করে থাকেন। এতে যে আর্থিক সচ্ছলতা আসে তা নিয়ে চলে তাদের পুরো বছর।

শীত শেষে আবার তারা তাল গাছ কেটে তালের রস সংগ্রহে মেতে উঠবে। এখনো শীতকাল পুরোপুরি না আসলেও গাছিরা গাছ কাটার জন্য দা তৈরী, ঠুঙ্গি, দড়ি ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিচ্ছে। কেউ কেউ গাছ তোলা-চাছার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।